দাঁতের সংবেদনশীলতা: অবহেলা নয়
ডা. শাহনাজ আক্তার
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬ | ০৭:১৯ | আপডেট: ১৯ মে ২০২৬ | ১৫:৩২
| প্রিন্ট সংস্করণ
বর্তমান সময়ে দাঁতের সংবেদনশীলতা বা টুথ সেনসিটিভিটি একটি অত্যন্ত সাধারণ সমস্যা হয়ে উঠেছে। অনেকেই ঠান্ডাপানি, গরম চা-কফি, মিষ্টি কিংবা টক খাবার খাওয়ার সময় হঠাৎ দাঁতে শিরশিরে ব্যথা অনুভব করেন। এই হঠাৎ অস্বস্তিকর অনুভূতিই দাঁতের সংবেদনশীলতার অন্যতম প্রধান লক্ষণ। অনেক মানুষ বিষয়টিকে সাময়িক সমস্যা বা ছোটখাটো অস্বস্তি মনে করে গুরুত্ব দেন না। দীর্ঘদিন অবহেলা করলে এটি দাঁতের স্থায়ী ক্ষতি কিংবা আরও জটিল সমস্যার কারণ হতে পারে। দাঁতের সংবেদনশীলতার প্রধান কারণ হলো, দাঁতের বাইরের সুরক্ষামূলক স্তর এনামেলের ক্ষয় অথবা মাড়ি সরে গিয়ে ভেতরের ডেন্টিন অংশ উন্মুক্ত হয়ে যাওয়া। ডেন্টিনের ভেতরে অসংখ্য ক্ষুদ্র নালি থাকে, যা দাঁতের স্নায়ুর সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত। ফলে ঠান্ডা, গরম, মিষ্টি বা টক কোনো খাদ্য বা পানীয় গ্রহণ করলে সেই উদ্দীপনা দ্রুত স্নায়ুতে পৌঁছে ব্যথার অনুভূতি তৈরি করে।
এই সমস্যার পেছনে বিভিন্ন কারণ কাজ করতে পারে। অতিরিক্ত জোরে দাঁত ব্রাশ করা, দীর্ঘ সময় ধরে ব্রাশ করা কিংবা শক্ত ব্রিসলের ব্রাশ ব্যবহার দাঁতের এনামেল ক্ষয়ের অন্যতম কারণ। এছাড়া অতিরিক্ত এসিডিক বা টক খাবার খাওয়ার অভ্যাস, দাঁতের ক্যাভিটি, মাড়ির রোগ, দাঁত ঘষার অভ্যাস বা ব্রুক্সিজম এবং বারবার এসিড রিফ্লাক্স বা বমির সমস্যাও দাঁতের ক্ষতি বাড়াতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে দাঁত ব্লিচিং বা বিশেষ ডেন্টাল চিকিৎসার পরও সাময়িক সংবেদনশীলতা দেখা দিতে পারে।
দাঁতের সংবেদনশীলতা কমাতে প্রতিদিনের কিছু সাধারণ অভ্যাস অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। নরম ব্রিসলের ব্রাশ ব্যবহার করা এবং দিনে অন্তত দুইবার সঠিক নিয়মে দাঁত ব্রাশ করা প্রয়োজন। ব্রাশ করার সময় অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে ধীরে ধীরে গোলাকার গতিতে দাঁত পরিষ্কার করা উচিত, যাতে এনামেলের ওপর বাড়তি চাপ না পড়ে। পাশাপাশি অতিরিক্ত টক, মিষ্টি এবং কার্বনেটেড পানীয় কম খাওয়াও উপকারী। বর্তমানে সংবেদনশীল দাঁতের জন্য বিশেষভাবে তৈরি টুথপেস্ট পাওয়া যায়, যা ডেন্টিনের ক্ষুদ্র নালিগুলো আংশিকভাবে বন্ধ করে সংবেদনশীলতা কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া দাঁত দিয়ে বোতলের ঢাকনা খোলা, শক্ত কিছু কামড়ানো বা অপ্রয়োজনীয় চাপ প্রয়োগের মতো অভ্যাস থেকেও বিরত থাকা প্রয়োজন।
যদি সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে বা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে, তাহলে অবশ্যই একজন ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। রোগের কারণ অনুযায়ী চিকিৎসক বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারেন। যেমন ডিসেনসিটাইজিং টুথপেস্ট বা জেল ব্যবহার, ফ্লোরাইড ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে এনামেলকে শক্তিশালী করা কিংবা ডেন্টাল বন্ডিং বা সিল্যান্ট ব্যবহার করে উন্মুক্ত ডেন্টিন ঢেকে দেওয়া। মাড়ি সরে গেলে গাম গ্রাফট সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে। আর গুরুতর ক্ষেত্রে দাঁতের স্নায়ু আক্রান্ত হলে রুট ক্যানাল চিকিৎসাও প্রয়োজন হতে পারে।
[বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, শাহনাজ ডেন্টাল কেয়ার]
- বিষয় :
- ডাক্তার
- দাঁতের যত্ন
