আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবসের অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী
দেড় দশকে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে খুব কম
গতকাল রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিডা কার্যালয়ের সামনে আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বােধন করেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ | ১০:৪০
শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশে গত ১২ থেকে ১৫ বছরে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় আয় বৈষম্য বেড়েছে। তিনি বলেছেন, বিগত বছরগুলোতে নতুন উদ্যোক্তা খুব কম তৈরি হয়েছে। যারা আগে থেকেই শিল্প-কারখানার মালিক ছিলেন, তারাই মূলত আরও বড় হয়েছেন। এর পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ ছিল গ্যাসের অপ্রতুলতা।
গতকাল রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ বছর আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), বাংলাদেশের সহায়তায় নানা আয়োজনে দিবসটি উদযাপন করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন।
এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন করা হয়। এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং আইএলওর প্রগ্রেস প্রকল্পের সহযোগিতায় দেশের এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসা উন্নয়ন সেবা সহজলভ্য ও আরও কার্যকর করতে বিজনেস ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেস (বিডিএস) পোর্টাল উদ্বোধন করা হয়। এ বছর আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘এআইনির্ভর ভবিষ্যতে মানুষমুখী অন্তর্ভুক্তি: আগামী প্রজন্মের এমএসএমই খাতের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন’।
অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশে যে হারে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছিল, পরে ১০-১৫ বছরে সে অনুপাত তীব্রভাবে কমেছে। ফলে অর্থনৈতিক প্রবাহ নির্দিষ্ট কিছু হাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। এটি আয় বৈষম্য বাড়ার একটি প্রধান রেসিপি। আয় বৈষম্য অনেক বেড়েছে।’
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করে আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া– এমনকি ভারত ও পাকিস্তানের জিডিপিতে এমএসএমই খাতের অবদান বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বেশি। জিডিপিতে এই খাতের অবদান মাত্র ২৫ শতাংশ। অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ গতিশীল রাখতে এমএসএমই খাতকে শক্তিশালী করার বিকল্প নেই।
নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা হচ্ছে। নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম চালু করা হচ্ছে। বিসিকের মাধ্যমে পাবনা, সিলেট ও নীলফামারীর সৈয়দপুরে নতুন শিল্প পার্ক স্থাপনের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যেসব শিল্প পার্কে প্লট শেষ হয়ে গেছে, সেখানে সম্ভাব্যতা যাচাই করে আরও পার্ক করা হবে।
গ্যাস সংকট ও শিল্পায়ন নিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কম জ্বালানি ব্যবহার করা শিল্পের দিকে বেশি নজর দেওয়া হবে। বর্তমানে যেসব কলকারখানা গ্যাস সংকটে ভুগছে, সেগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে সংকট সমাধানে কাজ চলছে।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও মেন্টরশিপ প্রদান, বিদ্যমান উদ্যোক্তাদের দক্ষতা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তাদের কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ প্রতিষ্ঠা, ঋণ সহায়তা, রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডিজাইনিং ও ব্র্যান্ডিং উন্নয়ন এবং দেশি-বিদেশি মার্কেটপ্লেসে অংশ নেওয়ার জন্য সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রম দেশের এমএসএমই খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়ক হবে।
শিল্প সচিব আব্দুন নাসের বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়, এসএমই খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। এই খাতের উন্নয়নে এমএসএমই নীতিমালা ২০২৬ মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, এসএমএফ ফাউন্ডেশন সারাদেশে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে। উদ্যোক্তাদের ব্যবসাকে প্রযুক্তি ও আইসিটিবান্ধব করে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নীতিগত সহায়তাও দেওয়া হয়েছে। তবে আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতার কারণে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা যাচ্ছে না।
শিল্প সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন উইমেন এন্ট্রাপ্রেনিউরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি নাসরীন ফাতেমা আউয়াল, আইএলও বাংলাদেশের প্রধান ম্যাক্স টুনন, এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী ও বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের (বিল্ড) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফেরদৌস আরা বেগম প্রমুখ।
- বিষয় :
- শিল্পমন্ত্রী
