ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

সিমির মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন ও ন্যায়বিচার চান মা

সিমির মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন ও ন্যায়বিচার চান মা
×
×

ছবি- সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ | ২২:৪৮

১৩ বছর বয়সী মেয়ে সিমির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, মৃত্যুর আগে তার ওপর নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন তাঁর মা নুরুন্নার চাঁদনী। একই সঙ্গে মেয়ের মৃত্যুর আগে বনানী থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে পুলিশের অসহযোগিতা ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।

জাতীয় প্রেসক্লাবের আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরেন চাঁদনী। মেয়েকে হারানোর শোকের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সিমির সঙ্গে কী ঘটেছিল, মৃত্যুর আগে সে কোন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে এবং তার মৃত্যুর পেছনে কোনো অপরাধ বা অবহেলা ছিল কি না, তা তিনি জানতে চান।

চাঁদনী জানান, রাজধানীর মহাখালীর বাসায় তাঁর সঙ্গে থাকত সিমি। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে সাইদুর ও টুম্পা নামের এক দম্পতি তাঁদের দুই সন্তানসহ বাসাটিতে সাবলেট হিসেবে ওঠেন। ১ মে তাঁরা বাসা ছেড়ে চলে যান। পরে ওই দম্পতির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ তিনি জানতে পারেন।

চাঁদনীর ভাষ্য, গত ২০ মে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে স্কুলের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয় সিমি। দুপুরেও না ফেরায় এবং স্কুলেও কোনো তথ্য না পেয়ে, সন্ধ্যায় বনানী থানায় নিখোঁজের অভিযোগ জানান। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে বনানী থানার এক উপপরিদর্শক মেয়েকে তাঁর কাছে ফিরিয়ে দেন। তবে কোথা থেকে কীভাবে সিমিকে উদ্ধার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে তাকে কিছু জানানো হয়নি। সিমির মায়ের দাবি, পরবর্তী সময়ে মেয়ের সঙ্গে কথা বলে তিনি নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন, জোর করে মাদক সেবন করানো, ধর্ষণ এবং ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ জানতে পারেন।

গত ৮ জুলাই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে বনানী থানায় এসব বিষয়ে অভিযোগ জানাতে গেলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা তাঁকে পরদিন আসতে বলেন। এরপর দিনের পর দিন তাকে ঘোরানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে পুলিশ এ ধরনের অভিযোগ নিয়ে তাঁদের থানায় যাওয়ার কথা অস্বীকার করেছে বলে জানান চাঁদনী। তিনি বলেন, ১৫ জুলাই রাতে বাসায় ফিরে সিমির অস্বাভাবিক আচরণ নজরে আসে। একপর্যায়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয় সে। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা খুলে মেয়েকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরদিন বনানী থানায় গেলে তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা না নিয়ে অপমৃত্যুর মামলা করা হয় বলে দাবি করেন চাঁদনী। বর্তমানে ওই ঘটনার তদন্ত চলছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ফরেনসিক তথ্য, মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল আলামত পরীক্ষা করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। চাঁদনী বলেন, “আমি কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ প্রতিষ্ঠা করতে চাই না। আমি শুধু চাই, সত্য ঘটনা সামনে আসুক এবং কোনো ধরনের অবহেলা হয়ে থাকলে তারও জবাবদিহি নিশ্চিত হোক।”

আরও পড়ুন

×