ঈদের ছুটিতে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত ভ্রমণ
ডা. মো. আব্দুল হাফিজ শাফী
প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬ | ০৮:০৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
পবিত্র ঈদুল ফিতর মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব। ঈদকে ঘিরে সবার মনে থাকে আনন্দ ও উৎসাহ। এই সময় শহর থেকে গ্রামের বাড়িতে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করার এক সুন্দর ঐতিহ্য রয়েছে। তবে ঈদের আনন্দকে পূর্ণতা দিতে হলে ভ্রমণ হতে হবে আরামদায়ক, নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যসম্মত। একটু অসতর্কতা বা অপরিকল্পিত যাত্রা অনেক সময় বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
ঈদের ছুটিতে লাখো মানুষের একসঙ্গে যাত্রা শুরু হয়। এই সময় যানবাহনে অতিরিক্ত ভিড়, দীর্ঘ পথযাত্রা এবং পরিবেশগত নানা ঝুঁকি ভ্রমণকে কিছুটা কষ্টকর করে তুলতে পারে। তাই ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে হলে আগে থেকেই কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। তাই ঈদের ছুটিতে যাত্রা আরামদায়ক করতে কিছু করণীয়–
lভ্রমণে বের হওয়ার আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সঙ্গে একটি ছোট ফার্স্ট এইড ব্যাগ রাখা ভালো, যাতে খাবার স্যালাইন, প্যারাসিটামল, অ্যালার্জি প্রতিরোধক ওষুধ, আমাশয় বা হজমজনিত সমস্যার ওষুধ রাখা যায়। একই সঙ্গে পরিবারের বয়স্ক সদস্যরা যদি নিয়মিত কোনো ওষুধ সেবন করে থাকেন, তাহলে পর্যাপ্ত পরিমাণে সেই ওষুধ সঙ্গে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি ও বিশেষ করে দীর্ঘ ভ্রমণে বাসায় প্রস্তুত পুষ্টিকর খাবার সঙ্গে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যাত্রাপথে অপরিষ্কার পানি বা অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করলে খাদ্যে বিষক্রিয়া ও পেটের নানা
সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।
l অনেকের ভ্রমণের সময় বমি বমি ভাব বা Motion Sickness দেখা দেয়; যাদের এ ধরনের সমস্যা রয়েছে, তারা যাত্রা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে বমি প্রতিরোধক ওষুধ সেবন করতে পারেন। ভ্রমণের আগে অতিরিক্ত ভারী খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকা ভালো। সহজে হজম হয়, শক্তি দেয় এবং কম এসিডিটি তৈরি করে–এমন খাবার গ্রহণ করা উচিত।
lমোশন সিকনেসের ক্ষেত্রে অনেক সময় বাসে বসে ঘুমিয়ে পড়লে বমি কম হয়। কারণ তখন চোখ থেকে মস্তিষ্কে কম তথ্য যায় এবং বিভ্রান্তি তৈরি হয় না। ঘুম না এলেও চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া উপকারী হতে পারে। এ ছাড়া সামনের দিকে বা জানালার পাশে আসন নেওয়া ভালো।
lদীর্ঘ সময় বসে ভ্রমণ করলে অনেকের পা ফুলে যেতে পারে বা পায়ে অবশ ভাব অনুভূত হতে পারে। তাই মাঝেমধ্যে পা নড়াচড়া করা বা সম্ভব হলে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে নেওয়া উচিত। এতে পায়ের রক্ত চলাচল
স্বাভাবিক থাকে।
l ঈদের সময় দীর্ঘ যাত্রাপথে অনেক যাত্রী প্রতারণার শিকার হন। বিশেষ করে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে কেউ কেউ সর্বস্ব হারান, এমনকি জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ে। তাই যাত্রাপথে অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হলে ভদ্রভাবে তা এড়িয়ে চলাই উত্তম।
সচেতনতা বাড়ুক, নিরাপদ হোক ঈদযাত্রা।
ঈদের আনন্দ যেন কোনোভাবেই দুঃখ বা বিপদের কারণ না হয়, সেদিকে আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
[ সহকারী অধ্যাপক, নাক-কান-গলা বিভাগ, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট]
- বিষয় :
- ঈদের ছুটি
