ছুটি শেষে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬ | ০৭:৪৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঈদের টানা সাত দিনের ছুটি শেষে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফের লেনদেন শুরু হয়েছে শেয়ারবাজারে। গতকাল সোমবার বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ায় প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ৩৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫৩৭২ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে। ছুটির আগে টানা পাঁচ কর্মদিবসে সূচকটি ১৩২ পয়েন্টের বেশি বেড়েছিল।
শুধু শেয়ারদর নয়, লেনদেনও বেড়েছে ঢাকার শেয়ারবাজারে। গতকাল সোমবার কেনাবেচা হয়েছে ৯১২ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের শেয়ার। এ লেনদেন ছুটির আগের শেষ কর্মদিবসের তুলনায় ১৩৩ কোটি টাকার বেশি।
বিভিন্ন ব্রোকারেজ কর্মকর্তারা বলেন, বিনিয়োগকারীদের শেয়ারবাজার নিয়ে আশাবাদী বলে মনে হচ্ছে। বিশেষত নতুন সরকার এ বাজারের উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে পুঁজির প্রধান উৎস হিসেবে শেয়ারবাজারের ভূমিকা বাড়ানোর কথা বলছে। এ লক্ষ্যে শীর্ষ নেতৃত্বে বদলসহ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তাঁর ঘোষণার কারণে বিনিয়োগকারীদের নতুন আশা তৈরি হয়েছে। আগামী জাতীয় বাজেটেও এর প্রতিফলন থাকবে বলে মনে করছেন তারা।
গতকালের শেয়ার লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কাগজ ও ছাপাখানা ছাড়া বাকি প্রায় সব খাতের বেশির ভাগ শেয়ারের দর বেড়েছে। খাতওয়ারি হিসেবে বেশি শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে প্রকৌশল এবং ব্যাংক খাতে। তবে সার্বিক হিসাবে বেশি দর বেড়েছে তথ্যপ্রযুক্তি এবং সিমেন্ট খাতের শেয়ারের।
সার্বিক হিসাবে ডিএসইতে ১৬৬ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। কমেছে ১৪৮টির। অপরিবর্তিত থেকেছে ৩৬টির দর। ব্যাংক খাতের কেনাবেচা হওয়া ৩০ কোম্পানির মধ্যে ১৮টির দর বেড়েছে, কমেছে সাতটির। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ১৫ কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে সাতটির দর কমেছে। বস্ত্র খাতের ৫৮ কোম্পানির মধ্যে ৩১টির দর বেড়েছে, কমেছে ২০টির। তবে বীমা খাতের ৫৮ কোম্পানির মধ্যে ৩৩টির দর কমেছে, বেড়েছে ১৯টির দর। আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের ছয় কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির বিপরীতে ১১টির দর কমেছে। ঈদুল আজহায় কোরবানি করা পশুর চামড়ার দর পতনের খবরে চামড়া খাতের ছয় কোম্পানির মধ্যে পাঁচটির দর কমেছে।
সার্বিক ইতিবাচক ধারার মধ্যে দরবৃদ্ধির শীর্ষে থাকা বেশির ভাগ কোম্পানি ছিল দুর্বল বা জেড ক্যাটেগরিভুক্ত শেয়ার। দরবৃদ্ধির শীর্ষ ২০ কোম্পানির মধ্যে এনসিসি ব্যাংক ছাড়া ১২টি ছিল জেড ক্যাটেগরির। বি ক্যাটেগরির শেয়ার ছিল সাতটি। এর মধ্যে ৯ শতাংশের বেশি দরবৃদ্ধি পাওয়া সাত কোম্পানির মধ্যে সোনারগাঁ টেক্সটাইল, গোল্ডেন সন, নাহী অ্যালুমিনাম এবং বিবিএস ছিল বি ক্যাটেগারিভুক্ত শেয়ার। বাকি তিনটি মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, মেঘনা পেট এবং এমারেল্ড অয়েল জেড ক্যাটেগরিভুক্ত শেয়ার।
খাতওয়ারি হিসেবে প্রকৌশল খাতে সর্বাধিক ১৫৮ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়, যা মোটের সোয়া ১৭ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪৬ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন ছিল ব্যাংক খাতের। একক কোম্পানি হিসেবে এনসিসি ব্যাংকের ৫০ কোটি টাকার লেনদেন ছিল সর্বোচ্চ। ২৮ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন নিয়ে পরের অবস্থানে ছিল ব্র্যাক ব্যাংক।
- বিষয় :
- শেয়ারবাজার
