ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

মহামারীর গতি নির্ধারণে 'কাঁচা' গাণিতিক মডেল

মহামারীর গতি নির্ধারণে 'কাঁচা' গাণিতিক মডেল
×

সঞ্জয় দে

সঞ্জয় দে

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২০ | ০৫:২২ | আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২০ | ১২:০৬

কোভিড নাইন্টিনের জন্য দায়ী ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে এ বছরের গোড়ার দিক থেকেই সামাজিক দূরত্ব বিষয়টি বিশ্বজুড়ে আলোচিত বিষয়। সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় ‘সামাজিক দূরত্ব’ নিশ্চিতের কৌশলটি অবশ্য নতুন কিছু নয়, মানব ইতিহাসে বিভিন্ন সময়েই প্রয়োগ হয়েছে এই কৌশল। এমনকি অন্য বেশ কিছু প্রাণীর ক্ষেত্রেও দলের রোগাক্রান্ত সদস্যকে আলাদা করে রাখার দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া গেছে। 

এবার কোভিড নাইন্টিনের শুরুতেই এই সামাজিক দূরত্বের কৌশলকে কাজে লাগানোর তাগিদ দেন প্রতিষ্ঠিত অনেক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। তবে এর বিরোধিতা করে হার্ড ইমিউনিটির পক্ষেও অবস্থান নিতে দেখা গেছে বেশ কিছু প্রখ্যাত সংক্রমণ রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞকে। সে যাই হোক, জানুয়ারির পর থেকে সামাজিক দূরত্বের কৌশলটি আরো কঠোর করে ‘লকডাউন’র পক্ষে মতামত জোরাল হতে থাকে। ইউরোপের মধ্যে সুইডেনের মতো কিছু দেশ জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখার পক্ষে অবস্থান নিলেও ইতালিসহ বেশিরভাগ দেশ ধীরে ধীরে পুরোপুরি অচলাবস্থার দিকে এগিয়ে যায়। যুক্তরাজ্য তখনো দোটানায়, আর আটলান্টিকের ওপারের যুক্তরাষ্ট্রেও লকডাউনের পক্ষে-বিপক্ষে নানান মত। 


ঠিক এমন সময়ে ১৬ মার্চ লন্ডনের ইমপেরিয়াল কলেজের অধ্যাপক নিল ফার্গুসন সংক্রমণ বিস্তার ও ফলাফলের একটি গাণিতিক মডেল প্রকাশ করেন। এই মডেলে দেখানো হয়, কঠোর সামাজিক বিচ্ছিন্নতা কার্যকর করা না গেলে, এই মহামারীতে যুক্তরাজ্যে ৫ লাখ ১০ হাজার ও যুক্তরাষ্ট্রে ২২ লাখ মানুষের মৃত্যু হবে। তার এই মডেল তাৎক্ষণিক গুরুত্ব পায় আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী সব সংবাদমাধ্যমে। এই মডেল অনুসরণে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে লাখ লাখ মৃত্যুর আশঙ্কা জানাতে থাকেন অনেক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। 

ফার্গুসনের এই মডেল প্রায় গোটা বিশ্বকে থমকে দিতে বাধ্য করে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প- সবাই লকডাউনের ঘোষণা দেন। বাংলাদেশেও ২৬ মার্চ ঘোষণা হয় সাধারণ ছুটি, যা চলেছে মে মাসের শেষ পর্যন্ত। বছরের একদম শুরুর দিকে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা পূর্ণ লডডাউন নিয়ে দোটানায় থাকলেও ফার্গুসনের মডেল প্রকাশের পর তারাও এর পক্ষে সুস্পষ্ট অবস্থান নেয়। 

টানা অচলবস্থার পর এখন লকডাউন প্রত্যাহার করে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার চেষ্টা করছে বিভিন্ন দেশ। তবে এরই মধ্যে বিধ্বস্ত অর্থনীতি তৈরি করেছে জীবন-জীবিকার ভয়াবহ সংকট। সেই সঙ্গে বিপর্যস্ত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কভিডের চেয়েও নন-কভিড রোগীর বেশি মৃত্যু ঘটাচ্ছে কিনা- তা নিয়ে প্রশ্ন বিশ্বের নানা প্রান্তে। 

বিশ্বে টানা প্রায় দুই মাসের লকডাউনের জন্য যার মডেলটি সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে সেই নিল ফার্গুসনকে ঘিরেও উঠছে নানামুখী প্রশ্ন। বিশেষ করে যেখানে দেখা যাচ্ছে, তার মডেলের প্রাথমিক পূর্বাভাসগুলোর সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির বলতে গেলে একেবারেই মিল নেই। এমনকি, যেসব দেশ লকডাউনের পথে হাঁটেনি সেখানেও তার মডেল কার্যকর হতে ব্যর্থ হয়েছে। ফার্গুসনের মডেলের বিভিন্ন মানদণ্ড বিবেচনায় সুইডেনে ৮৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হয়েছিল, যেখানে ওয়ার্ল্ডোমিটারের ১ জুন পর্যন্ত হিসাবে মারা গেছেন ৫ হাজার ৩৩৩ জন। দক্ষিণ কোরিয়ায় ৩ লাখ ৮১ হাজার মৃত্যুর আশঙ্কা করা হলেও মারা গেছেন ২৮২ জন, জাপানে ১৪ লাখের বেশি মৃত্যুর আশঙ্কার বিপরীতে মারা গেছেন ৯৭২ জন, আর তাইওয়ানে ২ লাখ ১২ হাজার মৃত্যুর শঙ্কা থাকলেও ১ জুন পর্যন্ত সেখানে মারা গেছেন ৭ জন। অথচ এসব দেশের কোনোটিই লকডাউনের মাধ্যমে সবকিছু অচল করে দেয়নি। 

ফার্গুসনের মডেল যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যের মতো দেশে- এমনকি মোটামুটি সঠিক পরিসংখ্যান দিতেও ব্যর্থ হয়েছে। এসব কারণে বিভিন্ন দেশ তাদের নিজস্ব প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বাস্তবসম্মত নতুন মডেল তৈরির দিকে মনোযোগ দিয়েছে। ফার্গুসনের মডেল অনুযায়ী কানাডায় কভিড নাইন্টিনে ৩ লাখ ২৬  হাজার পর্যন্ত মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। তবে এপ্রিলে কানাডা মডেল সংশোধন করে আনুমানিক মৃত্যু ১১ হাজার থেকে ২২ হাজারে নামিয়ে আনে। ফার্গুসনের মডেলের পরিবর্তে মৃত্যুসংখ্যা অনেক কমিয়ে বেশ কয়েকটি নতুন মডেল উপস্থাপন হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যেও। 

প্রশ্ন উঠেছে, একটি মহামারীর গতি-প্রকৃতি নির্ধারণে গাণিতিক মডেলের সীমাবদ্ধতা নিয়ে। ফার্গুসনের নেতৃত্বে ইম্পেরিয়াল কলেজের গবেষক দলটি ১৬ মার্চ গাণিতিক মডেলের ফলাফল প্রকাশ করলেও পরের প্রায় দেড় মাস তারা কম্পিউটার সফওয়ারের কোড গোপন রাখে। এমনকি যাদের সহায়তায় এই কোড তৈরি সেই মাইক্রোসফটও বিষয়টি প্রকাশ করেনি। এই মাইক্রোসফট প্রধান বিল গেটস কভিড ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে শুরু থেকেই সহায়তা করছেন। বিল গেটস ফাউন্ডেশন ও বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন এরই মধ্যে গ্লোবাল ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স- গ্যাভিকে ১.৬ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।

ফটওয়্যারের কোড প্রকাশের দাবি জোড়ালো হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপটে গত ২৭ এপ্রিল সেটি উন্মুক্ত করা হয় ডেটা শেয়ারিং ওয়েবসাইট- গিট হাবে। যদিও সেখানে ১৬ মার্চের আগের কোডে পরিবর্তনের অভিযোগ রয়েছে, সেই সঙ্গে এই সফওয়্যার ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের ফলাফল পাওয়া সম্ভব এমন দাবিও করছেন অনেকে।  অন্যদিকে, সম্প্রতি নেচার সাময়িকীর এক প্রতিবেদনে ফার্গুসনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এবারের মডেলিংয়ের কম্পিউটার সিমুলেশনে বর্তমানের বেস্ট প্র্যাকটিস কোডিং অনুসরণ করা হয়নি। ফার্গুসন স্বীকার করেন, বর্তমানের বিশ্লেষণটির ভিত্তি ছিল এক দশকেরও আগে ২০০৫ সালে থাইল্যান্ডে দেখা দেয়া বার্ড ফ্লু-কে বিশ্লেষণের জন্য তৈরি করা একটি মডেল। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি কার্যকর মডেল উপস্থাপনের স্বার্থেই তিনি নতুন করে সিমুলেশনের সময় পাননি। তবে এ কারণে গাণিতিক পূর্বাভাসে বৈজ্ঞানিক কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি বলেও দাবি করছেন তিনি। যদিও ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারীর গতিপ্রকৃতি বের করার মডেল দিয়ে করোনাভাইরাসের চরিত্রকেও ব্যাখ্যা করা সম্ভব কিনা- সেই জবাব তার কাছ থেকে মেলেনি। 

আর তার সেই অসংগঠিত সিম্যুলেশনের মডেলই প্রায় গোটা বিশ্বকে ঠেলে দেয় লকডাউনের মতো সর্বোচ্চ কঠোর পরিস্থিতির দিকে। ফার্গুসন এমনই এক কঠোর মডেল দেন, যেটি তিনি নিজেও মেনে চলতে ব্যর্থ হয়েছেন। আর এ জন্যই লকডাউন শুরুর পর নিজ বাসায় বান্ধবীর যাওয়ার ঘটনা কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য সরকারের উপদেষ্টার পদ ছাড়েন তিনি। 

সংক্রামক রোগের বিস্তারের মডেল তৈরির বিষয়ে নিল ফার্গুসনের পরিচিতি দীর্ঘদিনের। তবে তার মডেলে ভ্রান্তির অভিযোগও নতুন নয়। যুক্তরাজ্যে ২০০২ সালে ম্যাড কাউ ডিজিজে দেড় লাখ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা জানিয়েছিলেন তিনি। তার হুঁশিয়ারির পর যুক্তরাজ্যে কয়েক লাখ গরু হত্যা করা হয়। তবে সে সময় দেশটিতে মোট মৃত্যু হয়েছিল ২ হাজার ৭০৪ জনের। এরপর ২০০৫ সালে তিনি বার্ড ফ্লুতে বিশ্বে ২০ কোটি পর্যন্ত মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে সতর্ক করেন। সোয়াইন ফ্লুতে ২০০৯ সালে যুক্তরাজ্যে ৬৫ হাজার মৃত্যুর শংকাও ছিল তার মডেলে। তবে বাস্তবে মারা যান ৪৫৭ জন। 

নিল ফার্গুসনের আগের মডেলগুলো বাস্তবতা থেকে অনেক দূরবর্তী হলেও তিনি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? এর জবাবটি পাওয়া যেতে পারে,  নিউ ইয়র্ক টাইমসে ১৭ মার্চ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে। ফার্গুসনের মডেল কী করে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রকে লকডাউনের পথে চালিত করল- সে বিষয়ক প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ‘ইম্পেরিয়াল কলেজ এর আগে সার্স, বার্ড ফ্লু এবং সোয়াইন ফ্লুসহ বিভিন্ন মহামারী সম্পর্কে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছিল। বিশিষ্ট মহামারী বিশেষজ্ঞ নিল ফার্গুসনের নেতৃত্বে ৫০ জন বিজ্ঞানীর একটি দল ও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে ইম্পেরিয়ালকে একটি গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এর  গাণিতিক মডেলগুলো সরাসরি সরকারি নীতির অন্তর্ভুক্ত হয়।’ 

নিউইয়র্ক টাইমসের ওই প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের বরাতে বলা হয়, ‘ইম্পেরিয়াল কলেজের প্রতিবেদনের উপসংহারে হাসপাতাল রোগীতে উপচেপড়ার আশঙ্কা জানানো হয়েছিল, আর সে ধরনের পরিস্থিতি উপেক্ষা করার শক্তি সরকারের ছিল না।’প্রতিবেদনে এডিনবার্গ ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল হেলথ গভর্ন্যান্স প্রোগ্রামের পরিচালক দেবী শ্রীধরের উদ্ধৃতিটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ- ‘মডেলে বিস্তারিত কী কী বলা হয়েছে- সেটি নয়, এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাটি কে বলেছেন। কারণ নিল ফার্গুসনের প্রভাবের মাত্রা বিপুল।’  

যুক্তরাজ্যে লকডাউন শুরুর প্রায় আড়াই মাস পর অবশ্য আগের কঠোর মনোভাব অনেকটাই পরিবর্তন করেন নিল ফার্গুসন। গত ৩ জুন হাউজ অফ লর্ডসের সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কমিটির সামনে তিনি স্বীকার করেন, লকডাউনের নীতি 'ভেরি ক্রুড' এবং অর্থনীতির ক্ষতি অনেকটা কমিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক কৌশল নেয়ার সুযোগ বিজ্ঞানীদের রয়েছে। ওইদিন ফার্গুসন সুইডেনের নেয়া কৌশলেরও প্রশংসা করেন। কারণ, লকডাউন না করেও সুইডেনে প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে যেখানে ৪৩৬ জন মারা গেছেন, সেখানে কঠোর লকডাউনের পরেও যুক্তরাজ্যে প্রতি ১০ লাখে মৃত্যু হয়েছে ৫৭৫ জনের। তবে ফার্গুসনের দাবি ছিল, লকডাউনের কারণে, যুক্তরাজ্যে যত দ্রুত সংক্রমণের মাত্রা কমেছে, সুইডেনে সেটি ঘটেনি। এর প্রায় তিন সপ্তাহ পরে বিবিসি রেডিও ফোরে আরেক সাক্ষাৎকারে ফার্গুসন বলেন, যুক্তরাজ্যে আগামীতে আর জাতীয়ভাবে লকডাউনের প্রয়োজন পড়বে বলে তিনি মনে করছেন না। আক্রান্তদের ক্লাস্টারভিত্তিক বিচ্ছিন্নকরণের মাধ্যমেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

লেখক: হেড অব ডিজিটাল মিডিয়া, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন

তথ্যসূত্র:

1.https://www.imperial.ac.uk/media/imperial-college/medicine/sph/ide/gida-fellowships/Imperial-College-COVID19-NPI-modelling-16-03-2020.pdf

2.‘The Global Impact of COVID-19 and Strategies for Mitigation and Suppression’, Imperial College London, March 26, 2020.

3.https://www.iedm.org/the-flawed-covid-19-model-that-locked-down-canada/?fbclid=IwAR2JbogEILWoAJKfYGNuTTX5lYb-QziqPC9_bP5RzxDdbfMRUcOtfyhUXq4 

4.https://www.cnbc.com/2020/06/04/bill-gates-backed-vaccine-alliance-looks-to-raise-7point4-billion.html

5.https://github.com/ImperialCollegeLondon/covid19model?fbclid=IwAR2zUBLPN1Vi5iT6EiJMxuM31z1j-32Yrslv0SPL78q2W3mGp_vt5WLQMr4

6.https://www.aier.org/article/imperial-college-model-applied-to-sweden-yields-preposterous-results/

7.https://www.nature.com/articles/d41586-020-01685-y?fbclid=IwAR1O1sXif23SE7JzhUYHLl-mSIhdgDMgXwIr_pvz0YSHbsdPfSkKph-9GgQ

8.https://www.theguardian.com/education/2002/jan/09/research.highereducation

9.https://www.theguardian.com/world/2005/sep/30/birdflu.jamessturcke

10.https://www.ft.com/content/1e390ac6-7e2c-11ea-8fdb-7ec06edeef84

11.https://www.nytimes.com/2020/03/17/world/europe/coronavirus-imperial-college-johnson.html

12.https://www.dailymail.co.uk/news/article-8379769/Professor-Lockdown-Neil-Ferguson-admits-greatest-respect-Sweden.html?fbclid=IwAR3BD4LFJbg_fuuFKAfGPMVbivkdRCbompI6JqDpz-heDvLMWFPhfhWj7f4

13.https://www.bbc.com/news/uk-politics-53193615?fbclid=IwAR06i-Bscrp9LxUz_PPRi6QoMVkZ0AHVfE0FzAPO3Xt_wRzW75-Zm-G7VDI

আরও পড়ুন

×