ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরামর্শ সভায় বক্তারা

প্রবীণরাই হতে পারেন জলবায়ু সহনশীলতার চালিকাশক্তি

প্রবীণরাই হতে পারেন জলবায়ু সহনশীলতার চালিকাশক্তি
×

ছবি- সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬ | ১৯:৩৪

দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন নারী, শিশু ও প্রবীণ জনগোষ্ঠী। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারী ও শিশুদের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া হলেও দেশের মোট জনসংখ্যার এক দশমাংশ বা এক কোটি ৮০ লাখেরও বেশি ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ নাগরিকেরা বরাবরের মত উপেক্ষিত বলে মত প্রকাশ করেছেন এ বিষয়ে পরামর্শ সভার আলোচক ও অতিথিরা। দুর্যোগঝুঁকি কমানো ও জলবায়ু সহনশীল সমাজ গঠনে সব কার্যক্রমে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণে তাগিদ দিয়ে বক্তারা বলেন, তাদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, সামাজিক নেতৃত্ব এবং অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে হবে।

বুধবার রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তন: প্রবীণ জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিমূলক দুর্যোগঝুঁকি হ্রাস ও জলবায়ু সহনশীল সমাজ গঠনে জাতীয় নীতিগত রূপরেখা’ বিষয়ক জাতীয় পরামর্শ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

ঢাকার মোহাম্মদপুরে ওয়াইডব্লিউসিএ মিলনায়তনে পরামর্শ সভায় রিকের নির্বাহী পরিচালক ও দুর্যোগ বিষয়ক নেটওয়ার্ক ‘নিরাপদ’ এর চেয়ারপার্সন আবুল হাসিব খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) শাহ মোহাম্মদ মাহবুব ও বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সাবেক চেয়ারপারসন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. হালিদা হানুম আখতার এবং প্যানেল আলোচক ছিলেন দুর্যোগ বিষয়ক নেটওয়ার্ক ‘ডিজাস্টার ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা গওহর নঈম ওয়ারা ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক এম এম মাহামুদুল্লাহ। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিকের ‘ইমপ্রুভড ইনকাম সিকিউরিটি থ্রু স্ট্রেনদেনদ্ ইন্টারজেনারেশনাল গ্রুপস ফর ওল্ডার পিপল ইন বাংলাদেশ (আইএসআইজিওপি) প্রকল্পের জাতীয় সমন্বয়কারী গবেষক তোফাজ্জল হোসেন মঞ্জু।

আইএসআইজিওপি প্রকল্পের সমন্বয়ক খন্দকার রিয়াজ হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় আলোচনা করেন ঢাকা আহসানিয়া মিশনের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর জাহাঙ্গীর আলম, ইউএনডিপির স্থানীয় সরকার ও জলবায়ু পাবলিক ফাইন্যান্স ম্যানেজমেন্ট (পিএফএম) বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষক তীর্থ শিকদার, উন্নয়ন সংস্থা ‘রুপান্তর’ এর প্রকল্প সমন্বয়কারী হাসান তারেক, ‘নিরাপদ’ এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাশেদুল হাসান, ড. নুরুল হুদা, আন্তঃপ্রজন্ম সংহতি ক্লাবের রাজধানীর খিলগাঁও শাখার সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আবেদীন, নরসিংদীর পলাশ শাখার সভাপতি বজলুর রশীদ ও শারমিন আক্তার, নরসিংদী সদর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েনা আক্তার এবং নবীণ প্রজন্মের প্রতিনিধি ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী লুৎফা আক্তার পাখি ও বৈশাখী। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান প্রবীণদের কল্যাণে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতায় জোর দিয়ে সরকারের নানা উদ্যোগ তুলে ধরেন। দুর্যোগঝুঁকি কমানো ও জলবায়ু সহনশীল সমাজ গঠনে আন্তঃপ্রজন্ম ক্লাবের ভূমিকা স্বীকার করে তিনি বলেন, এতে সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ অপরিহার্য। দুর্যোগ মোকাবিলা, জেন্ডার সংবেদনশীলতা ও জলবায়ু সহনশীলতাসহ প্রবীণদের সব ধরনের অধিকার রক্ষায় সমাজের সর্বক্ষেত্রে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং সর্বক্ষেত্রে তাদের সঙ্গ জনগণের সমন্বিত অংশগ্রহণ সব প্রবীণদের মূল স্রোতধারায় আনতে হবে।

সভায় জানানো হয়, ২০৫০ সালের মধ্যে দেশে প্রবীণের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি ২২/২৩ শতাংশ বা অন্তত সাড়ে চার কোটিতে পৌঁছাবে। তখনকার ক্রমবর্ধমান দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে টেকসই ব্যবস্থাপনা, প্রবীণবান্ধব আশ্রয়কেন্দ্রের পাশাপাশি তাদের সুরক্ষা উপযোগী বাড়িঘর নির্মাণ, প্রয়োজনীয় ওষুধ-পথ্য ও খাদ্যসহ প্রবীণ সংবেদনশীল ত্রাণ বিতরণেরও আহ্বান জানান বক্তারা। তারা বলেন, এখন থেকেই প্রবীণ কার্ড ও প্রবীণ স্বাস্থ্যবিমা চালুসহ তাদের সুরক্ষায় সার্বিক যত্ন নিতে হবে, আর্থিক ও সম্পদের নিরাপত্তা দিতে হবে। বিশেষত, প্রবীণ নারীদের প্রতি বেশি যত্নবান হতে এবং সামাজিক সুরক্ষা ভাতার পরিমাণ বাড়াতে হবে।

সভায় প্রস্তাবিত ঢাকা ঘোষণা, ২০২৬-এ সব দুর্যোগ নীতিতে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি, বয়সভিত্তিক তথ্য ব্যবস্থা, প্রবীণবান্ধব অবকাঠামো, আন্তঃপ্রজন্মীয় সহযোগিতা, গবেষণা ও উদ্ভাবন, কার্যকর অংশীদারিত্ব এবং প্রবীণসহ ‘কাউকে উপেক্ষা করে নয়’ নীতির বাস্তবায়নের অঙ্গীকার উঠে আসে।

রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রবীণদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে চিকিৎসা ভাতা ও ওষুধ-পথ্যের ব্যয় নির্বাহে আরো সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ঝুকিঁপূর্ণ এই জনগোষ্ঠীকে রক্ষায় নবীন-প্রবীণের আন্তঃপ্রজন্ম সংহতি গড়ে তোলার আহ্বানও জানান বক্তারা।

আরও পড়ুন

×