ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পোশাক খাতে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার জরুরি

পোশাক খাতে পরিবেশবান্ধব  জ্বালানির ব্যবহার জরুরি
×

গতকাল বুধবার এইচএসবিসি বাংলাদেশ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সুইডিশ দূতাবাস ও অ্যাপারেল ইমপ্যাক্ট ইনস্টিটিউটের যৌথ আয়োজনে তৈরি পােশাক খাতে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি নিয়ে এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা- ফটাে রিলিজ

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১১

| প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির সম্প্রসারণ শুধু পরিবেশগত দায়িত্ব নয়, বাণিজ্যিক সক্ষমতা বাড়ানোরও বড় সুযোগ। এ খাতের সক্ষমতা ধরে রাখতে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। নির্ভরযোগ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির সহজলভ্যতা কারখানার কার্বন নিঃসরণ এবং উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়তা করবে, যা আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর চাহিদা পূরণ করে বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ পোশাক সরবরাহকারী দেশ হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করবে। 

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে এইচএসবিসি বাংলাদেশ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সুইডিশ দূতাবাস ও অ্যাপারেল ইমপ্যাক্ট ইনস্টিটিউটের (এআইআই) যৌথ আয়োজনে ‘পরিবর্তনশীল জ্বালানি প্রেক্ষাপটে পোশাক খাতে কার্বনমুক্তকরণের অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এমন মত দেন। 
এইচএসবিসি বাংলাদেশ জানায়, গতকাল বুধবার ঢাকায় এ আলোচনার আয়োজন করা হয়। এখানে সরকারের মন্ত্রণালয়, বৈশ্বিক পোশাক ব্র্যান্ড, প্রস্তুতকারক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, শিল্প সংগঠনের প্রতিনিধিসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীজন অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের জাতিসংঘ উইং প্রধান ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব, এ কে এম সোহেল, সুইডিশ দূতাবাসের চার্জ দি অ্যাফেয়ার্স ওলে লুনদিন, এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. সারওয়ার হোসাইন, বিজিএমইএর সহসভাপতি বিদিয়া অমৃত খান, এআইআইর ক্রিস্টিনা এলিন্ডার লিলহাস, এইচঅ্যান্ডএম গ্রুপের কিম হেলস্ট্রম, এটিটিআইর অলিভিয়া উইন্ডহাম স্টুয়ার্ট প্রমুখ।  
অ্যাপারেল ইমপ্যাক্ট ইনস্টিটিউটের ক্রিস্টিনা এলিন্ডার লিলহাস জানান, তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে পোশাক খাতে ৫০ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ কমানোর বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রায় ৬.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন।

এইচএসবিসি হোল্ডিংসের গ্লোবাল সাসটেইনেবিলিটির গ্লোবাল হেড অব ক্লিন পাওয়ার সিস্টেমস র‍্যান্ডলফ ব্রেজার এবং এইচএসবিসির এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সাসটেইনেবিলিটি ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রধান জাস্টিন উ ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে বাংলাদেশের পরিচ্ছন্ন জ্বালানির সম্ভাবনা নিয়ে তাদের মতামত উপস্থাপন করেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, ‘ইউরোপীয় বাজার ও বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন যেহেতু সীমিত কার্বন ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তাই বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সক্ষমতা ধরে রাখতে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। উৎপাদন শক্তির সঙ্গে পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়ার সমন্বয় ঘটিয়ে টেকসই সোর্সিংয়ের শীর্ষস্থান অর্জনের এই সুযোগ বাংলাদেশকে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগাতে হবে।
এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, পোশাক খাতে বাংলাদেশের বৈশ্বিক নেতৃত্ব সুদৃঢ় হওয়ার সঙ্গে জ্বালানি রূপান্তরের বাণিজ্যিকায়ন এখন সময়ের দাবি। সহায়ক নীতি, উন্নয়নশীল প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী অর্থায়নের মাধ্যমে বেসরকারি মূলধন আকৃষ্ট করাই হবে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও প্রতিযোগিতার মূল চালিকাশক্তি।

আরও পড়ুন

×