ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

মতবিনিময় সভায় বিপিজিএমইএ

প্লাস্টিকের কাঁচামালের বাড়তি দামে উৎপাদন খরচ বেড়েছে

প্লাস্টিকের কাঁচামালের বাড়তি দামে উৎপাদন খরচ বেড়েছে
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬ | ০৮:২০ | আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬ | ১০:৩২

| প্রিন্ট সংস্করণ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক সংকট, বিশ্ববাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ-গ্যাসের অনিশ্চয়তায় বড় চাপে পড়েছে দেশের প্লাস্টিক শিল্প। কাঁচামালের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এতে অনেক কারখানায় উৎপাদন কমেছে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ। বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় ৩০০টি কারখানা। 

গতকাল সোমবার প্লাস্টিক শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি ও বাজেট বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান এ খাতের সংগঠন বিপিজিএমইএর সভাপতি শামীম আহমেদ। রাজধানীর পল্টনে বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সংগঠনটির সিনিয়র সহসভাপতি কে এম ইকবাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

বিপিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও প্লাস্টিক শিল্পের প্রধান কাঁচামালের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে পিভিসি রেজিন, পলিপ্রোপাইলিন, পলিইথিলিন এবং পিইটি রেজিনের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এতে বেড়েছে উৎপাদন খরচ। বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে বিভিন্ন প্লাস্টিক পণ্যের দাম তিন থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে হয়েছে। তবে বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে সব ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যয় ভোক্তার ওপর চাপানো সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ইনজেকশন মোল্ডিং, ব্লো মোল্ডিং ও এক্সট্রুশনভিত্তিক কারখানাগুলো। ঢাকায় এলাকাভেদে প্রতিদিন আধাঘণ্টা থেকে দুই ঘণ্টা এবং বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে এক থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অনেক কারখানায় উৎপাদন কমে গেছে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত। শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ, কাঁচামাল আমদানিতে সহায়তা এবং সহজ ব্যাংকিং সুবিধা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শামীম আহমেদ বলেন, এসএমই খাতের বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জেনারেটর না থাকায় উৎপাদন পুরোপুরি বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি ব্যাংক ঋণের কিস্তি, বিদ্যুৎ বিল ও পরিচালন ব্যয়ের চাপ বাড়ছে। উৎপাদন বিলম্বিত হওয়ায় রপ্তানি আদেশ সময়মতো সরবরাহ করা যাচ্ছে না। অনেক প্রতিষ্ঠানের অর্ডার বাতিল বা স্থগিত হচ্ছে। এসব কারণে অন্তত ৩০০টি প্লাস্টিক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

তবে সংকটের মধ্যেও চলতি অর্থবছরের বাজেটে প্লাস্টিক শিল্পের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর ও শুল্ক সুবিধা বহাল রাখাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিপিজিএমইএ সভাপতি। তিনি বলেন, পিভিসি রেজিন, পিইটি রেজিন এবং ফিল্ম গ্রেড পিইটি রেজিনের আমদানি শুল্ক আগের মতো বহাল রাখা হয়েছে। এতে কাঁচামালের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে এবং দেশীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় থাকবে। এ ছাড়া ওষুধ শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের আমদানি শুল্কও ৫ শতাংশ বহাল রাখা হয়েছে। প্রস্তুত প্লাস্টিক পণ্যে বিদ্যমান সম্পূরক শুল্ক অব্যাহত রাখা, কাঁচামাল আমদানিতে ইনভয়েস মূল্যের ভিত্তিতে শুল্কায়নের উদ্যোগ, কেমিক্যাল টেস্ট প্রক্রিয়া সহজীকরণ, রিসাইক্লিং পণ্যের ভ্যাট অব্যাহতি বহাল রাখা এবং রিসাইক্লিংয়ের জন্য ওয়েস্ট সরবরাহে উৎসে কর কমানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান তিনি। 

আরও পড়ুন

×