ঢামেক হাসপাতালে উত্তেজনা
চিকিৎসা না নিয়েই ফিরলেন রোগীরা
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:১২ | আপডেট: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ১০:১৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসক ও কর্মচারীদের পাল্টাপাল্টি অবস্থানকে কেন্দ্র করে গতকাল মঙ্গলবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামানের পদত্যাগের দাবিতে চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের একাংশ তাঁর কার্যালয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান করেন। অন্যদিকে, এক কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগের বিচার ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের একটি অংশ পরিচালকের কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান নেয়।
দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থান, স্লোগান ও উত্তেজনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে। পরিস্থিতির কারণে বহির্বিভাগে আসা অনেক রোগী চিকিৎসা না নিয়েই ফিরে যান। তবে জরুরি বিভাগ ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক ছিল।
গতকাল দুপুর ১২টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত এ পরিস্থিতি চলে। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলের হস্তক্ষেপে চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা পরিচালকের কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। পরে কর্মচারীরাও অবস্থান প্রত্যাহার করেন।
রোগীর ভোগান্তি
হাসপাতালের প্রশাসনিক এলাকায় চিকিৎসক-কর্মচারীদের অবস্থান ও স্লোগানে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন রোগী ও স্বজনরা। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা অনেকেই পরিস্থিতি দেখে ফিরে যান। কামরাঙ্গীরচর থেকে চিকিৎসা নিতে আসা ষাটোর্ধ্ব আব্বাস মিয়া বলেন, চিকিৎসা নিতে এসে দেখি চিকিৎসক-কর্মচারীদের মধ্যে উত্তেজনা। চারদিকে স্লোগান ও হইচই। কী হচ্ছে, বুঝতে পারছিলাম না। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসা না নিয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে।
নয়াবাজার থেকে নাক-কান-গলা বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা তাসলিমা বলেন, হাসপাতাল মানুষের চিকিৎসার জায়গা। সেখানে এমন পরিস্থিতি হলে সাধারণ রোগীদেরই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জরুরি বিভাগ ও ভর্তি রোগীদের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক ছিল।
পরিচালকের কক্ষে অবস্থান
প্রশাসনিক কর্মকর্তা রেজাউল ইসলামের বদলি এবং বদলি হয়ে আসা মোজাম্মেল হকের ঢামেকে যোগদান ঠেকানো নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। এ ঘটনায় পরিচালকের পদত্যাগ এবং মোজাম্মেল হককে যোগদানের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের একাংশ। তারা দুপুর ১২টার দিকে পরিচালকের কার্যালয়ে গিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় ‘দফা এক দাবি এক, পরিচালকের পদত্যাগ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া চিকিৎসক ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. সাইফুল আলম বাদশা বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবা দিতে পরিচালক বাধা দিয়েছিলেন।
কর্মচারীদের পাল্টা অবস্থান
চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা পরিচালকের কক্ষে অবস্থান নেওয়ার সময় বাইরে অবস্থান নেয় হাসপাতালের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের একটি অংশ। তাদের অভিযোগ, গত সোমবার তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী মো. হানিফকে মারধর করা হয়েছে। ঘটনার বিচার ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে তারা পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দিতে এসেছিলেন। তবে চিকিৎসকরা পরিচালকের কক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তারা স্মারকলিপি দিতে পারেননি।
ঢামেক হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সভাপতি মো. আজিম বলেন, ‘হানিফকে কেন মারধর করা হলো, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
- বিষয় :
- ঢামেক
- চিকিৎসা সেবা