ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা

পরিশোধিত মূলধন ২ হাজার কোটি না হলে নগদ লভ্যাংশ নয়

পরিশোধিত মূলধন ২ হাজার কোটি না হলে নগদ লভ্যাংশ নয়
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬ | ২২:২৩

ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণার নিয়ম আরও কঠোর করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ২ হাজার কোটি টাকার কম হলে তারা ২০২৬ সালের জন্য নগদ লভ্যাংশ দিতে পারবে না। একই সঙ্গে সব শর্ত পূরণ করলেও কোনো ব্যাংক সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিতে পারবে। শনিবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা সব ব্যাংকে পাঠানো হয়। এই নির্দেশনার আলোকে বর্তমানে নগদ লভ্যাংশ ঘোষণায় একমাত্র যোগ্য ব্র্যাক ব্যাংক। 

গত বছরের নির্দেশনার আলোকে ২০২৫ সালের জন্য কোনো ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশ বা তার বেশি হলে ওই ব্যাংক আর লভ্যাংশ দিতে পারেনি। আবার মূলধন কিংবা প্রভিশন ঘাটতিতে থাকা ব্যাংক যতো মুনাফাই করুক লভ্যাংশ দিতে দেওয়া হয়নি। এই নিয়মে এবার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে কেবল ১৬টি লভ্যাশ দিতে পেরেছে। ২০২৬ সালের জন্য এসব নির্দেশনার পাশাপাশি নতুন দুটি শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোর ভবিষ্যত ঝুঁকি মোকাবেলার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং খাতের সার্বিক মূলধন ভিত্তি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে লভ্যাংশ ঘোষণার নতুন নির্দেশনা দেওয়া হলো। পরিশোধিত মূলধন দুই হাজার কোটি টাকার কম থাকলে ওই ব্যাংক কোনো প্রকার নগদ লভ্যাংশ দিতে পারবে না। সব নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালনের পর সক্ষম ব্যাংক ঘোষিত মোট লভ্যাংশের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ নগদ দিতে পারবে। এ নির্দেশনা ২০২৬ সাল এবং পরবর্তী বছরের জন্য কার্যকর হবে।

বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে কেবল দুটি ব্যাংকের ২ হাজার কোটি টাকার বেশি পরিশোধিত মূলধন রয়েছে। এর মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংকের ৩ হাজার ২২০ কোটি এবং ব্র্যাক ব্যাংকের রয়েছে ২ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা। তবে ন্যাশনাল ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি, উচ্চ খেলাপিসহ চরম খারাপ অবস্থার কারণে ব্যাংকটি বর্তমানে সাধারণ আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার মতো অবস্থাতেও নেই।

পরিশোধিত মূলধন দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে আইএফআইসির এক হাজার ৯২২ কোটি, সিটি ব্যাংক এক হাজার ৭৪৯ কোটি, ইস্টার্ন এক হাজার ৬৪৪ কোটি, ইসলামী এক হাজার ৬১০ কোটি এবং ইউসিবির ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা রয়েছে। এসব ব্যাংকের মধ্যে সিটি ও ইস্টার্ন ছাড়া অন্য ব্যাংকগুলো বর্তমানে লভ্যাংশ দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই।

আরও পড়ুন

×