হজে ডায়াবেটিক রোগীরা যেভাবে পায়ের যত্ন নেবেন
ব্রি. জে. ডা. নাসির উদ্দিন আহমদ
প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ | ০৬:৫৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
প্রতিবছর অসংখ্য ডায়াবেটিক রোগী পবিত্র হজ পালন করে থাকেন। হজের সময় প্রতিদিন দুই ঘণ্টা বা আরও বেশি সময় ধরে শরীরচর্চা করার সমান হাঁটতে হয়। পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ, সাফা-মারওয়া সাঈ করা, আরাফাতের ময়দান থেকে মুজদালিফায় গমন, মিনা থেকে হেঁটে জামারাতে পাথর নিক্ষেপসহ দৈনন্দিন ধর্মীয় কর্মসম্পাদন সবক্ষেত্রেই অনেক হাঁটতে হয়।
হাঁটলে ফোস্কা পড়ার ঝুঁকি:
অত্যধিক গরমে নতুন জুতা পরে কিংবা খালি পায়ে অতিরিক্ত ভিড়ে হাঁটার সময় পায়ে ফোস্কা পড়া, ক্ষত হওয়ার ঘটনা খুব বেশি পরিমাণে ঘটে থাকে। এ সময় শতকরা ৩১ ভাগ ডায়াবেটিক রোগীর পায়ে ফোস্কা পড়ে। মোটাসোটা রমণীদের এটি আরও বেশি হয়ে থাকে। ফোস্কা থেকে হতে পারে ইনফেকশন কিংবা আরও গুরুতর জটিলতা গ্যাংগ্রিন। অনেকে এমন জটিলতা নিয়ে সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে ভর্তিও থাকেন।
খালি পায়ে হাঁটবেন না:
অনেক ডায়াবেটিক রোগী প্রান্তীয় স্নায়ুর ব্যাধিতে ভুগছেন। পায়ের অনুভূতি শক্তি কমে যাওয়ার কারণে তারা গরম ঠাওর করতে পারেন না। ছোটখাটো আঘাতজনিত ক্ষত তারা টের পান না। তীব্র গরমের সময় কখনও দেখা যায় মেঝের তাপমাত্রা ৫০ থেকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়ে থাকে। রাস্তার তাপমাত্রা আরও বেড়ে যায়। এমন গরম উত্তপ্ত মেঝেতে কিংবা রাস্তায় খালি পায়ে হাঁটার কারণে পায়ে ফোস্কা পড়ে যায়। পায়ের ত্বক গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পানিশূন্যতায় জটিলতা বেড়ে যাওয়া:
ডায়াবেটিসের কারণে রক্তনালি সরু হয়ে যায়। রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। অনেক সময় তীব্র গরমে হতে পারে পানিশূন্যতা। তৈরি হতে পারে থ্রমবাস। এতে রক্তনালি আটকে যায়। এগুলো সবই পায়ের জটিলতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
কীভাবে পায়ের যত্ন নেবেন:
l চিকিৎসককে দেখিয়ে পা পরীক্ষা করে নিতে হবে। ইনসুলিনসহ প্রয়োজনীয় ওষুধের সমন্বয় করে নিতে হবে।
l হজের দিনগুলোতে প্রতিদিন পা পরীক্ষা করতে হবে। পায়ে কোনো ফোস্কা পড়েছে কিনা কিংবা দু-আঙুলের মাঝে ফেটে কোনো রক্তক্ষরণ হয়েছে কিনা পরখ করে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনবোধে আয়না ব্যবহার করতে হবে, যাতে পায়ের নিচে এবং পেছনের দিকে দেখা যায়।
lমোজা যাতে জুতার ভেতর সুন্দরভাবে সেঁটে থাকে, সেটি খেয়াল রাখতে হবে। প্রয়োজনে প্যাডযুক্ত মোজা পরতে হবে।
lজুতা স্যান্ডেল পরার আগে ভেতরে কোনো ক্ষতিকর কিছু আছে কিনা তা দেখে নিতে হবে।
l জুঁতসই মাপের জুতা মোজা পরতে হবে। আনকোরা নতুন জুতা পরলে ক্ষত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।
l চামড়ার জুতা বা স্যান্ডেল ব্যবহার করতে হবে। দু আঙুলের মাঝে যাতে ফাঁকা জায়গা থাকে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। হাঁটা বা দৌড়ানোর জন্য আলাদা ধরনের জুতা রয়েছে, সেগুলো ব্যবহার করতে হবে।
l সময়মতো জুতা বদলে ফেলতে হবে।
lঅত্যধিক ভিড়ের চাপে কখনও পায়ে ছোট ছোট ইনজুরি হতে পারে, এগুলো হালকাভাবে নেওয়া ঠিক হবে না।
l কখনও খালি গায়ে হাঁটবেন না। গরম রোদের সময় উত্তপ্ত মেঝের ওপর দিয়ে হাঁটলেও পায়ে বিপদ নেমে আসতে পারে।
l অজু কিংবা গোসলের আগে পানির উষ্ণতা পরখ করতে হবে। সরাসরি পায়ের ওপর পানি ফেলা ঠিক হবে না। তপ্ত পানিতে পায়ে ফোস্কা পড়ে যেতে পারে।
lপায়ে কোনো ক্ষত দেখা দিলে, পায়ের কোথাও ফুলে গেলে, লাল বর্ণ ধারণ করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
lপায়ের আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য নিয়মিত পায়ে লোশন অথবা ভ্যাসলিন ব্যবহার করতে হবে। তবে দুই আঙুলের ফাঁকে ভ্যাসলিন ব্যবহার করা ঠিক হবে না।
l ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। হজের সময় নিয়মিত রক্তে গ্লুকোজ পরীক্ষা করতে হবে।
l ছোটখাটো ইনফেকশন হলে আগে থেকে নেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করতে পারেন।
l ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে।
[লেখক: অ্যাডভাইজার স্পেশালিস্ট মেডিসিন, সিএমএইচ, ঢাকা। চেম্বার: ইবনে সিনা, মিরপুর।]
- বিষয় :
- ডায়াবেটিক
