ঢাকা মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফুসফুসের সুরক্ষায় যা করবেন

ফুসফুসের সুরক্ষায় যা করবেন
×

অধ্যাপক মোহাম্মদ আতিকুর রহমান

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৪৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

জীবনকে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখতে চাই সুস্থ ফুসফুস, স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস এবং বিশুদ্ধ বাতাস। ফুসফুসের যত্নের শুরু মাতৃজঠরে থাকা সময় থেকে। গর্ভাবস্থায় মায়ের অপুষ্টি, বিভিন্ন সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়া, সময়ের আগে অপরিণত অবস্থায় এবং কম ওজন নিয়ে শিশুর জন্ম–এসব কারণে শিশুর ফুসফুসের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
জন্মের পর শিশুকে মাতৃদুগ্ধ পান করালে নিউমোনিয়া, অ্যাজমাসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ কমতে পারে। এ কারণে হবু মা এবং নতুন মায়ের যথাযথ যত্ন শিশুর সুস্থ ফুসফুসের অন্যতম পূর্বশর্ত। অন্যদিকে, ধূমপায়ী বাবা শুধু পরিবারের সদস্যদের জন্য নয়, এমনকি যে শিশু এখনও ভূমিষ্ঠ হয়নি, তার জন্যও ঝুঁকির কারণ। ধূমপায়ী মায়ের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি আরও বেশি।
ফুসফুস বিভিন্ন ধরনের সংক্রামক জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম প্রধান অঙ্গ। করোনাভাইরাস মহামারি আমাদের এই সত্য আরও ভালোভাবে বুঝিয়েছে। সারা পৃথিবী একসময় ছোট্ট একটি ভাইরাসের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছিল। একইভাবে নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা, ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং বিভিন্ন ছত্রাকজনিত রোগেও ফুসফুস আক্রান্ত হতে পারে। অথচ সামান্য কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে এসব সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। নিয়মিত হাত ধোয়া, প্রয়োজন অনুযায়ী মাস্ক পরা এবং হাঁচি-কাশির সময় শিষ্টাচার মেনে চলার মতো অভ্যাস সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বর্তমান সময়ে পরিবেশদূষণ এবং বিশেষ করে বায়ুদূষণ একটি অন্যতম প্রধান সমস্যা। বায়ুদূষণের সরাসরি ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে ফুসফুসে। অ্যাজমা, সিওপিডিসহ শ্বাসনালির বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বায়ুদূষণ। তাই পৃথিবীর সজীব ও নির্মল বাতাস নিশ্চিত করার জন্য আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাও ফুসফুসের যত্নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
জীবিকার প্রয়োজনে আমরা বিভিন্ন ধরনের পেশা বেছে নিই। এর মধ্যে এমন কিছু পেশা রয়েছে, যেগুলো ফুসফুসের জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। যেমন–পাথরভাঙা, জাহাজভাঙা, ওয়েল্ডিং এবং আঁশ বা তন্তুজাতীয় উপাদানের সংস্পর্শে কাজ করা। এসব পেশায় উৎপন্ন ক্ষুদ্র ধূলিকণা বা সূক্ষ্ম তন্তু শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে প্রবেশ করে সেখানে জমে বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টি করতে পারে।
তবে কর্মক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী যথাযথভাবে ব্যবহার করলে এসব ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। এ বিষয়ে আমাদের সচেতনতার যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। তাই ‘অকুপেশনাল হেলথ’ বা জীবিকাসংক্রান্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়েও আমাদের আরও মনোযোগী হতে হবে।
ফুসফুসের সুস্থতার জন্য সব সময় বড় কোনো উদ্যোগের প্রয়োজন হয় না। ছোট কিছু পদক্ষেপ সম্মিলিতভাবে বড় সুফল বয়ে আনতে পারে। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ফুসফুসের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আমাদের আরও মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।
শুধু রোগের চিকিৎসা নয়, রোগ প্রতিরোধেও উদ্যোগী হওয়ার এখনই সময়। সুস্থ ফুসফুসের জন্য ধূমপান থেকে বিরত থাকা, বায়ুদূষণ কমাতে সচেতন হওয়া, কর্মক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করা এবং সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি। করোনাভাইরাস মহামারি আমাদের এই শিক্ষাই দিয়েছে–রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধে সচেতন হওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

[লেখক: রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়]

আরও পড়ুন

×