ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

মরিচ এখনও ৩০০ টাকার ওপরে, মাছের বাজারে ক্রেতা হতাশ

মরিচ এখনও ৩০০ টাকার ওপরে, মাছের বাজারে ক্রেতা হতাশ
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৩ | ১৮:০০

কোরবানি ঈদের পর থেকে মাছের বাজার চড়া। রুই-কাতলা থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের মাছের দামই বেড়েছে কেজিতে ২০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত। ব্যবসায়ীদের দাবি, চাহিদা অনুযায়ী বাজারে মাছের সরবরাহ হচ্ছে না। তাছাড়া অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়ার কারণে মাছের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

ভোক্তারা বলছেন, ব্যবসায়ীরা সবসময় নানা অজুহাতে জিনিসপত্রের দাম বাড়ালে সরকারের নজরদারি নেই। ফলে সবচেয়ে বেশি কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষকে। দামের তেজে অনেকেই চাহিদার তুলনায় কিনছেন কম। যিনি এক সময় রুই-কাতলা মাছ কিনতেন তিনি এখন খুঁজছেন তেলাপিয়া-পাঙাশ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজার থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে দেড় কেজি তেলাপিয়া মাছ কেনেন শাহীনবাগ এলাকার বাসিন্দা ইমদাদ হোসেন। মাছের দাম কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভাই দাম জিজ্ঞেস করে দ্যাখেন না, কী আগুন দর! বাসার কেউ তেলাপিয়া তেমন পছন্দ করে না। কিন্তু কী করব, অন্য মাছে তো হাত দেওন যায় না। তেলাপিয়ার কেজিই আড়াইশ টাকা।’

কোরবানি ঈদের পর গত সপ্তাহে মাছের বাজারগুলোতে বেশ কিছু দোকান বন্ধ দেখা গেলেও এ সপ্তাহে ছিল সব খোলা। মাছের সরবরাহও স্বাভাবিক। তারপরও দাম চড়া। সাধারণত স্বল্প আয়ের ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি কেনেন পাঙাশ, তেলাপিয়া, কই, সিলভার কার্প ও একেবারে ছোট আকারের রুই মাছ। গতকাল মহাখালী, তেজকুনিপাড়া, সেগুনবাগিচা ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাঙাশের কেজি ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, মাঝারি আকারের তেলাপিয়ার কেজি ২৪০ থেকে ২৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারাই জানান, ঈদের আগে এসব মাছের দাম কেজিতে ছিল যথাক্রমে ১৮০ থেকে ২২০ এবং ২২০ থেকে ২৫০ টাকা। চাষের কই মাছের কেজি ২৫০ থেকে ২৮০ এবং সিলভার কার্প ২০০ থেকে ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দিন দশেক আগেও এ দুই জাতের মাছের দাম ছিল যথাক্রমে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। ছোট আকারের রুই মাছ কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৩০ টাকা দরে।

এ ছাড়া মাঝারি আকারের রুই-কাতলার কেজি ৩৩০ থেকে ৪০০ টাকা আর বড় আকারের ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে পাবদার কেজি মানভেদে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং ট্যাংরা মাছের কেজি ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে গতকাল পাবদা ৬০০ টাকার বেশি এবং ট্যাংরা মাছ ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া শিং মাছের কেজি আকারভেদে ৩৫০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এসব মাছের বাইরে ইলিশ আর চিংড়ির দিকে যেন মধ্যবিত্তের ফিরে তাকানোও অপরাধ। ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকায়। এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম নেওয়া হচ্ছে ২১০০ থেকে ২২০০ টাকা। মানভেদে চিংড়ির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ১২০০ টাকা। তেজকুনিপাড়া বাজারের মাছ বিক্রেতা মামুন হোসেন বলেন, মাছের খাদ্যের দাম বাড়ার কারণে চাষিদের খরচ বেড়েছে। পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। এ কারণে উৎপাদন পর্যায়ে চাষিরা মাছের দাম বাড়িয়েছেন। যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।

মরিচ এখনও ৩০০ টাকার ওপরে

মাছের মতো সবজির বাজারও চড়া। প্রতিদিন আমদানি হলেও কাঁচামরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০-৩০০ টাক। কোথাও কোথাও ৩৫০ টাকা দরেও বিক্রি হতে দেখা গেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ২০ টাকা কমে বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকা দরে। আগের মতোই করলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। দেশি টমেটো ১০০ থেকে ১৫০ এবং ভারতীয় টমেটো ২০০ থেকে ২২০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। অন্যান্য সবজির দামেও বেশ চড়া।

এদিকে কোরবানির আগে মসলা জাতীয় পণ্যের দাম ছিল অস্বাভাবিক। এখন চাহিদা কমায় এখন দামও কম থাকার কথা। কিন্তু রসুনের দাম উল্টো বেড়েছে। দেশি রসুন ১৮০ এবং আমদানি করা রসুনের কেজি ২২০ থেকে ২৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কোরবানির আগে দেশি রসুন ১৩০ থেকে ১৫০ এবং আমদানি করা রসুনের দাম ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা ছিল।

তবে কিছুটা কমেছে আদা ও পেঁয়াজের দাম। গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ২০ টাকা কমে আদা বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩২০ টাকায়। দেশি পেঁয়াজের কেজি ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×