সবুজ রূপান্তরে পোশাক-টেক্সটাইল বাড়বে রপ্তানি সক্ষমতা
বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস এমওইউ স্বাক্ষর
ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ | ২১:২২
তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতকে আরও টেকসই ও পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তুলতে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে সার্কুলার অর্থনীতি বিষয়ে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে টেক্সটাইলের মূল্য শৃঙ্খলে সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, বর্জ্য কমানো, পুনর্ব্যবহারযোগ্য উৎপাদন ব্যবস্থা এবং সবুজ শিল্পায়নে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়বে। একই সঙ্গে সবুজ প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘সার্কুলার অর্থনীতির ক্ষেত্রে সহযোগিতা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং নেদারল্যান্ডসের অর্থনৈতিক বিষয় ও জলবায়ু নীতি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এ চুক্তি হয়েছে। দুই দেশের মন্ত্রী ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে নিজ নিজ দেশের পক্ষে এতে স্বাক্ষর করেন। বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং নেদারল্যান্ডসের পক্ষে দেশটির জলবায়ু ও সবুজ প্রবৃদ্ধিবিষয়ক মন্ত্রী স্টিন্টিয়ে ভ্যান ভেল্ডহোভেন।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বৈশ্বিক টেক্সটাইল শিল্পে টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা ও সার্কুলার পদ্ধতি গ্রহণ এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের সরবরাহ ব্যবস্থা বৈশ্বিক পরিসরে বিস্তৃত হওয়ায় এ খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি, লজিস্টিকস ও টেকসই শিল্প উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও বাণিজ্য সহযোগী।
বাণিজ্যমন্ত্রীর মতে, এ সমঝোতা স্মারক দুই দেশের অংশীদারত্বকে আরও সবুজ, স্থিতিশীল ও ভবিষ্যতমুখী অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সার্কুলার অর্থনীতি শুধু পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয় নয়, এর সঙ্গে রপ্তানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার, টেকসই বিনিয়োগ আকর্ষণ, সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তিত চাহিদা মোকাবিলার বিষয়ও সরাসরি জড়িত।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে। এ অবস্থায় শিল্প খাতের টেকসই সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ ভবিষ্যৎ বাণিজ্য প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তর কোনো একক পক্ষের পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য সরকার, শিল্প খাত, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও ভোক্তাদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সমঝোতা স্মারকে বহুপক্ষীয় সহযোগিতা ও জ্ঞান বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে টেক্সটাইল খাতে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথ আরও সুগম হবে।
নেদারল্যান্ডসের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের এ অংশীদারত্ব টেকসই শিল্প উন্নয়ন ও জলবায়ু লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি সফল উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।
নেদারল্যান্ডসের জলবায়ু ও সবুজ প্রবৃদ্ধিবিষয়ক মন্ত্রী স্টিন্টিয়ে ভ্যান ভেল্ডহোভেন বলেন, সার্কুলার অর্থনীতির প্রসার এখন অত্যন্ত জরুরি। তবে কোনো দেশ এককভাবে এ রূপান্তর সম্পন্ন করতে পারবে না। পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলজুড়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, দুই দেশের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে অগ্রাধিকারভিত্তিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেছেন। এসব আলোচনা দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেওয়া প্রয়োজন। দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফোরামেও বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস একসঙ্গে কাজ করতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, নেদারল্যান্ডসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ফাইয়াজ মুরশিদ কাজী এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল উপস্থিত ছিলেন।
সমঝোতা স্মারকের ফলে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাতে সবুজ প্রযুক্তির ব্যবহার, উদ্ভাবন ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং ভবিষ্যতের বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার উপযোগী শিল্প গড়ে তুলতেও এ সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
- বিষয় :
- নেদারল্যান্ডস