ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

চা শিল্পকে কৃষি খাতে রূপান্তর সরকারের নীতিবিরোধী

চা শিল্পকে কৃষি খাতে রূপান্তর  সরকারের নীতিবিরোধী
×
×

সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:০৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

চা খাতকে শতভাগ কৃষিতে রূপান্তরের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী পরিচালক ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেছেন, ঋণ সুবিধার জন্য পুরো খাতকে কৃষিতে রূপান্তর করার যুক্তি খুবই সংকীর্ণ। সরকার যেখানে কৃষিভিত্তিক শিল্পকে সামনে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে, সেখানে চা শিল্পকে কৃষি খাতে রূপান্তর সরকারের নিজের নীতিবিরোধী একটি পদক্ষেপ।

‘বাংলাদেশের চা শিল্প পুনর্গঠন: চা শ্রমিকের ওপর এর প্রভাব’ শীর্ষক এক পরামর্শ সভায় তিনি এ কথা বলেন। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বেসরকারি সংস্থা সেড, পিপিআরসি ও বিআরসি যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, চা খাতের উন্নয়নের একটি অংশ যেমন উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, তেমনি আরেকটি অংশ হলো শ্রমিকের অবস্থার উন্নতি- এটা ভুলে গেলে চলবে না। চা শিল্পের পুনর্গঠন কেবল মালিকদের স্বার্থের জন্য নয়, বরং পুরো খাতের সার্বিক বিকাশ ও শ্রমিকের অবস্থার উন্নতির জন্য। শ্রমিকের বিষয়টি সরকারি দায়িত্বে ফেলে রাজস্বের ওপর চাপ বাড়ানো যুক্তিসংগত হবে না। 
সরকারের সৃজনশীল অর্থনীতি পরিকল্পনায় চা জনগোষ্ঠীর সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, চা ব্র্যান্ডিং ও বাজারজাতকরণে জোর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, চা শিল্পের পুনর্গঠনের আগে অ্যাডভাইজরি ও মনিটরিং কমিটি পুনর্গঠন করে অন্তত দুজন শ্রমিক প্রতিনিধিকে সদস্য করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য ও অবস্থানপত্র উপস্থাপন করেন সেডের পরিচালক ফিলিপ গাইন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার গঠিত টাস্কফোর্স বা কমিটিতে শ্রমিক বা ট্রেড ইউনিয়নের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই। কেবল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশীয় চা সংসদ যুক্ত রয়েছে। দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে ১৬০টির মধ্যে ৭০টির বেশি বাগান লোকসানে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিসিএসইউর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পঙ্কজ কন্দ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরি এবং চা শ্রমিকদের প্রতিনিধিরা বলেন, চাকে কৃষি খাতে রূপান্তর করলে শিল্প শ্রমিক হিসেবে তাদের আইনি মর্যাদা, নির্ধারিত মজুরি কাঠামো, সামাজিক নিরাপত্তা ও পেনশন সুবিধা ব্যাহত হবে।
নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তানজিমউদ্দিন খান এবং বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, চা শ্রমিকদের বাদ দিয়ে বা তাদের ভূমির অধিকার উপেক্ষা করে কোনো পুনর্গঠন প্রক্রিয়া গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। 
অনুষ্ঠানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ এম হাসেমী এবং ২০ জন চা বাগান প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। 

আরও পড়ুন

×