ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

করোনাতেও সফল ‘কেরালা মডেল’

করোনাতেও সফল ‘কেরালা মডেল’
×

অনিন্দ্য আরিফ

অনিন্দ্য আরিফ

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২০ | ০৫:৪৬ | আপডেট: ০৪ মে ২০২০ | ০০:৪৬

করোনা ভাইরাসের কারণে পৃথিবীর অনেক পরাশক্তি যখন নাস্তানুবাদ, তখন ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের ছোট রাজ্য কেরালা এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। এই সেই কেরালা, যেখানে ১৯৫৭ সালে ই এম এস নাম্বুদিরিপাদের নেতৃত্বে প্রবল পরাক্রমশালী কংগ্রেসকে পরাভূত করে বামপন্থী সরকার গঠিত হয়। কেরালাতেই ১৯৫৯ সালে ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশ জারি করা হয়। আর ১৯৬৯ সালে ‘জমি যার লাঙ্গল তার’ নীতির ভিত্তিতে ভূমি সংস্কার আইন পাস হয়। এখন কেরালাতে শিক্ষার হার ভারতের মধ্যে সর্বোচ্চ, প্রায় ৯৪ থেকে ৯৫ শতাংশ। ভারতে যেখানে কৃষক আত্মহত্যার নজির রয়েছে, সেখানে কৃষিতে ব্যবস্থাপনায় সাফল্য দেখিয়ে ভারতে ক্ষুধার সমস্যা কম এমন রাজ্যের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান দখল করে আছে।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) কর্তৃক প্রকাশিত মানব উন্নয়ন সূচকের (এইচডিআই) স্কোরে কেরালা ভারতের সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে এইচডিআই প্রথম প্রকাশিত হওয়ার বছর ১৯৯০ সাল থেকেই এবং প্রথম থেকেই অনেক উন্নত দেশের চেয়ে কেরালার র‌্যাংকিং ছিল উঁচুতে। সর্বশেষ ২০১৮ সালে কেরালার এইচডিআই সূচক শূন্য দশমিক ৭৮৪, ভারতের এইচডিআই সূচক শূন্য দশমিক ৬৪। শিশুমৃত্যুর হার, মাতৃমৃত্যুর হার, জন্মহার, মৃত্যুহার, মোট প্রজননের হার, জনসংখ্যা প্রবৃদ্ধির হার, সব পর্যায়ে শিক্ষিতের হার, মৌলিক স্বাস্থ্যসেবায় অভিগম্যতা, ভর্তুকি দামে খাদ্য-রেশন ও ফিডিং ব্যবস্থা, চিকিৎসক-জনসংখ্যা অনুপাত— এ ধরনের তাবৎ সামাজিক সূচকেও কেরালা অনেক উন্নত দেশকে ছাড়িয়ে গেছে।

কেরালার জনগণ প্রায় শতভাগ শিক্ষিত ও রাজনৈতিকভাবে প্রবল সচেতন, তারা সংগঠিত হয়ে রাজনীতিবিদ ও আমলাদের সার্বক্ষণিক সজাগ ভূমিকা পালনে বাধ্য করে চলেছে। নির্বাচনে মাঝেমধ্যে বামপন্থীরা হেরে গেলেও জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ ও সার্বক্ষণিক মনিটরিং কয়েকবার নির্বাচনে জয়ী কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ সরকারগুলোকেও সংস্কার কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে বাধ্য করেছে। আরও চমকপ্রদ হলো, মধ্যপ্রাচ্যে উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ মানবপুঁজি রপ্তানির ক্ষেত্রে কেরালা ভারতে চ্যাম্পিয়ন। কেরালার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে প্রবাসীদের ক্রমবর্ধমান রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের ‘স্বাধীনতাই হলো উন্নয়ন’ (ডেভেলপমেন্ট অ্যাজ ফ্রিডম) তত্ত্বের ক্ল্যাসিক নজির কেরালা। এই কেরালাই কোভিড-১৯ প্রতিরোধে পিনারাই বিজয়নের বামপন্থী সরকারের নেতৃত্বে যে সাফল্য দেখিয়েছে, তা সারা বিশ্বের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে। আলোচিত হচ্ছে উন্নয়নের ‘কেরালা মডেলে’র ক্যারিশমা।

করোনাতেও অনুসরণীয়

করোনাভাইরাস সংকট থেকে একটি সমাজ কীভাবে উত্তীর্ণ হতে পারে, তার যে কয়টি দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে, তার মধ্যে কেরালা অন্যতম। কেরালা এর আগে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণ এবং দুই বছর আগের বন্যার সময়ে যে সাফল্য দেখিয়েছিল, তাতে প্রমাণিত হয়েছে শক্তিশালী জনস্বাস্থ্য সেবা থাকলে প্রয়োজনে তা কী ধরনের ভেল্কি দেখাতে পারে। ভারতে করোনা সামলাতে যেখানে ক্ষমতাসীন চরম দক্ষিণপন্থী সাম্প্রদায়িক শক্তি ভারতীয় জনতা পার্টি হিমসিম খেয়ে যাচ্ছে, সে তুলনায় কেরালার সাফল্য পর্বতসম। রাজ্যটিতে করোনা সংক্রমণের খবর আসার আগেই ৪টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কঠোর নজরদারি আরোপ করা হয় এবং যাত্রীদের স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। পর্যাপ্ত আইসোলেশন এবং সন্দেহজনক ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। নয়টি দেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের বাধ্যতামূলকভাবে কোয়ারেন্টাইনে যেতে হয়। ভারতের অন্যান্য রাজ্যে এ ব্যবস্থা চালু হয় কেরালার দুই সপ্তাহ পরে।

কেরালা থেকে অনেক শিক্ষার্থী চীনে পড়াশোনা করতে যায়। তাদের মধ্যে উহান থেকে ফেরত আসা তিনজন মেডিক্যাল শিক্ষার্থীর যখন করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ রেজাল্ট আসল তখন তারা প্রতিরোধের ব্যাপারে কঠোর পন্থা অবলম্বন করল। তারা ভারতের অন্য রাজ্যগুলো থেকে অগ্রসর পদক্ষেপ নিল। দ্বিতীয়বার ভাইরাস যখন মানবদেহে শনাক্ত হলো তখন তারা অত্যন্ত সজাগ অবস্থায় ছিল। ইতিমধ্যে কন্ট্রোল রুম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তারা সন্দেহভাজনদের ওপর যেমন কড়া নজরদারি সৃষ্টি করতে পারল, তেমনি সাধারণ জণগণের ওপর তদারকি তৈরি করতে পারল। তারা ২৬ জানুয়ারি থেকে সমন্বয় কমিটি গঠন করেছিল। বহু দেশের আগে তৈরি এই সমন্বয় কমিটি আমলাতান্ত্রিকতার সাহায্য নেয়নি। তারা ‘সামাজিক দূরত্ব’ বজায় রাখার বদলে ব্যবহার করল, ‘শারীরিক দুরত্ব, কিন্তু সামাজিক সংহতি’। চিকিৎসকদের এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে তৈরি করা হলো। শুধু করোনার জন্য ২৮ টি বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং ১ লাখ ২৫ হাজার রুম আইসোলেশন ওয়ার্ড হিসাবে ব্যবহার করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। ফলাফলস্বরূপ, গত ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত সেখানে ৪৫০ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং মারা গেছে মাত্র ৪ জন।

এমনও নয় যে, কেরালায় করোনা পরীক্ষা কম হচ্ছে বিধায় কম রোগী শনাক্ত হচ্ছে। পুরো রাজ্যে ১২টি স্থানে প্রতিদিন নমুনা শনাক্তের মাধ্যমে পরীক্ষা চলছে। প্রতিটি কেন্দ্রে দিনে প্রায় ৮০০ জনের নমুনা নেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেরালায় এমন পরিস্থিতির মূলে রয়েছে কার্যকরী চিকিৎসাসেবা এবং তাদের দীর্ঘ দিনের বিশ্বস্ত তৃণমূলের রাজনীতি ব্যক্তিত্বরা। বিশেষত গ্রামাঞ্চলের কাউন্সিলরদের সেবামূলক মনোভাব। আর এটা সম্ভব হচ্ছে রাজ্যে একটি বামপন্থী সরকার ক্ষমতায় থাকার কারণে।

করোনার কারণে যাতে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি না হয়, সেজন্য রাজ্যের ১৪টি জেলায় ১৪০ জন মনোবিদকে কাউন্সিলিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে এই আশঙ্কায় কেরালার জনগণ অধিকহারে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার কেনা শুরু করে। তখন করোনা প্রতিরোধী এই সব সামগ্রীর সংকটের একটা আশঙ্কা তৈরি হয়। কেরালার সরকার বিষয়টি লক্ষ্য করে এই সামগ্রীগুলোর উৎপাদন শুরু করে। কেরালা রাজ্যে সরকারের ড্রাগস অ্যান্ড ফারমাসিউটিক্যালস লিমিটেড জনগণের জন্য পর্যাপ্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্রস্তুত করে। এছাড়া কেরালার স্যোশাল জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট রাজ্যের কারাগার কর্তৃপক্ষকে কারবন্দীদের দিয়ে মাস্ক তৈরির একটা পরিকল্পনা প্রদান করে। সেটা অনুযায়ী, দুইদিনের ব্যবধানে কারাবন্দীরা প্রায় ৬,০০০ মাস্ক তৈরি করে। এই সব সামগ্রী যাতে নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি হয় সেজন্য কেরালা সরকারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।

জনগণই সর্বাগ্রে যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি করোনা প্রতিরোধের ব্যাপারে বাগাড়ম্বরপূর্ণ বক্তৃতা দিয়ে যাচ্ছেন, তখন কেরালার মূখ্যমন্ত্রী পিনিরাই বিজয়ন ২০ হাজার কোটি রুপির ত্রাণ প্যাকেজ রাজ্যের জন্য ঘোষণা করেন। রাজ্য সরকার এপ্রিল মাসের ১ হাজার ৩২০ শত কোটি রুপির স্যোশাল সিকিউরিটি পেনশন মার্চ মাসের শেষেই প্রদান করে দেয়। অভাবী পরিবারগুলোর জন্য ২ হাজার কোটি রুপির বরাদ্দ দেওয়া হয় এবং তা যেন সত্যিকার অর্থে তাদের হাতে পৌঁছায়, তাও নিশ্চিত করা হয়। লকডাউনের সময়ে যাতে জনগণ বিনা মূল্যের রেশন পায় তার বন্দোবস্ত করা হয়। কেবলমাত্র ২০ রুপি খাদ্যমূল্যের হোটেল খোলা হয়েছে। ১ হাজারের বেশি কমিউনিটি কিচেন রাজ্যজুড়ে খোলা হয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যারা লকডাউনের জন্য খাদ্য সংগ্রহ করতে পারছে না, তাদের খাদ্য রাজ্য সরকার ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে। এর মধ্যে কেরালার ওয়েন্ডাড জেলা প্রশাসন একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে। তারা ‘একটি বই দান’ কর্মসূচির মাধ্যমে যারা হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে, তাদের জন্য বই পৌঁছে দিয়েছে।

অভিবাসী শ্রমিকরাও বাদ পড়ছে না

ভারতে লকডাউনের মধ্যে কেরালা অভিবাসী শ্রমিকদের জন্যও যে দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে, তা অন্য রাজ্যগুলোর গ্রহণ করা উচিত। তারা তাদেরকে ‘অতিথি’ বলে বরণ করছে এবং সারা রাজ্যজুড়ে প্রায় ১ লাখ অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য ৪ হাজার ৬০৩টি রিলিফ ক্যাম্প খোলা হয়েছে। এটা করা হয়েছে যখন সংবাদমাধ্যমের কল্যাণে আমরা জানতে পারছি যে ভারতের অন্য রাজ্যগুলোর অভিবাসী শ্রমিকরা শত শত মাইল পায়ে হেঁটে ঘরে ফিরছে। উল্লেখ্য, সারা ভারতজুড়ে এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে প্রচুর শ্রমিক কাজের উদ্দেশ্যে যায়।

জনস্বাস্থ্যসেবার ভূমিকা

কেরালা কেন স্বাস্থ্যসেবায় ভারতের অন্য রাজ্য থেকে আলাদা তা নিচের কিছু তথ্য থেকে স্পষ্ট হয়। কেরালায় যেখানে প্রতি ৩.৯৫ কিলোমিটারের মধ্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রয়েছে, সেখানে জাতীয় গড় এ রাজ্যের প্রায় দ্বিগুণ-৭.৩ কিলোমিটার। কেরালা যেখানে একাই দেশের ৩০ শতাংশ করোনা শনাক্তের পরীক্ষা করতে পেরেছে, সেখানে গত ২৪ মার্চ পর্যন্ত তথাকথিত উন্নয়নের মডেল গুজরাটে প্রতি লাখে করোনা শনাক্তের পরীক্ষা হচ্ছে ০.০৬ হারে। আর মহারাষ্ট্রে এ হার ১.৩৭। করোনাকালে রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য কাঠামো তৈরির জন্য ৫ শত কোটি রুপি বরাদ্দ দিয়েছে।

একজন অনন্যসাধারণ স্বাস্থ্যমন্ত্রী

যদিও কেরালার বামপন্থী সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পিনিরাই বিজয়ন, তবুও আলাদাভাবে তার একজন কমরেড ইন আর্মস স্বাস্থ্যমন্ত্রী শৈলজা কেকে-এর কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করতে হয়। ২০০৬ সাল থেকে বিধায়ক শৈলজা। কিন্তু ২০১৬ সালে তাকে মন্ত্রিসভায় নিয়েই স্বাস্থ্যদফতরের দায়িত্ব দিয়ে দেন পিনারাই বিজয়ন। অনেকে বলেন, এমনি এমনি শৈলজাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। ২০০৬ সালে শৈলজা ছিলেন বাম যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআইয়ের নেত্রী। সেই সময়ে কেরলের চারটি জেলায় চিকুনগুনিয়া ব্যাপক আকার নিয়েছিল। তখন নাকি শৈলজার ভূমিকা ছিল কিংবদন্তীর মতো। সরকারের পাশাপাশি গোটা সংগঠনকে নামিয়ে দিয়েছিলেন জেলায় জেলায়। দিনরাত এক করে ছুটে বেরিয়েছিলেন। একসময়ের রসায়নের শিক্ষক শৈলজা রাজ্যে পরিচিত ‘টিচার আম্মা’ হিসাবে। নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের সময় সাফল্য দেখানো এই মন্ত্রী তার আধিকারিকদের করোনা ভাইরাসের সময় বলেছেন-‘ভোট বড় কথা নয়। আজ মন্ত্রী আছি কাল নাও থাকতে পারি। কিন্তু স্বচ্ছ থাকুন।  কোনো তথ্য লুকোবেন না। তাতে সমস্যা কমবে না। বরং জটিল হতে পারে।‘

শেষকথা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৯ সালে সকল সিনেট সদস্য, কংগ্রেসম্যান, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এবং তার ক্যাবিনেট সদস্যদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে বলেছেন,‘সমাজতন্ত্র গ্রহণের নতুন আহ্বানের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকা উচিত। আমেরিকা মুক্তি এবং স্বাধীনতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং এখানকার সরকার বলপ্রয়োগ, আধিপত্য এবং নিয়ন্ত্রণে বিশ্বাসী নয়। আমরা জন্মগতভাবে স্বাধীন এবং স্বাধীনভাবেই বাস করব।’ সমাজতন্ত্রের ভুত যে আমেরিকাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে, তা ট্রাম্প ভালোভাবেই অনুধাবন করতে পারছেন। এটা সেই ট্রাম্প যার বিরুদ্ধে ৮ শত কোটি ডলারের কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ এনেছিলেন বার্নি স্যান্ডার্স। আসলে ট্রাম্প যে স্বাধীনতার কথা বলছেন তা তার মতো করের টাকা ফাঁকি দেওয়া বিলিওনিয়ারদের স্বাধীনতা। পাশাপাশি, তার দেশের জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি কত উপেক্ষিত এবং রাষ্ট্রীয় বণ্টন ব্যবস্থা কত দুর্বল তা কোভিড-১৯ সংক্রমণের সময় টের পাওয়া গেল। মুক্তবাজার প্রমাণ করেছে যে মুনাফার কাছে মানবিকতা কীভাবে পদদলিত হয়।

পক্ষান্তরে, এ করোনকালে দেখা গেছে পুঁজিবাদের তুলনায় সমাজতন্ত্রে বা জনমুখী সরকারের কাছে ব্যক্তির নিরাপত্তা কতটা অগ্রাধিকার পায়। চীন, কিউবা, ভিয়েতনাম আর কেরালা তার জ্বলন্ত উদাহরণ। পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে লড়াই করে কেরালা শেখাচ্ছে যে একমাত্র বামপন্থাই বিকল্প। আর সে বিকল্প তারা হাজির করে আওয়াজ দিচ্ছে যে আগামী পৃথিবী প্রকৃতঅর্থে পুঁজির দাসত্ব থেকে মুক্তি চায়।

লেখক: সাংবাদিক

আরও পড়ুন

×