নীতিমালার খসড়া প্রকাশ
চালু রাখার শর্তে সরকারি রুগ্ণ ও বন্ধ কোম্পানি হস্তান্তর
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন যেসব রুগ্ণ বা বন্ধ শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো চলছে না সেগুলোকে পুনরায় উৎপাদন কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার। তবে আগের মতো নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে নয়। আবার কেউ সম্পদ বা মালিকানা কিনে ফেলে রাখতে পারবে না। এই হস্তান্তর বা বিক্রি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিতও করতে চায় সরকার।
সরকারি শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা তাদের অব্যবহৃত জমি বা স্থাপনা হস্তান্তর, শেয়ার ও স্বত্ব হস্তান্তর বা কৌশলগত বিক্রি-সংক্রান্ত খসড়া নীতিমালায় এ কথা বলা হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ইনভেস্ট বাংলাদেশ নীতিমালার খসড়াটি প্রণয়ন করেছে।
এই নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা, নতুন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এ বিষয়ে অংশীজনের মতামত চেয়েছে তিন সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ) একীভূত করে গঠিত নতুন সংস্থা ইনভেস্ট বাংলাদেশ।
খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, রুগ্ণ ও বন্ধ কোম্পানির পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সক্রিয় ও লাভজনক কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের কোনো অব্যবহৃত জমি ও স্থাপনা হস্তান্তর করা যাবে। তবে আগের বেসরকারীকরণের মতো সম্পদ হস্তান্তর করে সরকার বসে থাকবে না। বরং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যে উদ্দেশ্যে মালিকানা বা সম্পদ নেওয়ার চুক্তি করবে, তা তারা বাস্তবায়ন করছে কিনা, তা পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা করবে। এ ক্ষেত্রে ব্যত্যয় করলে সরকার চুক্তি বাতিল করে মালিকানা ফেরত নিতে পারবে।
খসড়া নীতিমালায় কোন সরকারি সম্পদ হস্তান্তর করা হবে, তার একটি নির্দিষ্ট আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সরকারি প্রতিষ্ঠান বা সম্পদের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণে থাকা যথাযথ কর্তৃপক্ষ (মন্ত্রণালয়, বিভাগ, করপোরেশন বা সরকারি সংস্থা) তাদের অধীন অকার্যকর বা অব্যবহৃত সম্পদ চিহ্নিত করে ইনভেস্ট বাংলাদেশ নির্ধারিত ফর্মে তালিকাভুক্তির প্রস্তাব তৈরি করবে। প্রস্তাব পাওয়ার পর ১০ দিনের মধ্যে তা যাচাই করে কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবে। পরে সরকারের অনুমোদনে তা আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে।
পাশাপাশি কোনো যোগ্য দেশি বা বিদেশি বিনিয়োগকারী নিজ উদ্যোগে কোনো অকার্যকর সরকারি সম্পদ পুনরায় চালু বা আধুনিকায়নের জন্য স্বতঃপ্রণোদিত ধারণা বা প্রস্তাব জমা দিতে পারবে। এমন প্রস্তাব বলে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তা জনস্বার্থ, আইনি অবস্থা ও সম্ভাব্যতা যাচাই করে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে।
খসড়া নীতিমালা অতীতের অস্বচ্ছ ও অপ্রকাশ্য বেসরকারীকরণ প্রক্রিয়ার বিপরীতে এবার প্রতিযোগিতামূলক বাজারমূল্য নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছে। নীতিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে, কোনো সম্পদ গোপনে বা খামখেয়ালি মূল্যে হস্তান্তর করা যাবে না। বরং উন্মুক্ত দরপত্র, নিরপেক্ষ যাচাই এবং পূর্ব প্রকাশিত বস্তুনিষ্ঠ মানদণ্ডের ভিত্তিতেই প্রকৃত অর্থনৈতিক মূল্যে কৌশলগত বিক্রয়, শেয়ার হস্তান্তর বা যৌথ অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিটি লেনদেনের ক্ষেত্রে সম্পদের প্রকৃত ও ন্যায্য অর্থনৈতিক মূল্য নিরূপণে স্বাধীন পেশাদার মূল্যায়নকারী নিয়োগের বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বলা হয়, মূল্যায়নের সময় সম্পদের চলতি বাজারমূল্য, সম্ভাব্য আয়, সম্পদের নিট বর্তমান মূল্য, ক্যাশ ফ্লো, রাজস্ব অংশীদারি কিংবা তুলনামূলক বাজার তথ্য বিবেচনা করা হবে, যাতে রাষ্ট্রীয় সম্পদ কোনোভাবেই কম মূল্যে হাতবদল না হয়।
এতে সরকারি সম্পদ হস্তান্তরের পুরো কার্যক্রমকে মোট পাঁচটি সুনির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ ধাপে বিভক্ত করা হয়েছে। ধাপগুলো হলো– সম্পদ চিহ্নিতকরণ ও তালিকাভুক্তকরণ, লেনদেন প্রস্তুতি ও উন্নয়ন। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, নিবন্ধন, প্রস্তাব আহ্বান। দরপত্র মূল্যায়ন ও চুক্তি স্বাক্ষর। সর্বশেষ ধাপে লেনদেন-পরবর্তী বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও সম্পদ প্রত্যর্পণ। সম্পদ হস্তান্তর প্রক্রিয়া সমন্বিত ও প্রভাবমুক্ত রাখতে খসড়া নীতিমালায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বিনিয়োগ লেনদেন সমন্বয় ও তদারকি কমিটি গঠিত করার কথা বলা হয়েছে।
এই খসড়া নীতিমালাকে অধিকতর বাস্তবসম্মত ও বিনিয়োগবান্ধব করতে সরকার সংশ্লিষ্ট বিভাগ, শিল্প সংগঠন, বিনিয়োগকারী ও বিশেষজ্ঞদের কাছে মতামত চেয়েছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্ধারিত ছকে [email protected] ঠিকানায় ই-মেইলে পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
- বিষয় :
- নীতিমালা