প্রাক্কলিত দর ফাঁসের অভিযোগে এনসিটিবিতে দুদকের অভিযান
ছবি- সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:৪২
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপানোর কাজে গোপনীয় দর ঠিকাদারদের কাছে ফাঁস হওয়া ও সরকারের আর্থিক ক্ষতির অভিযোগে রাজধানীর মতিঝিলে বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের এনফোর্সমেন্ট টিম ওই অভিযান চালায়। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের ওই তথ্য জানান।
দুদক জানায়, ঠিকাদাররা সিন্ডিকেট করে বোর্ডের সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে বই ছাপানোর সরকারের প্রাক্কলিত দর জেনে যান দরপত্র জমা দেওয়ার আগেই। ওই দর তাদের পছন্দ না হওয়ায় তারা জোটবদ্ধ হয়ে দর বৃদ্ধি করার চাপ সৃষ্টি করেন। পরে বোর্ড কর্তৃপক্ষ প্রাক্কলিত দর বাড়িয়ে দেন।
এরপর ঠিকাদাররা ওই দরের সঙ্গে সামঞ্জস্যতা বজায় রেখে আলাদাভাবে তাদের পরপত্র জমা দেন। বোর্ড থেকে কার্যাদেশ দেওয়ার পর ঠিকাদাররা ভাগাভাগি করে ছাপার কাজ সম্পন্ন করেন। প্রথমে নির্ধারণ করা প্রাক্কলিত দর দ্বিতীয় পর্যায়ে বৃদ্ধি করায় সরকারের বাড়তি খরচ দাঁড়ায় ২৫২ কোটি টাকা।
অভিযানকালে এনফোর্সমেন্ট টিমের সদস্যরা অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য এনসিটিবি থেকে ওই দরপত্রের প্রাথমিক প্রাক্কলনের নথি, দাপ্তরিক মূল্য তালিকা, বোর্ডের ৪২৩তম সভার কার্যবিবরণীসহ প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করেন। সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে টিমের সদস্যরা শিগগির কমিশনে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করবে। পরে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ি পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
দুদক থেকে আমলে নেওয়া এ সংক্রান্ত অভিযোগে বলা হয়, যে কোন দরপত্রের প্রাক্কলিত দর নির্ধারণের পর তা ঠিকাদারদের জানার কোন সুযোগ নেই। সরকারি কর্তৃপক্ষ এই পর্যায়ে দর বৃদ্ধি করলে তা হবে সরকারের ক্রয়নীতি পরিপন্থি। এই ধরণের ঘটনা ঘটলে দরপত্রে প্রতিযোগিতা কমে যায়। আর এই প্রতিযোগীতা কমে গেলে একদিকে ব্যয় বেড়ে যায়, অন্যদিকে কাজের মান খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।