ডিজিটাল লেনদেনে নিরাপত্তায় নজরদারি বাড়াতে হবে
.
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৮:০০
ডিজিটাল লেনদেনের সঙ্গে গ্রাহকের আস্থা ও নিরাপত্তার বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা অধিকতর নিরাপদ করতে একটি সমন্বিত ও সাইবার নিরাপত্তা ইকো-সিস্টেম চালু একান্ত আবশ্যক। অন্যথায় বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর নজরদারি কার্যক্রম বাড়াতে হবে।
বৃহস্পতিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ‘সবার জন্য ডিজিটাল ব্যাংকিং: আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ব্যবধান দূরীকরণ’ শীর্ষক ফোকাস গ্রুপ আলোচনায় বক্তারা এমন মত দেন। ডিসিসিআই মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়ােজন করা হয়।
স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, বর্তমানে দেশের প্রায় ৫৪ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস সুবিধা ব্যবহার করছে। যার মাধ্যমে সহজতরভাবে আর্থিক সেবা প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। তবে সাইবার নিরাপত্তা, ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণ এবং আস্থার অভাবের কারণে এ খাতের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, ডিজিটাল ব্যবস্থার আধুনিকায়নে অন্তর্ভুক্তি, অভিগম্যতা, একত্রীকরণ এবং বিস্তার– চারটি বিষয়ের ওপর সরকার অধিক হারে গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, ডাটা নিবন্ধনের প্রক্রিয়া যথাযথ না হওয়ায় পাঁচ কোটি নাগরিকের ডেটা ডার্কওয়েবে পাওয়া গেছে। তাই ডেটা এনক্রিপশনের প্রক্রিয়া যথাযথ হওয়ার পাশাপাশি নজরদারি জোরদার করতে হবে। তিনি জানান, সরকার ব্যক্তিগত ডেটা সংরক্ষণ অধ্যাদেশ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা আগামী এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে আশা করা যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ড. এজাজুল ইসলাম বলেন, ডেবিট, ক্রেডিট, ডিপোজিট, ইন্স্যুরেন্স এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রভৃতি আর্থিক সেবায় দেশ বহুদূর এগিয়েছে। তবে অধিক সংখ্যক জনগণকে এ ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। এ পর্যন্ত আর্থিক খাতে লেনদেনের ডিজিটাল পেমেন্ট ২৭ থেকে ২৮ শতাংশ। বাকি পেমেন্ট প্রথাগত ব্যবস্থার মাধ্যমে হয়ে থাকে।
মূল প্রবন্ধে রবি আজিয়াটার হেড অব কমার্শিয়াল পার্টনারশিপ সানজিদ হাসান বলেন, দেশের ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের বাজার ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার সুযোগ রয়েছে। তবে এটিকে নিরাপদ করতে হলে একটি সমন্বিত ও সাইবার নিরাপত্তা ইকো-সিস্টেম চালু একান্ত আবশ্যক, অন্যথায় বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি কার্যক্রম আরও বাড়াতে হবে।
ডিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. ইলিয়াস জিকো বলেন, আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে গ্রহাকদের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। প্রতিদিন ১০ থেকে ২০ কোটি টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে লেনদেন হচ্ছে। তাই সবাইকে এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে।
- বিষয় :
- ডিজিটাল লেনদেন
