বিমানবন্দর এলাকায় কোটি টাকা ছিনতাই, জড়িত চক্র তিন দিনেও শনাক্ত হয়নি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ০২:৩৫
রাজধানী ঢাকার বিমানবন্দর একটি গুরুত্বপুর্ণ জনবহুল এলাকা। এখানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশাপাশি রয়েছে বিমানবন্দর নামে আন্ত:নগর রেলওয়ে স্টেশন। বিমানবন্দরে দিন–রাত ২৪ ঘন্টা উড্ডয়ন অবতরণ করে দেশী–বিদেশী বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট। আন্ত:নগর রুটে চলছে বিভিন্ন ট্রেন। গুরুত্বপুর্ণ জনবহুল এলাকা হওয়া কারণে এখানে সার্বক্ষনিক নজরদারি করছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি বিমানবন্দর থানা পুলিশ।
জানা যায়, এ অবস্থার মধ্যেও সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি সংবদ্ধ ছিনতাই চক্র। অভিযোগ উঠেছে, এই চক্রের শিকার খোদ দেশের প্রধানমন্ত্রীর এক আত্মীয়। পুলিশ জানায়, গত রোববার উত্তরায় অবস্থিত ডিএল পেট্রোল পাম্পের কর্মচারী ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা নিয়ে ব্যাংকে যাওয়ার পথে বিমানবন্দর সড়কের ক্রাউন প্লাজার সামনে জনবহুল এলাকায় সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্র ধারালো অস্ত্র দিয়ে ওই কর্মীক কুপিয়ে আহত করে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত তিন দিনেও সনাক্ত হয়নি ওই ছিনতাই চক্রের জড়িত কোন সদস্য। ফলে উদ্ধার হয়নি ছিনতাই হওয়া ওই টাকা। পুলিশ জানায়, পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার আব্দুল করিম রোববার রাতে অজ্ঞাত ৬-৭ জনের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, ছিনতাইকৃত টাকা ডিএল পেট্রোল পাম্পের।
মামলার তদন্ত সুত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খালাত ভাই তাসীন আক্তার হক। পুলিশ জানায়, ডিএল পেট্রোল পাম্পটির মালিক দেশের খোদ প্রধানমন্ত্রীর খালাত ভাই তাসীন আক্তার হক। তার মা প্রয়াত খুরশীদ জাহান হক সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় বোন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, গত রোববার সকালে পাম্পের সহকারী ম্যানেজার মোহাম্মদ আল আমিন, সিএনজি অপারেটর সেলিমুজ্জামান ও কভার্ডভ্যানের চালক খোরশেদসহ টাকাভর্তি একটি ব্যগ নিয়ে উত্তরা ১ নম্বর সেক্টরের পূবালী ব্যাংকে যাচ্ছিলেন। পথে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা ৬-৭ জন কভার্ডভ্যানের গতিরোধ করে। ঘটনার বর্ণনায় বলা হয়, গাড়ি আটকানোর পর পিস্তলের মুখে ও আল আমিনকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে তারা আব্দুল্লাহপুরের দিকে পালিয়ে যান। পরে সেলিমুজ্জামান, খোরশেদসহ আশেপাশের লোকজনের সহায়তায় আল আমিনকে কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ব্যপারে বিমানবন্দর থানার ওসি কামরুল হাসান তালুকদার সমকালকে গতকাল রাত ৯টায় পর্যন্ত জানান, ডিএল পেট্রোল পাম্পের ওই টাকা উদ্ধার করতে পারিন পুলিশ। সনাক্ত হয়নি ওই ছিনতাই চক্রের জড়িত কোন সদস্য। থানার ওসি কামরুল হাসান আরও বলেন, মামলা তদন্ত অব্যাহত আছে। রাজধানী ঢাকাসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অব্যাহত আছে পুলিশের অভিযান। আশা করছি, ডিএল পেট্রোল পাম্পের ওই টাকা উদ্ধার হবে। জানা যায়, রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় ছিনতাই, পকেটমারসহ বিভিন্ন চক্রের দৌরাত্ম্য কিছুতেই থামছে না। অবশ্য পুলিশও বলছে, এ চক্রের দৌরাত্ম্যর কথা। সম্প্রতি ১ দিনেই বিভিন্ন চক্রের ৮৬ জনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।