যে কারণে মাসল ক্রাম্প হয়
ডা. মিজানুর রহমান কল্লোল
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬ | ০৬:৫০
| প্রিন্ট সংস্করণ
মাসল ক্রাম্প হলো মাংসপেশির একটি বেদনাদায়ক সংকোচন বা হঠাৎ শক্ত হয়ে যাওয়া, যা সাধারণত কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট স্থায়ী হয়। এটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পায়ের পেশিতে, বিশেষ করে রাতে ঘুমের মধ্যে পায়ের ডিম বা কাফ মাসলে হয়ে থাকে। কখনও কখনও উরু বা পায়ের পাতাতেও এমনটি হতে পারে।
মাসল ক্রাম্পের কারণ
মাসল ক্রাম্পের নির্দিষ্ট কোনো কারণ সবসময় খুঁজে পাওয়া যায় না, তবে কিছু সুপরিচিত অবস্থা ও কারণ রয়েছে:
শারীরিক কার্যকলাপ: অতিরিক্ত ব্যায়াম, আঘাত, বা পেশির অতিরিক্ত ব্যবহার।
গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় বিশেষত শেষের মাসগুলোতে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজের ঘাটতি দেখা দিলে ক্রাম্প হতে পারে।
জলস্বল্পতা: শরীর থেকে প্রচুর তরল ক্ষয় হলে বা পর্যাপ্ত পানি পান না করলে মাসল ক্রাম্প হতে পারে।
খনিজের অভাব: রক্তে পর্যাপ্ত পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম বা অন্যান্য খনিজ না থাকা।
অস্বাস্থ্যকর ভঙ্গি: দীর্ঘ সময় শক্ত জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা, এক ভঙ্গিতে বসে থাকা, বা ঘুমানোর সময় পা বেঢপ ভঙ্গিতে রাখলে পেশি সংকুচিত হতে পারে।
ঠান্ডা আবহাওয়া: অতিরিক্ত ঠান্ডা বা ঠান্ডা পানির সংস্পর্শে আসা।
কিছু রোগ: রক্ত সঞ্চালন সমস্যা, কিডনি রোগ, থাইরয়েডের সমস্যা এবং মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস।
নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ: মানসিক রোগের ওষুধ, জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল, ডাইইউরেটিকস, স্ট্যাটিন এবং স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ।
মাসল ক্রাম্প বন্ধ করার উপায়
হঠাৎ মাসল ক্রাম্প শুরু হলে দ্রুত উপশমের জন্য কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন:
পেশি প্রসারিত করুন ও ম্যাসাজ করুন: ধীরে ধীরে সংকুচিত পেশি প্রসারিত করলে ব্যথা কমতে পারে। এরপর হালকা হাতে ম্যাসাজ করলে আরাম পাওয়া যায়।
তাপ বা ঠান্ডা প্রয়োগ: পেশি শিথিল করার জন্য গরম পানিতে গোসল করতে পারেন বা সংকুচিত স্থানে গরম প্যাড ব্যবহার করতে পারেন। আবার, বরফ বা কোল্ড প্যাক কাপড়ে মুড়ে লাগালেও ব্যথা কমে।
পানি পান: প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। কিছু স্পোর্টস ড্রিংকস যেমন গ্যাটোরিড পান করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।
হাঁটা বা ঝাঁকি দেওয়া: হালকাভাবে হাঁটাচলা করলে বা পায়ে ঝাঁকি দিলে পেশি শিথিল হতে পারে।
মাসল ক্রাম্প প্রতিরোধ
নিয়মিত কিছু অভ্যাস অনুসরণ করলে মাসল ক্রাম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব:
পর্যাপ্ত পানি পান: সারাদিন প্রচুর পানি পান করুন, যতক্ষণ না আপনার প্রস্রাব হালকা হলুদ বা স্বচ্ছ হয়।
স্বাস্থ্যকর খাবার: ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খান, বিশেষত গর্ভবতী মহিলারা।
নিয়মিত পেশি প্রসারিত করা: ব্যায়ামের আগে ও পরে এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে নিয়মিত পেশি প্রসারিত করুন।
ব্যায়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ: হঠাৎ করে ব্যায়ামের মাত্রা না বাড়িয়ে ধীরে ধীরে অভ্যাস করুন।
চিকিৎসকের পরামর্শ: যদি আপনার মাসল ক্রাম্প বারবার হয় বা খুব তীব্র হয়, তবে অবিলম্বে একজন চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। এর পেছনে অন্য কোনো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা থাকতে পারে, যেমন রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম। যদি কোনো ওষুধের কারণে এমন হচ্ছে বলে মনে হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না।
[লেখক: বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক]
- বিষয় :
- ডাক্তার
