উত্তরখানে যুবক খুন
ইয়াবার পার্টিতে নিয়ে গুলি করা হয় মিরাজকে
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬ | ২১:১৪
রাজধানীর উত্তরখানের রহমাননগর এলাকায় মুরাদের বাসায় ইয়াবার পার্টিতে নিয়ে মিরাজ খানকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। হত্যায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনকে তিন দিনের রিমাণ্ডে নেওয়া হয়েছে। সোমবার রিমাণ্ড শুনানি শেষে আসামি সাইদুল ইসলাম ঝলক, আজগর ও মুরাদের স্ত্রী সুমিকে উত্তরখান থানায় নেওয়া হয়।
পুলিশ বলছে, তারা প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে মিরাজ এবং অভিযুক্তরা একে অপরের পরিচিত। শনিবার সারারাত ইয়াবা সেবনের পর পূর্বশত্রুতার জেরে মিরাজকে গুলি করে হত্যা করা হয়। মাদক কারবার সংক্রান্ত কোনো বিরোধ থাকতে পারে।
রোববার সকাল ১০টার দিকে খবর পেয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে মিরাজের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় সন্দেহভাজন হিসাবে সাইদুল ইসলাম ঝলক ও আজগরকে এবং পরে পলাতক মুরাদের স্ত্রী সুমিকে আটক করা হয়। হত্যার ঘটনায় নিহত মিরাজের পরিবার রোববার উত্তরখান থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার আদালতে হাজির করে রিমাণ্ড আবেদন করে পুলিশ।
পুলিশের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনার পর জানা গিয়েছিল ৬-৭ জনের একটি দল শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মিরাজকে দক্ষিণখানের আইনুছবাগ থেকে তুলে উত্তরখানের রহমাননগরে মুরাদের বাসায় নিয়ে হত্যা করে। কিন্তু পরবর্তীতে আইনুছবাগ এলাকা পরিদর্শন করে জানা যায়, ওই এলাকার সড়কে সবসময় জনসমাগম থাকে। মানুষের মধ্যে থেকে মিরাজকে তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটলে তার চিৎকার করার কথা। স্থানীয় লোকজন তুলে নিয়ে যাওয়ার কোনো খবর জানেন না।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ধারণা করা হচ্ছে-মিরাজ স্বেচ্ছায় হত্যায় জড়িতদের সঙ্গে মুরাদের বাসায় গিয়েছিলেন। মিরাজসহ ৯ জন ছিলেন সেখানে। অন্যদের মধ্যে অভিযুক্ত, মুরাদ, সাইদুল ইসলাম ঝলক, তাইজুল ইসলাম বাবু ও নাহিদের নাম পেয়েছে পুলিশ। মুরাদের একটি ঘরের সংস্কার কাজ চলছে। সেটি ফাঁকা থাকায় সবাই সেখানে সারারাত ইয়াবা সেবন করেন। সেসময় মুরাদের স্ত্রী পাশের ঘরে ছিলেন। রোববার ভোর ৬টার দিকে গুলি করা হয় মিরাজকে।
গ্রেপ্তার হওয়ায় সাইদুল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছেন, মিরাজকে গুলি করেছেন তাইজুল ইসলাম বাবু। এরপর বাবু ও নাহিদ মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়ে যান। পরে সাইদুল ও আজগর অটোরিকশায় করে গুলিবিদ্ধ মিরাজকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মিরাজের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপায়। তবে তিনি দক্ষিণখানের আইনুছবাগে থাকতেন। বছরখানেক আগে তার স্ত্রী গ্রামের বাড়ি চলে যান। এরপর থেকে তিনি একাই থাকতেন। মিরাজ একসময় মোবাইল যন্ত্রাংশের ব্যবসা করতেন। পরবর্তীতে তিনি নিজের মোটরসাইকেলের সামনে ‘প্রেস’ লেখা স্টিকার লাগিয়ে ঘুরতেন।
উত্তরখান থানার পরিদর্শক (তদন্ত ) রফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা সেবনের ফুয়েল পেপারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। হত্যা সংশ্লিষ্টতায় যাদের নাম জানা গেছে, তাদের নির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই। কারও কারও বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। মাদকের বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
- বিষয় :
- রাজধানী
- গুলি করে হত্যা