ঢাকা শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ন্যায্য রূপান্তরে বিনিয়োগের অর্থায়ন সহজ করতে হবে

ন্যায্য রূপান্তরে বিনিয়োগের অর্থায়ন সহজ করতে হবে
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

জাস্ট ট্রানজিশন বা ন্যায্য রূপান্তরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন। এই বিনিয়োগের অর্থায়ন পাওয়া কঠিন। এ ধরনের অর্থায়নে ভালো নীতিমালা থাকলেও প্রক্রিয়া জটিলতায় কার্যত সহজ ঋণ সহায়তা পান না উদ্যোক্তারা। এ ধরনের অর্থায়ন সহজ ও সাশ্রয়ী করা প্রয়োজন। এ ছাড়া বিনিয়োগ পরিকল্পনা যথেষ্ট মানসম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন যাতে বিদেশি উৎস থেকে বাণিজ্যিক ঋণ পাওয়া যায়।
গতকাল বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত এক সংলাপে এমন পরমার্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ‘বাংলাদেশে ন্যায্য রূপান্তর এগিয়ে নেওয়া’ শিরোনামে দিনব্যাপী এই সংলাপ যৌথভাবে আয়োজন করে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), ঢাকায় সুইডেন দূতাবাস ও পরিবেশ অধিদপ্তর। রাজধানীর গুলশানে হোটেল রেনেসাঁয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে গবেষক, শিক্ষাবিদ, পরিবেশবিদ, শ্রমিক নেতারা অংশ নেন। 
অনুষ্ঠানে বলা হয়, ন্যায্য রূপান্তর হচ্ছে জলবায়ুর পরিবর্তন মোকাবিলা ও পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তোলা। পরিবেশ-দূষণকারী জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর অর্থনীতি থেকে পরিবেশবান্ধব বা নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর। সবুজ জ্বালানির শিল্প উৎপাদন, শ্রমিকদের শোভন কাজ, তাদের অধিকারও এর আওতায়। এই ব্যবস্থায় মালিক, শ্রমিক ও প্রতিবেশ কোনো পক্ষই ক্ষতির শিকার হবে না– এ রকম একটি বৈশ্বিক ব্যবস্থা। 

সংলাপে প্যানেল আলোচনায় বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি)  সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন,  ন্যায্য রূপান্তর সার্থক করতে বেইজ লাইন সার্ভে প্রয়োজন। প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক দুই খাতকে অন্তর্ভুক্ত করে এই জরিপ পরিচালনা করতে হবে, যাতে ন্যায্য রূপান্তরের খাত ও পেশাভিত্তিক একটি সঠিক চিত্র পাওয়া যায়। তার ভিত্তিতে প্রয়োজন পদক্ষেপ গ্রহণ। কারণ ন্যায্য রূপান্তরের ফলে অনেক শ্রমিক কাজ হারাবেন। আবার নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হবে। নতুন প্রযুক্তির কারণে কাজ হারানোর ঝুঁকিতে থাকা শ্রমিকদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন, দক্ষতা ঝালাইয়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে। কাউকে হয়তো সামাজিক সুরক্ষার আওতায় সুবিধা দিতে হবে সেজন্য বেইজ লাইন সার্ভে খুব জরুরি। সমন্বিত ব্যবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক মালিকানা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। ড. ফাহমিদা বলেন, সবুজ বিনিয়োগে অর্থায়নের সংকটের কথা শোনা যায়। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগ পরিকল্পনা এমন নিখুঁত হওয়া উচিত যাতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাণিজ্যিক ঋণ পাওয়া সহজ হয়। 

বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল ফারুক আহমেদ বলেন, ন্যায্য রূপান্তরে সবুজ কারখানা নির্মাণে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করছেন বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা। বড় ব্যয়ের এই বিনিয়োগ থেকে কোনো সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। বিদেশি ব্র্যান্ড-ক্রেতারা রপ্তানি পণ্যের উৎপাদন ব্যয় অনুযায়ী বাড়তি মূল্য দিচ্ছে না। এতে বাকি উদ্যোক্তারা নিরুৎসাহিত হন। এ ব্যাপারে আইএলও ও শ্রমিক সংগঠনগুলোকে আওয়াজ তোলার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, বেশি হারে কার্বন নিঃসরণ করে চীন ও ভারত। বাংলাদেশ মাত্র শূন্য দশমিক ৪৭ শতাংশ করছে। তবে কার্বন নিঃসরণ কোনো ভৌগোলিক সীমা মানে না। সে কারণে বাংলাদেশ অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। ভূ-রাজনীতির মাধ্যমে এই ক্ষতির প্রতিকার পেতে হবে। 
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আবুল বাশার বলেন, সবুজ অর্থায়নে নীতিমালা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী সঠিক জায়গায় ব্যাংকগুলো সবুজ অর্থায়ন করছে কিনা সেটা নিয়মিত মনিটর করছেন তারা। 

আলোচনায় ন্যাশনাল কোঅর্ডিনেশন কমিটি ফর ওয়ার্কার্স এডুকেশনের (এনসিসিডব্লিউই) চেয়ারম্যান মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, অটোমেশন ও নতুন প্রযুক্তির পরিস্থিতির কারণে নতুন কিছু চাকরি হয়েছে ঠিক তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পুরোনো শ্রমিকরা কাজ হারিয়ে বেকার হচ্ছেন। এ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে তবে কোনো ফল হয়নি। খাতভিত্তিক কমিটি করে শ্রমিকদের পরিস্থিতি বোঝা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। 
প্যানেলে আলোচনা সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশে আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন। তিনি বলেন, বিভিন্ন পর্যায়ে ন্যায্য রূপান্তরে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার রয়েছে। তবে আগামী ৩১তম জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন সামনে রেখে এখন এই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করার সময়। 

আরও পড়ুন

×