ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

কভিড-১৯ মোকাবিলায় সুইডেনের ব্যর্থতা

কভিড-১৯ মোকাবিলায় সুইডেনের ব্যর্থতা
×

রহমান মৃধা

প্রকাশ: ২৭ মে ২০২০ | ০২:৫৭ | আপডেট: ২৭ মে ২০২০ | ০৫:০৫

ছোটবেলায় গল্প শুনেছি চোর পালালে মাথায় বুদ্ধি আসে। কথাটি নিয়ে ভেবেছি। ভয় বা আতঙ্কে আমরা বাকশক্তি হারাতে পারি। আমাদের নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে, এমনকি আমরা জ্ঞান পর্যন্ত হারাতে পারি। এমন একটি পরিস্থিতিতে আমাদের ভারসাম্য না থাকার কারণে বিবেক বুদ্ধি লোপ পায়। একারণে ক্ষণিকের জন্য বুদ্ধি কাজ করেনা। অন্ধকার ঘরে চোর ঢুকেছে ভয়ে বুদ্ধি লোপ পায়, পরে চোর চুরি করে সব নিয়ে যাবার পর বুদ্ধি এসে হাজির হয়। উপরের কথাটিতে বেশ যুক্তি রয়েছে।

অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য তাহল সুইডেন পৃথিবীর অন্যান্য দেশর মতো শুরু থেকেই কভিড-১৯ মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছে। যদিও বলা হয় সুইডেন মানবাধিকারের সর্বশ্রেষ্ঠ দেশ, তবে কভিড-১৯ চিকিৎসায় সে কথা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। সুইডেনের বৃদ্ধাশ্রমগুলোতে যখন করোনা ঢুকেছে, রোগীরা শ্বাসকষ্টে ভুগছে, তাদের জন্য ডাক্তার ডাকা, হাসপাতালে পাঠানো, অক্সিজেন দেওয়া কোনোকিছুরই অনুমতি ছিলনা। এ কারণে সবাই বেশ নিরুপায় হয়ে বসে বসে রোগীদের মৃত্যু দেখেছে।

পাশের দেশগুলো যেমন ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, ডেনমার্ক এবং আইসল্যান্ড প্রথমেই লকডাউন করেছে। সুইডেন সেটা করেনি। গত শীতকালীন ছুটিতে তারা কোনোরকম বাঁধা নিষেধ ছাড়া ইতালিতে গিয়েছে এবং দেশে ফিরে এসে দেদার ঘোরাঘুরি করে রোগটি ছড়িয়েছে। সরকার সব জেনেশুনে কভিড-১৯ কে গুরুত্ব দেয়নি এবং কিছুই করেনি। সরকারের গাফিলতির কারণে আমরা আমাদের প্রিয়জনদের হারিয়েছি।

সুইডেনে যতো মানুষ কভিড-১৯ এ মারা গেছে, তার বেশিরভাগই বৃদ্ধাশ্রমের, বয়স ৭০ এর বেশি। এদের অনেকেই সময়মত চিকিৎসা পেলে আরো অনেক বছর বেঁচে থাকতে পারতেন। সবচেয়ে বড় কথা, সব বয়সের মানুষেরই চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রয়েছে সত্ত্বেও সেটা সম্ভব হয়নি। সুইডেন কি তাহলে বৃদ্ধদের স্বাস্থ্যসেবা, অবসরভাতা ইত্যাদির খরচ বাঁচাতে জেনেশুনেই তাদের মরতে সাহায্য করেছে? এসব কি সুইডেনের মানবাধিকার লংঘন?

সুইডেন লকডাউনে যায়নি, শুধু উপদেশ দিয়েছে কী করে চলতে হবে যেমন শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, হাত ধোয়া ইত্যাদি। বৃদ্ধাশ্রমগুলোতে বাইরের কেউ যেন পরিদর্শন না করে সেই উপদেশ সরকারের পণ্ডিত ব্যক্তিরা দিয়েছেন। প্রয়োজনীয় পিপিই যেমন মাস্ক, গ্লাভসের বিরাট আকারে সংকট দেখা দেয়। হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ জায়গা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার যন্ত্রপাতি না থাকার কারণে ভীতি সৃষ্টি করে সরকার এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যার ফলে সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে উপদেশ ঠিকই দেওয়া হয়েছে, সমস্যার সমাধানও কিছুটা হয়েছে তবে অনেক মানুষ মরে যাওয়ার পর।

সুইডেনের হাসপাতাল প্রথম থেকেই বলেছে এই রোগের কোনো চিকিৎসা নেই তাই বাড়িতে থাকতে হবে। শুধু শ্বাসকষ্ট হলে হাসপাতালে আসা যাবে। তারা ইচ্ছে করলে রিস্ক নিয়ে ক্লোরোকুইন এবং অ্যাজিথ্রোমাইসিন একসঙ্গে প্রয়োগ করতে পারতো। শরীরের রক্ত জমাট বেঁধে হঠাৎ যে রোগীরা মারা গেলো তার জন্য ফ্রাগমিনের মতো ইনজেকশন দিতে পারতো। অথচ কিছুই করেনি শুধু অক্সিজেন দিয়ে সাহায্য করেছে।

রোগী দীর্ঘদিন একা একা কভিড-১৯ এ আক্রান্ত থাকার কারণে শারীরিক এবং মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে হাসপাতালে যখন এসেছে মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই হয়নি তাদের। যদিও কর্তৃপক্ষ বলেছে, রেস্পিরেটর সবাই সহ্য করতে পারে না। এটা কঠিন চিকিৎসা তাই শুধু অক্সিজেন দিব, বাঁচলে বাঁচবে না বাঁচলে নাই। এত কিছুর পরও বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থা সুইডেনের কভিড-১৯ মোকাবিলার প্রসংশা করেছে। কীভাবে এটা সম্ভব!

আরও পড়ুন

×