ঢাকা রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সম্রাটের ক্যাশিয়ার খোরশেদকে খুঁজছে গোয়েন্দারা

সম্রাটের ক্যাশিয়ার খোরশেদকে খুঁজছে গোয়েন্দারা
×

ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের পাশে খোরশেদ আলম -সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০১৯ | ০৯:৪৪

এক সময় গুলিস্তান বঙ্গবাজারের সামনের ফুটপাতে ব্যবসা করতেন খোরশেদ আলম। নিয়ন্ত্রণ করতেন ফুটপাত। এতে চোখ পড়ে ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার চৌধুরী আলমের। সাহস আর দক্ষতার কারণে তিনি তাকে দায়িত্ব দেন মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া চক্রের ক্লাবে জুয়া পরিচালনার। এর পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি খোরশেদকে। সরকার বদল হলেও ধরে রেখেছেন নিজের অবস্থান। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর হয়ে যান 'ক্যাসিনো সম্রাট' হিসেবে পরিচিতি পাওয়া বহিস্কৃৃত যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের বডিগার্ড। বিশ্বস্ততা অর্জন করায় সম্রাট তাকে নিজের ক্যাশিয়ারও নিয়োগ করেন। কিন্তু চলমান অভিযানে নিজের 'বস' সম্রাট গ্রেপ্তার হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন সেই খোরশেদ আলম।

অবশ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, বিভিন্ন মামলায় সম্রাটকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে ক্যাশিয়ার খোরশেদের নাম বেরিয়ে আসে। তাকে আইনের আওতায় নিতে অনুসন্ধানও শুরু হয়েছে।

যুবলীগের সূত্রগুলো বলছে, খোরশেদ আলম সম্রাটের এতটাই বিশ্বস্ত হয়ে উঠেছিলেন যে, বডিগার্ড ও ক্যাশিয়ার ছাড়িয়ে এক সময়ে তিনি তার বন্ধু হয়ে ওঠেন। সম্রাটের অপকর্মের নীরব সহযোগী এই খোরশেদ। সম্রাটের অর্থ-বিত্তও পরিচালিত হতো তার মাধ্যমে। এভাবে গুলিস্তানের ফুটপাতের হকার থেকে খোরশেদ হয়েছেন কোটিপতি। যুবলীগে নিজের কোনো পদ না থাকলেও পরিচয় দিতেন সম্রাটের বন্ধু ও যুবলীগের নেতা। সংগঠনটির বিভিন্ন সভা-সেমিনারেও তাকে দেখা যেত সক্রিয়।

তদন্তসংশ্নিষ্ট ও দলীয় সূত্রগুলোর তথ্যানুযায়ী, সম্রাটের ক্যাসিনো ব্যবসা থেকে প্রতি মাসে বিপুল অংকের টাকা পেতেন খোরশেদ আলম। এক পর্যায়ে কাকরাইলে একটি বাসায় গোপনে ক্যাসিনোও গড়ে তুলেছিলেন। সম্রাটের কাকরাইলের অফিসেও বসত জুয়ার আসর। সেখানে অন্যতম খেলোয়াড় এই খোরশেদ। এ ছাড়া সম্রাটের নাম ভাঙিয়ে রাজধানীতে চাঁদাবাজিও করতেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুদ্ধি অভিযান শুরুর আগে ক্যাসিনো জগতের আশীর্বাদে ফুলে-ফেপে ওঠেন খোরশেদ। এক সময়ে দারিদ্র্য তাকে আঁকড়ে ধরলেও ক্যাসিনো আর চাঁদাবাজির টাকায় চড়তেন পাজেরো গাড়িতে, থাকত গানম্যানও।

সম্রাটের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, জুয়ার আসর চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল খোরশেদের। বিএনপি আমলে তৎকালীন ওয়ার্ড কাউন্সিলর চৌধুরী আলমের হয়ে গুলিস্তানে মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবে জুয়ার আসর চালাতেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতেই সম্রাটের হয়ে ঢাকার ক্লাবগুলোর ক্যাসিনোর দায়িত্ব পান খোরশেদ। সম্রাটের হয়ে মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবের ক্যাসিনো দেখভাল করতেন ওই খোরশেদ ও হোটেল বয় জাকির। এই ক্যাসিনোর টাকায় যুবলীগের অপর বহিস্কৃত নেতা এনামুল হক আরমানের সঙ্গে চলচ্চিত্র প্রযোজনাতেও নামেন তিনি। দু'জনে মিলে 'মনের মতো মানুষ পাইলাম না' নামে চলচ্চিত্র প্রযোজনাও করেন। এরই মধ্যে র‌্যাবের অভিযানে আরমান ও জাকির গ্রেফতার হলেও অধরা থেকে যান খোরশেদ।

সম্রাটের এক সময়ের ঘনিষ্ঠ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের একজন নেতা জানিয়েছেন, খোরশেদ সম্রাটের সঙ্গে নিয়মিত সিঙ্গাপুর যেতেন। সম্রাটের ছায়াসঙ্গী হিসেবেই থাকতেন। বেবী ক্লাব এবং রয়েল কিং নামে দুটি ক্লাবের মালিকও এই খোরশেদ, যে পরিচয় তার ফেসবুক আইডিতেও রয়েছে। সম্রাটের টাকা দিয়েই খোরশেদ নামে-বেনামে রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে দোকান, ফ্ল্যাট, কৃষিজমি এবং বিলাসবহুল গাড়ির মালিক হয়েছেন। কাকরাইলে ইস্টার্ন মার্কেট, পলওয়েল মার্কেট, সুন্দরবন মার্কেট, বঙ্গবাজারসহ গুলিস্তানের অধিকাংশ মার্কেটে তার নামে-বেনামে দোকান রয়েছে।

ওই নেতা জানান, সম্রাটের খুব ঘনিষ্ঠ হলেও খোরশেদ ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় তাদের অনেকেই অবাক হয়েছেন। বাইরে থেকে সম্রাটের মতো একজন চিহ্নিত অপরাধীকে মুক্ত করতে আন্দোলন চাঙ্গা করার পাঁয়তারাও করছেন খোরশেদ।

আরও পড়ুন

×