ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নে শিক্ষা খাত সবার পেছনে

উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নে শিক্ষা খাত সবার পেছনে
×

আবু হেনা মুহিব

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬ | ১২:৩৫

গুরুত্ব বিবেচনায় শিক্ষা খাতকে উন্নয়ন বাজেটের অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়। প্রতিবছরই বাজেটে বড় বরাদ্দ থাকে শিক্ষা খাতে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সর্বোচ্চ বরাদ্দের ১৫ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে শিক্ষা খাতের ৩টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ রয়েছে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে শিক্ষা খাতই সবচেয়ে পিছিয়ে। এ খাতের মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো হচ্ছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। গত অর্থবছর সার্বিক এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ২২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। বাস্তবায়নের এ রকম রেকর্ড ধীরগতির মধ্যে শিক্ষা খাতই বেশি পিছিয়ে ছিল। 

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)  হালনাগাদ বাস্তবায়ন প্রতিবেদন বলছে,  গত অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে ছিল কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। এই বিভাগের বাস্তবায়নের হার মাত্র ৫০ শতাংশ। সর্বোচ্চ বরাদ্দের ১৫ মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর মধ্যে বাস্তবায়নের হারে গুরুত্বপূর্ণ এই বিভাগের অবস্থান ছিল ১৫তম। গত অর্থবছর সংশোধিত এডিপিতে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ২৩টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন ছিল। বরাদ্দ ছিল তিন হাজার ১৪৭ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ১ দশমিক ৫১ শতাংশ। অথচ গোটা অর্থবছরে ব্যয় করা গেছে মাত্র এক হাজার ৫৮৪ কাটি টাকা। অর্থাৎ সংশোধিত এডিপি বরাদ্দেরও এক হাজার ৫৬৩ কোটি টাকাই অব্যায়িত রয়ে গেছে। 

অন্যদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের প্রকল্প সংখ্যা ছিল ৭২টি। বরাদ্দ ছিল ছয় হাজার ১৯০ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের মোট এডিপির প্রায় ৩ শতাংশ। গোটা অর্থবছরে ব্যয় হয়েছে ৬৬ শতাংশ। ব্যয়ের পরিমাণ চার হাজার ১০৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট বরাদ্দের মধ্যে তিন হাজার ৪৮৫ কোটি টাকাই অর্থবছর শেষে অব্যায়িত রয়ে গেছে। 

শিক্ষা খাতের মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এডিপি বাস্তবায়ন অন্য দুই বিভাগের চেয়ে কিছুটা ভালো। তবে এই বিভাগেরও বরাদ্দের ৩৯ শতাংশ অব্যায়িত। সাত প্রকল্পের বিপরীতে  প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ছিল আট হাজার ৬১ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের মোট এডিপির ৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ। অর্থবছর শেষে বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে ৬০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। অর্থাৎ শিক্ষা খাতে ব্যাপক চাহিদা সত্ত্বেও দুই হাজার ৩২৯ কোটি টাকা অব্যয়িত রয়ে গেছে। 

জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী সমকালকে বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রমে শিক্ষা খাতের এই পিছিয়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে গত কয়েক বছর ধরেই প্রবণতাটা এ রকমই। যতটুকু ব্যয় হয়েছে তাও অবকাঠামো খাতেরই ব্যয়। শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে যে বরাদ্দ সেখানে বাস্তবায়নের হারটা তুলনামূলক আরও কম। আবার দুর্নীতি, নানা অনিয়মের গন্ধ থাকে। এসব কারণে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের ফসল আমরা ঘরে তুলতে পারছি না। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতির জন্য অনেকগুলো বিষয়ের দায় রয়েছে। যেমন– মনিটরিং ব্যবস্থার দুর্বলতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অগ্রাধিকার নির্ধারণে দুর্বলতা। মনিটরিংয়ের ক্ষেত্রে স্থানীয় উপজেলা পর্যায়ে কিংবা অনগ্রসর অঞ্চলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কীভাবে চলছে সেটা খুব একটা নজরদারির মধ্যে রাখা হচ্ছে না। প্রকল্পে অর্থছাড়ের ক্ষেত্রে আমলারা অযথা জটিলতা তৈরি করেন। সময়মতো অর্থছাড় না হলে বাস্তবায়ন ধীর হবেই। এ ছাড়া প্রকল্প এবং এলাকা নির্বাচনেও অগ্রাধিকার নির্ধারণ সব সময় চাহিদা অনুযায়ী হয় না। এ রকম বাস্তবতায়  শিক্ষার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাতের উন্নয়নে সব পর্যায়ে আরও মনোযোগ দিতে হবে। চাহিদার ভিত্তিতে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে। মনিটরিং ব্যবস্থায় সক্ষমতা অনেক বাড়াতে হবে।

আইএমইডির তথ্যউপাত্ত বলছে, সর্বোচ্চ বরাদ্দের ১৫ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বাস্তবায়নের হার ছিল বরাদ্দের ৭৯ শতাংশের মতো। বরাদ্দ ছিল এক লাখ ৫৪ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা। 

আরও পড়ুন

×