ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কালীগঞ্জে জমি দখল, চাঁদাবাজি ও মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

কালীগঞ্জে জমি দখল, চাঁদাবাজি ও মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬ | ২০:৪৮

গাজীপুরের কালীগঞ্জে জমি দখল, চাঁদাবাজি, হামলা, মাদক কারবার, মামলা দিয়ে হয়রানি এবং কৃষিজমি অবৈধভাবে বালু দিয়ে ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে প্রবাসী আলমগীর কবিরের ভাই ইকবাল আহমেদ, ভুক্তভোগী বায়েজিদ হাসান শিবলীর ভাই মুজাহিদুল ইসলাম এবং আলমগীর কবিরের ভাতিজা জাহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা বক্তব্য দেন।

মানববন্ধনে বক্তারা কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব খালেকুজ্জামান বাবলুকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ, জমি দখল, চাঁদা দাবি, হামলা, মাদক কারবার, মামলা দিয়ে হয়রানি এবং কৃষিজমি বালু দিয়ে ভরাটসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বাবলু ও তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের প্রভাব রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, খালেকুজ্জামান বাবলুর দুই ভাই আনিসুর রহমান রিপন ও সোহেল রাজনৈতিক পরিচয় ও স্থানীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে হাট, জমি, বালু ভরাট ও নির্মাণকাজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করছেন। তাঁদের সঙ্গে আরও কয়েকজনের ঘনিষ্ঠতার কথাও দাবি করেন বক্তারা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

প্রবাসীর জমি দখলের অভিযোগ
মানববন্ধনে দুবাইপ্রবাসী আলমগীর কবিরের প্রায় চার বিঘা জমি দখলের অভিযোগ তুলে প্রতিকার দাবি করা হয়। আলমগীরের ভাই ইকবাল আহমেদ ও পরিবারের সদস্যদের দাবি, জমির খারিজ হালনাগাদ এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করা হলেও আলমগীরের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে কয়েকজন তাঁর জমি দখলের চেষ্টা করছেন।

আলমগীরের অভিযোগ, খালেকুজ্জামান বাবলুর ভাই আনিসুর রহমান রিপন, সজল শেখ, মাহফুজ আহমেদ ও লতিফ মোল্লাসহ কয়েকজন তাঁর জমিতে গিয়ে দখল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা করার কথাও জানান তিনি।

আলমগীর বলেন, তাঁর জমিতে টিনের ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৪৬ শতাংশ জমির মাটি ভেকু দিয়ে কেটে নেওয়া হয়েছে। জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য বাঁশের খুঁটি পুঁতলেও রাতের বেলায় সেগুলো তুলে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁর ছেলে ফেরদৌস হাসান।

মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় হয়রানির অভিযোগ
মানববন্ধনে কালীগঞ্জের মোক্তারপুর ইউনিয়নের বড়গাঁও এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিদের হয়রানি ও মারধরের অভিযোগও করা হয়।

ভুক্তভোগী বায়েজিদ হাসান শিবলীর পরিবারের দাবি, গত ১৩ আগস্ট ১৯ বছর বয়সী বায়েজিদকে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে অপহরণ করে মারধর করা হয়। পরে তাঁর পকেটে ইয়াবা দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেন। বায়েজিদকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখারও দাবি জানান তাঁরা।

এ ছাড়া বক্তারপুর ইউনিয়নের স্থানীয় ইসলামী আন্দোলনের নেতা আকরাম হোসেন খান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগও তোলা হয় মানববন্ধনে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করলে বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করা হয়। এভাবে অর্ধশতাধিক মানুষকে হয়রানি করা হয়েছে বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন।

হাট ও নির্মাণকাজ নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ
মানববন্ধনে চুপাইর গরুর হাটকে কেন্দ্র করেও অভিযোগ তোলা হয়। স্থানীয়দের দাবি, হাটের ইজারা, আয়-ব্যয় এবং আশপাশের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে আনিসুর রহমান রিপনের প্রভাব রয়েছে। হাটসংলগ্ন বাজার, ঘাট, রাস্তার কাজে ব্যবহৃত ইট-বালু ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীর সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও করেন বক্তারা।

প্রবাসী আক্তার হোসেনের অভিযোগ, মিল-কারখানা, বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ঠিকাদারি কাজকে কেন্দ্র করে খালেকুজ্জামান বাবলুর পক্ষ থেকে বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়েছে। বিভিন্ন উন্নয়ন ও নির্মাণকাজে ঠিকাদার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও তাঁর প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

একই সঙ্গে বাবলুর দুই ভাই রিপন ও সোহেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকায় বালু ভরাটের কাজ নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষিজমিতে বালু ফেলার অভিযোগ করা হয়। বক্তারা বলেন, কৃষিজমিতে অবৈধভাবে বালু ভরাটের ফলে কৃষি ও পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

ছয় দফা দাবি
মানববন্ধন থেকে ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—দুবাইপ্রবাসী আলমগীর কবিরের প্রায় চার বিঘা জমিসহ দখল হওয়া জমি উদ্ধারে ব্যবস্থা নেওয়া, বায়েজিদ হাসান শিবলীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে তাঁকে হয়রানি ও ফাঁসানোর অভিযোগ তদন্ত, কৃষিজমিতে অবৈধ বালু ভরাট বন্ধ এবং এ বিষয়ে তদন্ত, মাদক কারবার ও মাদকবিরোধীদের হয়রানির অভিযোগ তদন্ত এবং খালেকুজ্জামান বাবলু ও অভিযোগে নাম আসা ব্যক্তিদের রাজনৈতিক প্রভাব ও পারস্পরিক সম্পর্ক নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা।

এ ছাড়া অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও জানান তাঁরা।

বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনায় না নিয়ে প্রতিটি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী ও অভিযোগকারীরা যাতে ভয়ভীতি বা হয়রানি ছাড়াই আইনের আশ্রয় নিতে পারেন, সে জন্য তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।

আরও পড়ুন

×