ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্প অনুমোদন হয়নি

চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল  প্রকল্প অনুমোদন হয়নি
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬ | ০৭:৫১

| প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে থাকলেও শেষ পর্যন্ত অনুমোদন হয়নি। গতকাল মঙ্গলবার একনেক বৈঠকে প্রকল্পটি পরবর্তী সময়ে আবারও উত্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এছাড়া অপেক্ষায় থাকা খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক (তৃতীয় সংশোধন) প্রকল্পটিও ফেরত দেওয়া হয়েছে। 
এই দুটি বাদ দিয়ে একনেকে কার্যতালিকায় থাকা ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে নতুন ৫টি, ৩টি সংশোধিত ও ২টি মেয়াদ বাড়ানোর প্রকল্প। প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮৯১ কোটি টাকা। এরমধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩ হাজার ৮১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৮০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। কোনো প্রকল্পের বিদেশি ঋণ থাকছে না। 
প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি মাসের শেষ নাগাদ চীন সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। ওই সফরে দুই দেশের মধ্যকারও বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা হবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল নির্মাণ প্রকল্পটি পরবর্তী সময়ে আবারও অনুমোদনের জন্য একনেকে তোলা হবে। এ নিয়ে কোনো ধরনের জটিলতা নেই। 
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় প্রস্তাবিত চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল নির্মাণ প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৪ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। এই প্রকল্পটি থেকে এক লাখ নতুন কর্মসংস্থান এবং ৫০ কোটি ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পটির জন্য সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় হবে ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা। চীন প্রকল্প সহায়তা হিসেবে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা দেবে। 

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের ঢাকা সফরের সময় চীনা অর্থনৈতিক জোন নির্মাণের বিষয়টি আলোচনায় আসে। এ বিষয়ে তখন দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। তবে প্রকল্পটি আর এগোয়নি। 

একনেকের আলোচ্যসূচিতে থাকা খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক (তৃতীয় সংশোধন) প্রকল্পটি বৈঠকে উত্থাপিত হলেও আগের প্রকল্পটির বাস্তবায়নে দেরির কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। বিস্তারিত পর্যালোচনা করার পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে শর্তসাপেক্ষে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন ভবন নির্মাণ প্রকল্প ও সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন ভবন নির্মাণ প্রকল্পে পরামর্শক ব্যয় কমানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পের ক্ষেত্রে ভবনের উচ্চতা কিছুটা বাড়ানো এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সংযোজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

পরিকল্পনা সচিব শাকিল আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, প্রকল্প দুটি শর্তসাপেক্ষে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একনেকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংশোধন করে পুনরায় পাঠানো হলে প্রকল্প দুটি অনুমোদিত বলে গণ্য হবে। এ জন্য সেগুলোকে আবার একনেক সভায় উপস্থাপনের প্রয়োজন হবে না। 
অনুমোদন হওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বরিশাল সেচ প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়), সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক (কালাবিবির দিঘি থেকে ঈদমনি) যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৩৩টি জেলায় সার্কিট হাউস এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণ প্রকল্প-২। এছাড়াও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঢাকা সিএমএইচ-এ ক্যান্সার সেন্টার নির্মাণ (২য় পর্যায়-১ম সংশোধন), শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম সাপোর্ট (৩য় সংশোধিত) ও দেশের ৬৫৩টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন (৩য় সংশোধিত), বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতাবর্ধন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। 

আরও পড়ুন

×