উন্নয়ন ও বাসযোগ্য পৃথিবী
মঈনুল ইসলাম
প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২০ | ০৯:১৫ | আপডেট: ০৯ জুন ২০২০ | ০৯:৩৬
যুগ যুগ ধরে ঢাকার সম্মানিত মেয়রগণ যা পারেন নি, করোনা তা পেরেছে। মেয়রগণ তিলোত্তমা ঢাকা গড়ার স্বপ্ন দেখেছেন। ঢাকাবাসীদের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। কিন্তু তিলোত্তমা ঢাকা গড়তে পারেননি। এক ঝলকায় নভেল করোনা ভাইরাস তা পেরেছে। ঢাকা এখন তিলোত্তমা মহানগর। ঢাকার বাতাস এখন নির্মল, স্বাস্থ্যকর । দূষণের মাত্রা গ্রহনযোগ্য। বায়ু দূষণ,শব্দ দূষণ, পানি দূষণমুক্ত বাসযোগ্য ঢাকা। মানুষ ঘর হতে কম বেড় হয়েছে। বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণ, পানি দূষণ,মাটি দূষণ কম হয়েছে। অথচ লক ডাউনের মাত্র মাস দূয়েক আগে ঢাকার বায়ুদূষণের মান ছিল বিপদজ্জনক। খুব অস্বাস্থ্যকর অবস্থার চেয়ে ও খারাপ।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আমরা যাকে সভ্যতা , উন্নয়ন বলছি আসলে তা কি প্রকৃত অর্থে সভ্যতা? প্রকৃত অর্থে উন্নয়ন? বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণ, পানি দূষণ, মাটি দূষণ সৃষ্টিকারী কোন কাজ- কে কি সভ্যতা বা উন্নয়ন নামে ডাকা যায়? মানুষ ঘর হতে কম বেড় হলেই দূষণ কমে যায়। মানুষ কী পীড়ক পৃথিবীর। যে কাজে পৃথিবী তার বাসযোগ্যতা হারায়, বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণ, পানি দূষণ, মাটি দূষণের মাত্রা বাড়ায়, সবুজ পৃথিবী বিবর্ণ হয়, তার নাম আর যাই হোক সভ্যতা বা উন্নয়ন নয়।
এই পৃথিবীটা কেবল মানুষের একার নয়। এই পৃথিবীটা কেবল মানুষের এক প্রজন্মের নয়। আমাদের পূর্ব পুরুষগণ আমাদের কাছে সবুজ বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে গিয়েছিলেন। আমরা আমাদের সাময়িক আরাম-আয়েশের জন্য ,সাময়িক ভোগ-বিলাসের জন্য সবুজ পৃথিবীকে দূষিত করে ফেলছি। উত্তপ্ত করে তুলছি।পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছি। পৃথিবী তার বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে।
পৃথিবীর সম্পদের বড় একটা অংশ ব্যবহৃত হচ্ছে মরণাস্ত্র তৈরিতে, জীবাণু অস্ত্র তৈরিতে, যুদ্ধ সরঞ্জাম তৈরিতে এবং তা বিপণনে। অস্ত্রব্যবসায়ী শক্তিধর উন্নত দেশগুলো লাভজনক অস্ত্র ব্যবসাকে রমরমা করতে মানুষে-মানুষে, গোষ্ঠীতে-গোষ্ঠীতে, দেশে–দেশে যুদ্ধ বাঁধিয়ে তা জিইয়ে রাখছে। আফগানিস্তান, ফিলিস্থান, ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া এর বড় উদাহরণ। কখন ও কখন ও আরব বসন্ত ইত্যাদি বাহারি নামে এই সব লাভজনক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ডাকা হয়।তবে তথাকথিত এই বসন্ত যে সব দেশে একবার এসেছে তারা হাড়ে হাড়ে বসন্তের উষ্ণতা টের পাচ্ছে। শান্তিময় পৃথিবীতে তথাকথিত বসন্তসৃষ্টিকারী এই সব অস্ত্রব্যবসায়ী শক্তিধর উন্নত দেশ গুলো করোনাক্রান্ত দেশের শীর্ষ তালিকা দখল করে বসে আছে।
কভিড-১৯ পরবর্তী পৃথিবীতে নিশ্চয়ই সভ্যতা, উন্নয়ন, লাভজনক অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের সংজ্ঞা নিয়ে আমাদের নতুন চেতনার উদয় হবে, নতুন ভাবনা আসবে। মানুষ পরিবেশ সচেতন হবে।পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখবে।
পরিবেশ দূষণমুক্ত উন্নয়ন করবে। মানুষ আর পৃথিবীর পীড়ক হবে না। পৃথিবীকে ভালবাসতে শিখবে। পৃথিবী আবার সবুজ বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। শক্তিধর উন্নত দেশ গুলো অস্ত্রব্যবসার মোহভুলে খাদ্য, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, পরিবেশ উন্নয়নে অধিক বিনিয়োগ করবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিশ্চয়ই আমরা একটি বাসযোগ্য সুস্থ, শান্তিময় সবুজ পৃথিবী রেখে যাব।
লেখক: ব্যাংকার
- বিষয় :
- মঈনুল ইসলাম
- চতুরঙ্গ