চাকরি বিধিমালা কার্যকরের দাবি
৬ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করলেন মেট্রোরেলের কর্মীরা
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬ | ২২:১৯ | আপডেট: ৩১ জুলাই ২০২৬ | ২৩:৫৩
স্বয়ংসম্পূর্ণ চাকরি বিধিমালা (সার্ভিস রুলস) কার্যকরের দাবিতে চলমান অবস্থান কর্মসূচি আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত করেছেন ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। যাত্রীসেবার স্বার্থ বিবেচনায় তারা সাময়িকভাবে কর্মসূচি স্থগিত করলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাকরি বিধিমালা কার্যকর না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
শুক্রবার রাজধানীর দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি থেকে এ ঘোষণা দেন ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে জানানো হয়।
এদিন সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত কর্মসূচি পালন করা হয়। এর আগে ২৮, ২৯ ও ৩০ জুলাই প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত একই দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। তবে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়।
মেট্রোরেল কর্মীদের অভিযোগ, ২০১৩ সালে ডিএমটিসিএল প্রতিষ্ঠার পর এক যুগ পার হলেও ৯০০-র বেশি নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য এখনো কোনো স্বতন্ত্র চাকরি বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়নি। অথচ ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর মেট্রোরেল চালুর পর থেকে তারা দিনরাত দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
চাকরি বিধিমালা না থাকায় চাকরির নিরাপত্তা, শৃঙ্খলাবিধি, পদোন্নতি, বদলি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অনিশ্চয়তা, বৈষম্য এবং অস্বচ্ছতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে এবং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।
ডিএমটিসিএল কর্মীরা বলছেন, ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ চাকরি বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। পরে কর্মচারীদের দাবির মুখে ডিএমটিসিএলের ৭৩তম বোর্ড সভায় সার্ভিস রুলস অনুমোদিত হলেও তা কার্যকর না করে অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতামতের জন্য পাঠানো হয়। অনুমোদনের সাত মাস পার হলেও এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
আন্দোলনরত কর্মীরা জানান, ৩০ জুলাইয়ের বোর্ড সভায় সার্ভিস রুলস কার্যকরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সভাটি স্থগিত হওয়ায় যাত্রীসেবার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তারা আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে এ সময়ের মধ্যে চাকরি বিধিমালা কার্যকর না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এর ফলে জনভোগান্তি সৃষ্টি হলে তার দায়ভার ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আন্দোলনরত কর্মীরা।