কঠিন সংকটে এসএমই খাত
×
শেখ আবদুল্লাহ
প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২০ | ১২:৫৫ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
এমন বিপদে কখনও পড়েননি একরামুল হক। পহেলা বৈশাখ ও ঈদ এলে বছরের সবচেয়ে বেশি ব্যস্ততা থাকে তার। অথচ করোনার এ ক্রান্তিকালে অখণ্ড অবসরে দুশ্চিন্তাকে সঙ্গী করে দিন কাটছে এই উদ্যোক্তার। এসএমই উদ্যোক্তা একরামুল খুব বড় কিছু করেন, তা নয়। কাগজের ব্যাগ, ঠোঙ্গা ও প্যাকেটই তার দুনিয়া। করোনার বন্দিদশায় এবারের সবকিছুই ভেস্তে যেতে বসেছে। বৈশাখ ও ঈদে দোকানগুলোতে গ্রাহকের হাতে পণ্য তুলে দেওয়ার প্যাকেট বা ব্যাগ সরবরাহের ব্যবসাটা এবার শেষ।
তার মতো একই অবস্থায় পড়েছেন চুয়াডাঙ্গার শেখ সাদী, অনলাইনে থ্রিপিসের ব্যবসায়ী শামীম আহমেদ, শাড়ির দোকানদার আব্দুর রহমান, ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসায়ী আবু জাফরসহ এসএমই খাতের ব্যবসায়ীরা। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সৃষ্টি হওয়া পরিস্থিতিতে টিকে থাকার চ্যালেঞ্জে পড়েছে এ খাত। পণ্য সরবরাহের ব্যবস্থা না থাকায় বিভিন্ন খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান, কুটিরশিল্প, হস্তশিল্পগুলোর উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। একই কারণে এ ধরনের ছোট ছোট সেবা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দেশের কয়েক লাখ ছোট উদ্যোক্তা টিকে থাকার চ্যালেঞ্জে পড়েছেন। পাশাপাশি বেকার হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন কয়েক লাখ কর্মী।
এমদাদুল হক বলেন, এবারের বৈশাখ ও ঈদ উপলক্ষে গতবছরের চেয়ে বেশি অর্ডারও পেয়েছিলেন। সেজন্য তিনি কাগজ কিনে, প্রেস থেকে প্রিন্ট করে ব্যাগ তৈরির কাজও করে ফেলেছেন। এমন সময় করোনা ধাক্কায় দেশের সব দোকানপাট বন্ধ। ফলে একটি অর্ডারও সরবরাহ করতে পারেননি। কর্মীদের ছুটি দিয়ে ঘরে বসে আছেন তিনি।
সামনে ধান কাটার মৌসুম আসছে। গম-ভুট্টাও উঠতে শুরু করেছে। কৃষি যন্ত্রপাতির চাহিদা বাড়ে এ সময়। কিন্তু এ খাতে অনেক প্রতিষ্ঠান নিজেদের তৈরি ও আমদানি করা ধান কাটা, মাড়াই, ঝাড়াই মেশিন নিয়ে বসে আছে। ক্রেতারা কিনতে চাইলেও তা সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। চুয়াডাঙ্গার দর্শনার দামুড়হুদাতে কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরি করে এগ্রো মেশিনারি ইন্ডাস্ট্রিজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ সাদী সমকালকে বলেন, নিজেদের তৈরি করা মাড়াই ও ঝাড়াই যন্ত্র কোনোটাই তৈরি হচ্ছে না। আবার আমদানি করা মেশিনও বিক্রি হচ্ছে না। তিনি বলেন, নেত্রকোনার বারহাট্টা এলাকার রফিকুল ইসলাম তার থেকে ধান কাটার মেশিন কেনার জন্য আগাম টাকাও দিয়েছেন। কিন্তু আমদানি করা মেশিন চট্টগ্রাম বন্দরে আটকে থাকায় তা সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। আবার শরীয়তপুরের রিপন ও ঝিনাইদহের শৈলকূপার রহিমকেও গম কাটার মেশিন সরবরাহ করতে পারেননি তিনি।
ফেসবুকে একটি পেজ খুলে থ্রিপিস বিক্রি করেন শামীম আহমেদ। স্বামী-স্ত্রী দু'জনে এ ব্যবসা করছেন দু'বছর ধরে। দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর থেকে তাদের বিক্রি ধারাবাহিকভাবে কমছে। শামীম বলেন, আগে দিনে এক থেকে দেড়শ' থ্রিপিসের অর্ডার থাকত। এখন মোটেই অর্ডার নেই।
আরও খারাপ অবস্থা ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসায়। পুরো বিশ্বের মানুষ ঘরে আটকে পড়ায় এ খাতের ব্যবসায় ব্যাপক ধস নেমেছে। অনেকে গ্রাহকের জন্য টিকিট ও হোটেল বুকিং করে লোকসানেও পড়েছেন। কনকর্ড ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু জাফর বলেন, সব ধরনের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। যে কারণে সব ধরনের ভ্রমণও বন্ধ। এতে তার প্রতিষ্ঠানে প্রচুর বুকিং বাতিল হয়েছে। এখন কোনো কাজ নেই। ফলে ব্যাপক সংকটে পড়েছেন।
এসএমই খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অন্য প্রতিষ্ঠানের জন্য পণ্য তৈরি করে বা সেবা সরবরাহ করে থাকে। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান নিজেরাই পণ্য বিক্রি করে। শিল্প ও সেবা খাতের কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ। সাধারণ কেনাকাটাও নেই। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের পণ্য ও সেবা কেউ নিচ্ছে না। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান বা বাজার সমিতি থেকে নেওয়া ঋণের বোঝা বড় হচ্ছে। আবার যেসব প্রতিষ্ঠানে পণ্য বা সেবা বাবদ পাওনা রয়েছে, সেগুলোও আটকা পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে এসএমই খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর টিকে থাকাই দায়।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিআরআইর নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর এ বিষয়ে রোববার সমকালকে বলেন, এ দুর্যোগে ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। অবস্থার দ্রুত উন্নতি না হলে অনেকে ব্যবসা থেকে ছিটকে পড়বেন। এজন্য এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের পাশে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে এ ধরনের উদ্যোক্তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভাড়ার বিষয়ে সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যাতে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও তারা উচ্ছেদ না হয়।
একইভাবে এ সময় চামড়া ও পাটজাতপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, ট্রাভেল ব্যাগ, মানিব্যাগ, বেল্ট, ফ্যাশনপণ্য, হস্ত ও কারুশিল্পপণ্য, উপহারসামগ্রী, শাড়ি, থ্রিপিস, ফতুয়া, বেডশিট, বালিশের কভার, বিভিন্ন বুটিকসামগ্রী, শোপিস. বাঁশ-বেতের পণ্যের চাহিদাও বাড়ে। বিভিন্ন বিপণিবিতানে, ব্র্যান্ডশপে এসব খাতের প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য সরবরাহ করে থাকে। প্রত্যেকেরই পণ্য বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে। আবার ফেসবুক বা ওয়েবসাইট খুলে অনলাইনে পণ্য বিক্রি করেন যারা তাদের বেচাকেনাও বন্ধ।
মাছ, হাস-মুরগি, গবাদিপশুর ব্যবসায়ী এবং এ খাতের খাদ্য ও ওষুধ তৈরি প্রতিষ্ঠানগুলোও সমস্যায় পড়েছে। অনেকে পণ্য পৌঁছতে পারছেন না। আবার অনেকে পণ্য তৈরি করতে পারছেন না। এতে খামারিরা যেমন খাদ্য, ওষুধ পেতে ভোগান্তিতে পড়ছেন, আবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো পড়েছে লোকসানে।
আবার সবকিছু বন্ধ থাকায় দোকানদার, হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরাও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বেচাকেনা না থাকায় ঘর ভাড়া ও কর্মীদের বেতন, ঋণের সুদ পরিশোধ নিয়ে তারাও চাপে আছেন। রাজধানীর মৌচাক মার্কেটের শাড়ি ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান বলেন, তিনি তার ভাইসহ মোট ছয়জন এ দোকানে বসেন। নিজেদের ও চারজন কর্মীর পরিবার চলে দোকানের আয়ের ওপর। এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।
দেশের এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের মূলধনের অভাব রয়েছে। পণ্য বিপণন সুবিধা খুবই কম। এসব ব্যবসায়ী কাঁচামাল সরবরাহকারী ও তৈরি পণ্যের ক্রেতাদের কাছে অনেকটা জিম্মি। এরপর এ ধরনের পরিস্থিতি বাংলাদেশে আগে কখনও হয়নি। ফলে স্বল্প পুঁজির কয়েক লাখ ব্যবসায়ী তাদের প্রতিষ্ঠান টেকানো নিয়ে এখন শঙ্কায় আছেন। দ্য ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন ফর স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজেস ইন এশিয়া পরিচালিত একটি গবেষণা থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের জিডিপিতে এসএমই খাতের অবদান মাত্র ২০ দশমিক ২৫ শতাংশ। এ খাতটি বাংলাদেশের মোট কর্মসংস্থানের ৩৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ পূরণ করছে। গত বছর বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপ ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) বাংলাদেশের করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে গড় হিসাবে বাংলাদেশেই এসএমই খাতে বিনিয়োগ সবচেয়ে সীমিত পরিমাণে হয়।
তার মতো একই অবস্থায় পড়েছেন চুয়াডাঙ্গার শেখ সাদী, অনলাইনে থ্রিপিসের ব্যবসায়ী শামীম আহমেদ, শাড়ির দোকানদার আব্দুর রহমান, ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসায়ী আবু জাফরসহ এসএমই খাতের ব্যবসায়ীরা। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সৃষ্টি হওয়া পরিস্থিতিতে টিকে থাকার চ্যালেঞ্জে পড়েছে এ খাত। পণ্য সরবরাহের ব্যবস্থা না থাকায় বিভিন্ন খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান, কুটিরশিল্প, হস্তশিল্পগুলোর উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। একই কারণে এ ধরনের ছোট ছোট সেবা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দেশের কয়েক লাখ ছোট উদ্যোক্তা টিকে থাকার চ্যালেঞ্জে পড়েছেন। পাশাপাশি বেকার হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন কয়েক লাখ কর্মী।
এমদাদুল হক বলেন, এবারের বৈশাখ ও ঈদ উপলক্ষে গতবছরের চেয়ে বেশি অর্ডারও পেয়েছিলেন। সেজন্য তিনি কাগজ কিনে, প্রেস থেকে প্রিন্ট করে ব্যাগ তৈরির কাজও করে ফেলেছেন। এমন সময় করোনা ধাক্কায় দেশের সব দোকানপাট বন্ধ। ফলে একটি অর্ডারও সরবরাহ করতে পারেননি। কর্মীদের ছুটি দিয়ে ঘরে বসে আছেন তিনি।
সামনে ধান কাটার মৌসুম আসছে। গম-ভুট্টাও উঠতে শুরু করেছে। কৃষি যন্ত্রপাতির চাহিদা বাড়ে এ সময়। কিন্তু এ খাতে অনেক প্রতিষ্ঠান নিজেদের তৈরি ও আমদানি করা ধান কাটা, মাড়াই, ঝাড়াই মেশিন নিয়ে বসে আছে। ক্রেতারা কিনতে চাইলেও তা সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। চুয়াডাঙ্গার দর্শনার দামুড়হুদাতে কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরি করে এগ্রো মেশিনারি ইন্ডাস্ট্রিজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ সাদী সমকালকে বলেন, নিজেদের তৈরি করা মাড়াই ও ঝাড়াই যন্ত্র কোনোটাই তৈরি হচ্ছে না। আবার আমদানি করা মেশিনও বিক্রি হচ্ছে না। তিনি বলেন, নেত্রকোনার বারহাট্টা এলাকার রফিকুল ইসলাম তার থেকে ধান কাটার মেশিন কেনার জন্য আগাম টাকাও দিয়েছেন। কিন্তু আমদানি করা মেশিন চট্টগ্রাম বন্দরে আটকে থাকায় তা সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। আবার শরীয়তপুরের রিপন ও ঝিনাইদহের শৈলকূপার রহিমকেও গম কাটার মেশিন সরবরাহ করতে পারেননি তিনি।
ফেসবুকে একটি পেজ খুলে থ্রিপিস বিক্রি করেন শামীম আহমেদ। স্বামী-স্ত্রী দু'জনে এ ব্যবসা করছেন দু'বছর ধরে। দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর থেকে তাদের বিক্রি ধারাবাহিকভাবে কমছে। শামীম বলেন, আগে দিনে এক থেকে দেড়শ' থ্রিপিসের অর্ডার থাকত। এখন মোটেই অর্ডার নেই।
আরও খারাপ অবস্থা ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসায়। পুরো বিশ্বের মানুষ ঘরে আটকে পড়ায় এ খাতের ব্যবসায় ব্যাপক ধস নেমেছে। অনেকে গ্রাহকের জন্য টিকিট ও হোটেল বুকিং করে লোকসানেও পড়েছেন। কনকর্ড ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু জাফর বলেন, সব ধরনের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। যে কারণে সব ধরনের ভ্রমণও বন্ধ। এতে তার প্রতিষ্ঠানে প্রচুর বুকিং বাতিল হয়েছে। এখন কোনো কাজ নেই। ফলে ব্যাপক সংকটে পড়েছেন।
এসএমই খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অন্য প্রতিষ্ঠানের জন্য পণ্য তৈরি করে বা সেবা সরবরাহ করে থাকে। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান নিজেরাই পণ্য বিক্রি করে। শিল্প ও সেবা খাতের কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ। সাধারণ কেনাকাটাও নেই। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের পণ্য ও সেবা কেউ নিচ্ছে না। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান বা বাজার সমিতি থেকে নেওয়া ঋণের বোঝা বড় হচ্ছে। আবার যেসব প্রতিষ্ঠানে পণ্য বা সেবা বাবদ পাওনা রয়েছে, সেগুলোও আটকা পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে এসএমই খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর টিকে থাকাই দায়।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিআরআইর নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর এ বিষয়ে রোববার সমকালকে বলেন, এ দুর্যোগে ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। অবস্থার দ্রুত উন্নতি না হলে অনেকে ব্যবসা থেকে ছিটকে পড়বেন। এজন্য এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের পাশে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে এ ধরনের উদ্যোক্তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভাড়ার বিষয়ে সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যাতে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও তারা উচ্ছেদ না হয়।
একইভাবে এ সময় চামড়া ও পাটজাতপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, ট্রাভেল ব্যাগ, মানিব্যাগ, বেল্ট, ফ্যাশনপণ্য, হস্ত ও কারুশিল্পপণ্য, উপহারসামগ্রী, শাড়ি, থ্রিপিস, ফতুয়া, বেডশিট, বালিশের কভার, বিভিন্ন বুটিকসামগ্রী, শোপিস. বাঁশ-বেতের পণ্যের চাহিদাও বাড়ে। বিভিন্ন বিপণিবিতানে, ব্র্যান্ডশপে এসব খাতের প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য সরবরাহ করে থাকে। প্রত্যেকেরই পণ্য বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে। আবার ফেসবুক বা ওয়েবসাইট খুলে অনলাইনে পণ্য বিক্রি করেন যারা তাদের বেচাকেনাও বন্ধ।
মাছ, হাস-মুরগি, গবাদিপশুর ব্যবসায়ী এবং এ খাতের খাদ্য ও ওষুধ তৈরি প্রতিষ্ঠানগুলোও সমস্যায় পড়েছে। অনেকে পণ্য পৌঁছতে পারছেন না। আবার অনেকে পণ্য তৈরি করতে পারছেন না। এতে খামারিরা যেমন খাদ্য, ওষুধ পেতে ভোগান্তিতে পড়ছেন, আবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো পড়েছে লোকসানে।
আবার সবকিছু বন্ধ থাকায় দোকানদার, হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরাও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বেচাকেনা না থাকায় ঘর ভাড়া ও কর্মীদের বেতন, ঋণের সুদ পরিশোধ নিয়ে তারাও চাপে আছেন। রাজধানীর মৌচাক মার্কেটের শাড়ি ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান বলেন, তিনি তার ভাইসহ মোট ছয়জন এ দোকানে বসেন। নিজেদের ও চারজন কর্মীর পরিবার চলে দোকানের আয়ের ওপর। এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।
দেশের এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের মূলধনের অভাব রয়েছে। পণ্য বিপণন সুবিধা খুবই কম। এসব ব্যবসায়ী কাঁচামাল সরবরাহকারী ও তৈরি পণ্যের ক্রেতাদের কাছে অনেকটা জিম্মি। এরপর এ ধরনের পরিস্থিতি বাংলাদেশে আগে কখনও হয়নি। ফলে স্বল্প পুঁজির কয়েক লাখ ব্যবসায়ী তাদের প্রতিষ্ঠান টেকানো নিয়ে এখন শঙ্কায় আছেন। দ্য ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন ফর স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজেস ইন এশিয়া পরিচালিত একটি গবেষণা থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের জিডিপিতে এসএমই খাতের অবদান মাত্র ২০ দশমিক ২৫ শতাংশ। এ খাতটি বাংলাদেশের মোট কর্মসংস্থানের ৩৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ পূরণ করছে। গত বছর বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপ ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) বাংলাদেশের করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে গড় হিসাবে বাংলাদেশেই এসএমই খাতে বিনিয়োগ সবচেয়ে সীমিত পরিমাণে হয়।
