এনআরসিটিএ পরিচালনায় অনুমোদিত ডিলার ব্যাংক যুক্ত
ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭:০৪
অনাবাসী বাংলাদেশিদের নন-রেসিডেন্ট কনভার্টিবল টাকা হিসাব (এনআরসিটিএ) খোলা ও পরিচালনার সুযোগ সম্প্রসারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের পাশাপাশি অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোও এসব হিসাব খুলতে ও পরিচালনা করতে পারবে।
বৃহস্পতিবার জারি করা এক সার্কুলারে এ নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, এনআরসিটিএর পরিধি ও ব্যবহার বাড়াতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় এসব হিসাব সঞ্চয়ী, চলতি বা মেয়াদি আমানত হিসাব হিসেবে খোলা ও পরিচালনা করা যাবে।
বৈধ উৎস থেকে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রা দেশে এনে প্রচলিত বিনিময় হারে টাকায় রূপান্তর করে এনআরসিটিএতে জমা করা যাবে। এ ছাড়া ব্যাংকিং চ্যানেলে পাওয়া রেমিট্যান্স, ব্যক্তিগত বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব ও অনাবাসী বৈদেশিক মুদ্রা আমানত হিসাব থেকে স্থানান্তরিত অর্থ এবং অন্য এনআরসিটিএ থেকে স্থানান্তরিত অর্থও জমা করা যাবে।
এ ছাড়া এসব হিসাবে জমা করা যাবে আমানতের ওপর অর্জিত সুদ বা মুনাফা, বৈধ বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাবাসনযোগ্য অর্থ এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ফেরত পাওয়া অর্থ।
এনআরসিটিএতে থাকা অর্থ বৈধ স্থানীয় ব্যয় মেটানো, অন্য এনআরসিটিএ ও অনাবাসী টাকা হিসাবে স্থানান্তর, বাংলাদেশে বিনিয়োগ এবং অনুমোদিত ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থ প্রত্যাবাসনে ব্যবহার করা যাবে।
নতুন ব্যবস্থায় এনআরসিটিএর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ যোগ্য গ্রাহকদের নিয়মিত টাকা ঋণ হিসেবে দিতে পারবে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংক। তবে এ ক্ষেত্রে প্রচলিত ঋণনীতি, ব্যাংকের সুষ্ঠু পরিচালনা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
এ ছাড়া অনাবাসী বাংলাদেশি বা তাদের মনোনীত তৃতীয় পক্ষের ব্যক্তিগত ও বৈধ ব্যবসায়িক প্রয়োজনে এনআরসিটিএর আমানত বন্ধক রেখে টাকা ঋণ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর আওতায় বাংলাদেশে প্রত্যাবাসনযোগ্য নয় এমন সরাসরি বিনিয়োগ এবং নিজ ব্যবহারের জন্য আবাসিক সম্পত্তি কেনার মতো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, ক্ষমতাপত্রের মাধ্যমে এনআরসিটিএ পরিচালনা করা যাবে। হিসাবধারীর মৃত্যুর পর যোগ্য অনাবাসী নমিনির কাছে অর্থ প্রত্যাবাসন এবং হিসাবধারী স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে ফিরে আসার পরও হিসাব চালু রাখার সুযোগ থাকবে।
এনআরসিটিএ খোলা ও পরিচালনায় অনলাইন সুবিধা এবং ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং সেবা চালুর জন্য ব্যাংকগুলোকে উৎসাহিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ন্ত্রক ও পরিপালনসংক্রান্ত শর্ত অনুসরণ করতে হবে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, ২৩ জুন ২০২৬ জারি করা আগের সার্কুলারটি বাতিল করে নতুন বিধান কার্যকর হবে। তবে আগের সার্কুলারের আওতায় খোলা এনআরসিটিএ এবং সম্পন্ন করা লেনদেন বৈধ থাকবে। পরবর্তী সময়ে এসব হিসাব নতুন সার্কুলারের বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
- বিষয় :
- বাংলাদেশ ব্যাংক