সাবান শ্যাম্পু ডিটারজেন্ট টুথপেস্টেরও রেকর্ড দাম
ছবি: ফাইল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১২:০০
নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এখন রেকর্ড দামে বেচাকেনা হচ্ছে সাবান, ডিটারজেন্ট, শ্যাম্পু ও টুথপেস্টের মতো নিত্য ব্যবহার্য পণ্য। গত দুই মাসে প্রতি পিস সুগন্ধি সাবানের দাম বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা, ডিটারজেন্ট পাউডারের কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ৩০ টাকা। একই সঙ্গে শ্যাম্পুর বোতলে ২০ থেকে ৩০ টাকা এবং টুথপেস্টের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। রাজধানীর মালিবাগ, কারওয়ান বাজার, তেজকুনিপাড়াসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে দামের এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
উৎপাদন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, বিশ্ববাজারে এসব পণ্য তৈরির কাঁচামাল ও ডলারের দাম বেড়ে যাওয়া, জাহাজ ভাড়া ও দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে তাদের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এ কারণে দাম কিছুটা বাড়লেও তা উৎপাদন খরচ বাড়ার চেয়ে তুলনামূলক কম।
ইউনিলিভারের ১০০ গ্রাম ওজনের একটি লাক্স সাবানের দাম ছিল ৪৫ টাকা, যা এখন ৫৫ টাকা। একই ওজনের ৪০ থেকে ৪৫ টাকার লাইফবয় সাবানের দাম এখন ৫০ টাকা। ১০ টাকা বেড়ে স্কয়ার গ্রুপের ১০০ গ্রাম ওজনের মেরিল সাবান বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। মাস তিনেক আগে ৭৫ গ্রাম ওজনের একটি ডেটল সাবানের খুচরা দাম ছিল ৪২ টাকা। যা ১৩ টাকা বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে ৫৫ টাকায়। তিব্বতের ১১৫ গ্রাম ওজনের স্যান্ডেলিনা সাবান ১০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৬৫ টাকা।
বর্তমানে এক কেজি রিন ডিটারজেন্ট পাউডারের দাম ১৮০ টাকা। মাস দুয়েক আগেও এই পাউডার পাওয়া যেত ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। হুইল পাউডারের কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। আধা কেজি ওজনের সার্ফ এক্সেল পাউডারের দাম ছিল ৯৯ টাকা। ৪১ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। আর এক কেজির দাম আগে ছিল ২০০ থেকে ২১০ টাকা, যা এখন কিনতে লাগছে ২৮০ টাকা। তিব্বতের ফাস্ট ওয়াশের কেজি ১২০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৭০ টাকা।
এতদিন কাপড় ধোয়ার একটি হুইল সাবান পাওয়া যেত ২০ থেকে ২৫ টাকায়। দাম বেড়ে এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা। ১২৫ গ্রাম ওজনের একটি চাকা বল সাবানে ৬ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ টাকা।
হাঁড়ি-পাতিল পরিস্কার করার ৩০ টাকার (৩০০ গ্রাম) ভিমবারের দাম ১৯ টাকা বেড়ে হয়েছে ৪০ টাকা। বোতলজাত তরল ভিমের দাম ১১০ টাকা (৫০০ গ্রাম) থেকে বেড়ে হয়েছে ১৫০ টাকা। দাম বাড়ার তালিকায় পিছিয়ে নেই টুথপেস্টও। ২০০ গ্রাম ওজনের একটি পেপসোডেন্ট পেস্টের দাম ২০ টাকা বেড়ে হয়েছে ১৪০ টাকা।
শ্যাম্পুর দামও বেড়েছে অস্বাভাবিক। মাসখানেক আগে ১৭০ গ্রামের সানসিল্ক্ক শ্যাম্পু বিক্রি হয়েছে ২০০ টাকা। ৩০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকা। ডাব শ্যাম্পুর বোতল ২৫০ টাকা, যা আগে ছিল ২১০-২২০ টাকা।
কী কারণে দাম বেড়েছে জানতে চাইলে ইউনিলিভারের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) জাহিদ মালিথা বলেন, সাবান, ডিটারজেন্ট, শ্যাম্প ও টুথপেস্ট উৎপাদনের ৮০ শতাংশ কাঁচামালই বিদেশ থেকে আনতে হয়। বিশ্ববাজারে কাঁচামাল ও ডলারের দাম বাড়লে দেশে পণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। ফলে দামের ওপর প্রভাব পড়ে। ২০২০ সালে ইউনিলিভারের ৫০০ গ্রামের ওয়াশিং পাউডারের দাম ছিল ৬০ টাকা, এখন তা ৯০ টাকা। অর্থাৎ ৫০ শতাংশ দাম বেড়েছে। তবে কাঁচামাল ও অন্যান্য খরচসহ উৎপাদন খরচ বেড়েছে ৯৬ শতাংশ। গত দুই বছরে টুথপেস্টের দাম বেড়েছে ৬ শতাংশ।
তিন কারণে এসব পণ্যের দাম বেড়েছে বলে জানান স্কয়ার টয়লেট্রিজের হেড অব লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স মোহাম্মদ আলী ইমরান। তিনি বলেন, হঠাৎ এসব পণ্যের দাম বাড়েনি। বিশ্ববাজারে কাঁচামালের দাম ও জাহাজ ভাড়া অস্বাভাবিক বেড়েছে। দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে অভ্যন্তরীণ পরিবহন খরচও বেড়েছে।
কল্লোল গ্রুপ অব কোম্পানির ব্যবস্থাপক মহিদুল হাসান বলেন, আগে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ টাকা পরিশোধ করেই ব্যাংকে এলসি খোলা যেত। এখন এলসি খোলার সময় পুরো টাকা দিতে হয়। গত এক-দুই বছরে জাহাজ ভাড়া বেড়ে এখন দ্বিগুণ হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, দাম বাড়ার যৌক্তিক কারণ খতিয়ে দেখতে ছয় সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কারখানা পরিদর্শন করে আগামী এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে। প্রতিবেদনের তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- সাবান
- শ্যাম্পু
- ডিটারজেন্ট
- টুথপেস্ট