বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উদযাপন
দিনব্যাপী আয়োজনে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি কর্তৃক রক্তদাতাদের সম্মাননা জানানো হয়
ডাক্তারবাড়ি ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬ | ০৭:২১
| প্রিন্ট সংস্করণ
প্রতি বছর ১৪ জুন বিশ্বব্যাপী বিশ্ব রক্তদাতা দিবস পালন করা হয়। এই দিনটি স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদানকারী ব্যক্তিদের সম্মান জানাতে এবং নিরাপদ রক্তের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে উদযাপিত হয়। মানবতার সেবায় রক্তদান একটি মহৎ ও জীবনরক্ষাকারী কাজ, যা অসংখ্য মানুষের জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতি বছরের মতো এই বছরও বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি এই দিবসটি যথাযথ নিয়মে পালন করেছে। দিনব্যাপী আয়োজনে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি রক্তদাতাদের সম্মাননা জানিয়েছে, পাশাপাশি থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য বাংলাদেশ থ্যালসেমিয়া সমিতি প্রাঙ্গণে ও গুলশানে অবস্থিত কন্ট্রোল ইউনিয়ন বাংলাদেশে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ব্লাড ট্রান্সফিউশন অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ডা. খাইরুল ইসলাম, খোদেজা-হারমাত ট্রাস্টের চেয়ারম্যান রুহি মুরশিদ আহমেদ এবং ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য কাজী আসহাবুল রহমান, বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির উপদেষ্টা সৈয়দ দীদার বখত, প্রচার সম্পাদক ইঞ্জি. মো. আলী আশারাফ ও বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ও চিফ অব ব্লাড ব্যাংক প্রফেসর ডা. ফৌরদস আরা ও চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. কবিরুল ইসলাম। ওই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির সভাপতি ড. এম এ মতিন ও অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ডা. এ কে এম একরামুল হোসেন।
রক্ত এমন একটি উপাদান যা কৃত্রিমভাবে তৈরি করা সম্ভব নয়। দুর্ঘটনায় আহত রোগী, প্রসূতি মা, থ্যালাসেমিয়া রোগী, ক্যান্সার আক্রান্ত ব্যক্তি এবং বিভিন্ন জটিল অস্ত্রোপচারের রোগীদের জীবন রক্ষার জন্য নিয়মিত রক্তের প্রয়োজন হয়। একজন সুস্থ মানুষের স্বেচ্ছায় দান করা রক্তই হতে পারে অন্য একজন মানুষের বেঁচে থাকার শেষ আশা। বিশ্ব রক্তদাতা দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো নিরাপদ ও পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং মানুষকে নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করা। একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময় পরপর রক্ত দিতে পারেন এবং এতে তাঁর স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি হয় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বাংলাদেশের সেফ ব্লাড ট্রান্সফিউশন প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ ইউনিট রক্তের প্রয়োজন হয়। এই রক্ত মূলত প্রসূতি মা, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি, থ্যালাসেমিয়া রোগী এবং বিভিন্ন অস্ত্রোপচারের রোগীদের জন্য ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশে গত দুই দশকে স্বেচ্ছায় রক্তদানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও এখনও অধিকাংশ রক্ত রোগীর আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়। প্রতিবছর প্রায় ১১,০০০ রোগী থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ে জন্ম নেয়। বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি হাসপাতালে প্রতিমাসে ১০০০-১২০০ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়, যার প্রায় ৪০ শতাংশ বিভিন্ন মাধ্যম থেকে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। বিশ্ব রক্তদাতা দিবসে বক্তাদের পক্ষ থেকে তরুণ সমাজের প্রতি উদাত্ত আহবান যে, তারা যেন প্রতি বছর একবার হলেও একজন থ্যালাসেমিয়া রোগীকে রক্তদান করেন।
- বিষয় :
- বিশ্ব রক্তদাতা দিবস