গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ চেম্বার নেতারা
টিকে থাকা দুর্বল কারখানায় দ্রুত অর্থ সহায়তা জরুরি
ছবি : সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬ | ০১:০৩
একটি কারখানা একবার বন্ধ হয়ে গেলে, সেটিকে আবার সচল করা অত্যন্ত কঠিন। তাই বন্ধ শিল্পে নতুন অর্থ ঢালার পরিবর্তে যেসব শিল্প এখনও চালু আছে কিন্তু দুর্বল অবস্থায় রয়েছে, সেগুলোকে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, এতে কর্মসংস্থান রক্ষা হবে এবং অর্থনীতির ওপর চাপও কমবে।
গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে ব্যবসায়ী নেতারা এই দাবি জানান।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, শিল্প খাত সচল রাখতে কার্যকর চলতি মূলধন সহায়তা দরকার। একই সঙ্গে সুদহার কমানো, দণ্ড সুদ কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রায় পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। করোনা-পরবর্তী সময় থেকেই শিল্প খাতে কার্যকর মূলধনের সংকট দেখা দেয়। পরে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া, সুদহার বেড়ে যাওয়া, টাকার অবমূল্যায়ন ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এতে উৎপাদন খাত বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারও মনে করে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হলে শিল্প খাতকে টিকিয়ে রাখতে হবে। কীভাবে বিদ্যমান শিল্পকারখানাগুলো সচল রাখা যায় এবং উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবগুলো ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। শিগগিরই এসব বিষয়ে কিছু সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এলসি সীমা-সংক্রান্ত জটিলতা কমানোর দাবি জানানো হয়। তারা বলেন, যেসব এলসি সীমা অতিক্রম করেছে, সেগুলো আলাদাভাবে ব্লক করে মূল সীমা সচল রাখলে ব্যবসা পরিচালনা সহজ হবে। সিআইবি রিপোর্টে ‘গ্রুপ কনসেপ্ট’ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
তাদের অভিযোগ, একই পরিচালক থাকার কারণে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে গ্রুপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে একটি প্রতিষ্ঠান সমস্যায় পড়লে, অন্য ভালো প্রতিষ্ঠানও নেতিবাচক সিআইবি রিপোর্টের কারণে ক্ষতির মুখে পড়ে। এ কারণে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে আলাদাভাবে মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সুদহার প্রসঙ্গে বিসিআই সভাপতি বলেন, ব্যাংকগুলোর তহবিল ব্যয় ৮ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে হলেও অতিরিক্ত স্প্রেড যোগ করে ঋণের সুদ ১৪ থেকে ১৫ শতাংশে নেওয়া হচ্ছে। সরকার চাইলে এই স্প্রেড কমিয়ে শিল্প খাতকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। ঋণখেলাপি হওয়ার পর অতিরিক্ত দণ্ড সুদের কারণে শিল্পকারখানার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়। শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে শাস্তি না দিয়ে বরং কীভাবে তারা ঘুরে দাঁড়িয়ে ঋণ পরিশোধে সক্ষম হয়, সেই পরিবেশ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়নে অনাগ্রহী।
আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী আরও বলেন, গ্যাস সংকট, গ্যাসের মূল্য ২৮৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি, উচ্চ সুদহার ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান টিকে থাকার লড়াই করছে। শিল্প শুধু ব্যক্তির সম্পদ নয়, এটি জাতীয় সম্পদ। তাই সম্ভাবনাময় শিল্পগুলোকে রক্ষায় সরকারের বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন। রপ্তানি খাতে নগদ সহায়তা এপ্রিল পর্যন্ত অর্থ ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে গভর্নর আশ্বাস দিয়েছেন। এ ছাড়া তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেতন সহায়তার প্রয়োজনীয়তা আগের তুলনায় কমে এসেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, মো. জসিম উদ্দিন, বিসিআইর সাবেক সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান, বিসিএমইএর সভাপতি মইনুল ইসলাম স্বপন, বিএমএএমএর সভাপতি মতিউর রহমান, বিজিএপিএমইএ সভাপতি মো. শাহরিয়ার ও বিসিআইর সহসভাপতি প্রীতি চক্রবর্তীসহ অনেকে।
