ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

গত বছর বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ ৪৪% বেড়েছে

গত বছর বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ ৪৪% বেড়েছে
×

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬ | ০৮:২০

| প্রিন্ট সংস্করণ

২০২৫ সালে বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আসার পরিমাণ আগের বছরের চেয়ে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে সমজাতীয় অর্থনীতি এবং রপ্তানিতে প্রতিযোগী বেশ কিছু দেশের তুলনায় এফডিআই আকর্ষণে বাংলাদেশ আগের মতোই অনেক পিছিয়ে আছে। বাংলাদেশে গত বছর বিদেশি বিনিয়োগ দুই বিলিয়ন বা ২০০ কোটি ডলারের নিচে। আফ্রিকার কিছু দেশ বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আছে। 

গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত জাতিসংঘের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংস্থা আঙ্কটাডের ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট ২০২৬’ বাংলাদেশসহ প্রায় ২০০ দেশের বিনিয়োগের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। গত বছর বৈশ্বিক এফডিআই বেড়েছে ৬ শতাংশ। আঙ্কটাডের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বাণিজ্য নীতিসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা বর্তমানে বিনিয়োগের ধারাকে প্রবলভাবে প্রভাবিত করছে। 
আঙ্কটাডের রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে নিট এফডিআই এসেছে ১৭৮ কোটি ডলার। এর আগের বছরের চেয়ে যা ৪৪ শতাংশ বেশি। ২০২৪ সালে ১২৩ কোটি ডলারের এফডিআই এসেছিল এবং তার আগের বছরের চেয়ে ৮ শতাংশ কম ছিল। গত বছর শেষে বাংলাদেশে এফডিআই স্থিতি দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৯৬৩ কোটি ডলার। ২০২৪ সাল শেষে যা ছিল এক হাজার ৭৮৬ কোটি ডলার।

প্রসঙ্গত, একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যে পরিমাণ পুঁজি নিয়ে আসেন, তা থেকে পুঁজি প্রত্যাবাসন বাদ দিয়ে নিট বিনিয়োগের হিসাব করা হয়। 
প্রতিবেদন অনুযায়ী স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে বিনিয়োগ প্রবাহ ২০২৫ সালে ২১ শতাংশ বেড়েছে। এলডিসিগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। তবে বাংলাদেশ হাতেগোনা কয়েকটি দেশের অন্যতম যেখানে নতুন প্রকল্পভিত্তিক বা ‘গ্রিনফিল্ড ইনভেস্টমেন্ট’ এসেছে। প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক চুক্তির উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এ চুক্তির অধীনে বাংলাদেশ একটি বিনিয়োগ স্ক্রিনিং মেকানিজম বা পদ্ধতি স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য বিনিময়ে সম্মত হয়েছে। 

বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য জানতে চাইলে পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান, অর্থনীতিবিদ ড. মাসরুর রিয়াজ সমকালকে বলেন, ২০২৫ সালে বিদেশি বিনিয়োগ আগের বছরের চেয়ে বৃদ্ধির তথ্য ইতিবাচক। তবে কয়েক বছর ধরে এফডিআইর বড় অংশ আন্তঃকোম্পানি ঋণ এবং বর্তমানের বিনিয়োগের মুনাফা থেকে পুনঃবিনিয়োগ হিসেবে আসছে। নতুন বিনিয়োগ কম আসছে, যা বাড়ানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ও সক্ষমতার তুলনায় বিদেশি বিনিয়োগ খুবই কম। বছরে যে পরিমাণ আসে, তা জিডিপির আধা শতাংশেরও কম। অর্থনীতির বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশেষত রাজস্ব সংগ্রহ, রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনা এবং কর্মসংস্থানের জন্য  বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো খুবই দরকার।  এ জন্য অর্থনৈতিক কৌশলের সঙ্গে বিনিয়োগ কৌশল সাজাতে হবে।

কারা কত বিনিয়োগ পেয়েছে
পরিসংখ্যান অনুযায়ী রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রতিযোগী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া অনেক বেশি বিনিয়োগ পেয়েছে। ভিয়েতনামে গত বছর এসেছে ২০ বিলিয়ন বা দুই হাজার কোটি ডলারের বেশি। অপরদিকে কম্বোডিয়ায় এসেছে প্রায় ৬০০ কোটি ডলার। 

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ভারতের অবস্থান সবচেয়ে শক্তিশালী। যদিও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা চলে না। ২০২৫ সালে ভারতে প্রায় তিন হাজার ৯০০ কোটি ডলারের এফডিআই এসেছে। আইসিটি এবং ইন্টারনেট অবকাঠামো খাতে গুগলের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ভারতের বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। 
আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিক ৫৬৯ কোটি ডলার বিনিয়োগ পেয়েছে। হাইড্রোকার্বন এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস প্রকল্পে বড় বিনিয়োগ মোজাম্বিককে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে রেখেছে। ইথিওপিয়ায় এসেছে ৩৮০ কোটি ডলার। দেশটি গ্রিনফিল্ড বা নতুন প্রকল্পে এবং বিশেষ করে সার কারখানার মতো উৎপাদনমুখী শিল্পে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। উগান্ডায় ২০২৫ সালে ৩৩৬ কোটি ডলার বিনিয়োগ এসেছে। তেল শোধনাগার এবং ব্যাটারি স্টোরেজ খাতে বড় বিনিয়োগ উগান্ডাকে শক্তিশালী অবস্থানে এনেছে। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো ১৮৭ কোটি ডলার বিনিয়োগ পেয়েছে। প্রাকৃতিক সম্পদ বিশেষ করে খনিজ আহরণ খাত দেশটির বিনিয়োগের প্রধান চালিকাশক্তি।

বিশ্ব পরিস্থিতি
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক এফডিআই বেড়ে এক লাখ ৬০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি দেশ ও অঞ্চলভেদে অত্যন্ত অসম। উন্নত দেশগুলোতে বেড়েছে ১১ শতাংশ; উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মাত্র ২ শতাংশ। বিশ্বের শীর্ষ ২০টি অর্থনীতি মোট বিনিয়োগের ৮০ শতাংশের বেশি আকর্ষণ করেছে। স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে বিনিয়োগ ২১ শতাংশ বেড়ে চার হাজার ৩০০ কোটি ডলার হলেও তা বৈশ্বিক এফডিআইর মাত্র ২ দশমিক ৭ শতাংশ। 

আরও পড়ুন

×