ঢাকা মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে মানতে হবে নিয়ম

অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে মানতে হবে নিয়ম
×

ডা. খাজা নাজিমউদ্দীন

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৪৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

অ্যান্টিবায়োটিক এখন আর শুধু চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। হাতুড়ে চিকিৎসক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের কাছেও এটি সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। একটু অসুস্থবোধ করলেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই লোকজন গোগ্রাসে গিলছেন অ্যান্টিবায়োটিক। এর থেকে শিশুরাও বাদ যাচ্ছে না। সামান্য জ্বর হলে অনেক অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের বোতল বোতল অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করাচ্ছেন।
আমাদের দেশে এবং তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে মানুষের অজ্ঞতা এবং অনেক ক্ষেত্রে দায়িত্বহীনতার কারণে মানুষের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বা প্রতিরোধ্যতা তৈরি হচ্ছে।
অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স যেভাবে তৈরি হয় ব্যাকটেরিয়া তার জেনেটিক মিউটেশনের মাধ্যমে রেজিস্ট্যান্ট হয়ে ওঠে। আর একটি ব্যাকটেরিয়া রেজিস্ট্যান্ট হওয়া মাত্রই তা বিভিন্নভাবে অন্য ব্যাকটেরিয়াকে রেজিস্ট্যান্ট করে ফেলে। কখনও প্লাসমিডের মাধ্যমে, আবার কখনও বা জাম্পিং জিনের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া এই কাজ করে। অ্যান্টিবায়োটিকের ভুল ব্যবহারের জন্য মূলত এমনটা হয়। ওষুধের ডোজ ভুল হওয়া, পর্যাপ্ত দিন পর্যন্ত ওষুধ সেবন না করা এবং সর্বোপরি সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা না হলে এ ধরনের বিপত্তি দেখা দিতে পারে। প্রথম দুটো ভুল নিজেরা সংশোধন করতে পারলেও তৃতীয়টির জন্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং প্রয়োজনীয় ইনভেস্টিগেশনের ব্যাপারটি জড়িত। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও আমাদের দেশে আইন সেভাবে মানা হয় না। এনটেরিক ফিভার বা টাইফয়েড জ্বরের জন্য একসময় সিপ্রোফ্লক্সাসিন নামের অ্যান্টিবায়োটিক যথেষ্ট কার্যকর থাকলেও এখন আর আগের মতো কাজ করে না। শুধু অনুমানের ভিত্তিতে ওষুধের যথেচ্ছ ব্যবহারের জন্য এমনটা হয়েছে। এখন টাইফয়েড রোগের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন হয় তৃতীয় প্রজন্মের সেফালোস্পোরিন গ্রুপের অ্যান্টিবায়োটিক। অনেক ক্ষেত্রে মুখে ওষুধ দিয়ে কাজ না হলে বাধ্য হয়ে শিরাপথেও ওষুধ দিতে হয়। রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়েছে কোট্রাইমোক্সাজল ও টেট্রাসাইক্লিনের মতো নানা কম দামের কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিকের। টিবি রোগীরাও ইদানীং ব্যাপক হারে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের শিকার হচ্ছে। করোনার চিকিৎসার নামে অ্যাজিথ্রোমাইসিনের মতো শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিকও মুড়িমুড়কির মতো ব্যবহৃত হয়েছে। মনে রাখতে হবে, রোগ নিরাময়ে অ্যান্টিবায়োটিক বহু গবেষণা আর ট্রায়ালের পরই কেবল ব্যবহৃত হয়। অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ যেন মামুলি দাওয়াই হিসেবে ব্যবহৃত না হয়, সেদিকে সবার নজর রাখা জরুরি।

আরও পড়ুন

×