ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মালিবাগে পকেটে ইয়াবা দিয়ে ব্যবসায়ীকে ফাঁসানোর অভিযোগ

মালিবাগে পকেটে ইয়াবা দিয়ে ব্যবসায়ীকে ফাঁসানোর অভিযোগ
×

ফরচুন শপিং মল। ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬ | ০০:৫১

রাজধানীর মালিবাগে পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে ব্যবসায়ীকে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে মালিবাগের ফরচুন শপিং কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।

সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, শপিং কমপ্লেক্সের দোকান ও ফ্ল্যাট সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন প্রধানিয়াকে টানাহেঁচড়া করছে কয়েকজন। এর একপর্যায়ে ইসমাইলের পকেটে একটি প্যাকেট ঢুকিয়ে দেন তারা। ঘটনার কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে এসে ইসমাইলের পকেট থেকে ৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধার দেখায় পুলিশ।

এ ঘটনায় ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন প্রধানিয়ার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দেয় পুলিশ। একটি ‘চাঁদাবাজি’র মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় ইসমাইলকে। পুলিশের দাবি, ইসমাইলের পকেটে কে মাদক দিয়েছে, সেটি তদন্তের বিষয়। তার কাছ থেকে মাদক পাওয়ায় আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

ইসমাইলের পরিবারের অভিযোগ, তাকে ফাঁসিয়ে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পরিকল্পিতভাবে পকেটে মাদক ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, ইসমাইল হোসেন তার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়েকে নিয়ে চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরছিলেন। মার্কেটের নিচে আসার পর মাস্ক পরা কয়েকজন লোক তাকে ধরে টানাহেঁচড়া শুরু করে। ইসমাইলকে ধরে রাখার পাশাপাশি একজনকে তার পকেটে একটি প্যাকেট ঢুকিয়ে দেয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার আদালতের নির্দেশে রমনা থানায় চাঁদাবাজি ও হুমকির অভিযোগে একটি মামলা হয়। একই মার্কেটের ফ্ল্যাট মালিক জাবেদ রায়হান মামলাটি করেন। এজাহারে বলা হয়, গত ২৪ জুলাই মার্কেটের সামনে প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া মাহফিল এবং পরবর্তীতে ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের অসুস্থতার জন্য দোয়ার আয়োজন করতে চাইলে মার্কেট ও ফ্ল্যাট মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। মামলায় ইসমাইল হোসেন ছাড়াও সমিতির আরও ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়।

এ বিষয়ে ইসমাইলের বড় ভাই খোরশেদ আলম বাবুল বলেন, ফরচুন শপিং মলে দুটি পক্ষ রয়েছে। একটি গোষ্ঠি দীর্ঘদিন ধরে জাল দলিল তৈরি করে প্লট ও ফ্ল্যাট বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। কমপ্লেক্সের অন্যরা একজোট হয়ে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তারা সমিতির প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে না পেরে ইসমাইলকে বিভিন্নভাবে হয়রানির চেষ্টা করছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দুলালসহ অন্যরা সরে গেলে মার্কেট নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে নতুন বিরোধ তৈরি হয়। এরপর একটি রাজনৈতিক দলের রমনা থানা এলাকার কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে মার্কেট দখলের অভিযোগ ওঠে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রমনা থানার ওসি ইয়াসিন মিয়া বলেন, ইসমাইলকে গ্রেপ্তারের সময় শরীর তল্লাশি করে প্যান্টের পকেট থেকে ৯০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় আইনগতভাবে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×