ভারত বহুজাতির কারাগারে পরিণত হবে: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী - ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১০:০৬ | আপডেট: ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১০:০৮
ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) এবং জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, ভারত কখনও এক জাতির নয়, বহুজাতির দেশ। এ সত্যটা চাপা দিয়ে এনআরসি ও সিএএ প্রণয়নের মাধ্যমে সংকট তৈরি করা হয়েছে। এই বহুত্ব স্বীকার না করে নিলে ভারত বহুজাতির কারাগারে পরিণত হবে। ভারতের মানুষ আজ এই কারাগারের বিরুদ্ধেই প্রতিবাদ করছেন।
মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে গণসংহতি আন্দোলন আয়োজিত 'ভারতে এনআরসি-সিএএ :দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব ও বাংলাদেশের করণীয়' শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ভারত অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যে আছে। সেদিক থেকে নজর ফেরানোর জন্যই দেশটির বর্তমান সরকার পরিচয়ের বিভাজনকে সামনে তুলে ধরায় বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
গোলটেবিলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, এক আসামের ১৯ লাখ নাগরিকত্বহীন মানুষকে ঠেলে দেওয়া হলে তা বাংলাদেশের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলবে। বাংলাদেশের এ নিয়ে মুখ খোলা দরকার।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, ভারতের এনআরসি ও সিএএ নিয়ে সাম্প্রদায়িক-ফ্যাসিবাদী এই বিপদ মোকাবিলার জন্য দক্ষিণ এশিয়ায় মানুষের মধ্যে সংহতি গড়ে ওঠা দরকার।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, এনআরসি ও সিএএ দিয়ে বিজেপি ভারতের শাসনতন্ত্রের বহুত্ববাদী গণতান্ত্রিক চেহারার ওপর চরম আক্রমণ চালিয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ভারতের এনআরসি ও সিএএ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে একটা স্পষ্ট বক্তব্য দিতে হবে। বিজেপি সরকার যে মুসলিমবিদ্বেষী বিভাজন সৃষ্টি করছে, তার ফাঁদে পা না দিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
গোলটেবিল আলোচনায় প্রারম্ভিক বক্তব্য উপস্থাপন করেন গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ফিরোজ আহমেদ। দলের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেলের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন শহীদুল আলম, অধ্যাপক সাইদ ফেরদৌস, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, অধ্যাপক তানজিম উদ্দীন খান, অধ্যাপক সায়েমা খাতুন, অরূপ রাহী, অমল আকাশ, হাসনাত কাইয়ূম প্রমুখ।
