ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

টানা ছয় সপ্তাহ প্রথম কর্মদিবসে দর পতন

টানা ছয় সপ্তাহ প্রথম কর্মদিবসে দর পতন
×
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ১২:৫৮

প্রথম কর্মদিবসে দর পতন দিয়ে শেয়ারবাজারে সপ্তাহের লেনদেন শুরুর ধারা টানা ষষ্ঠ সপ্তাহে গড়াল। গতকাল রোববার প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ৩৪ শতাংশ শেয়ারের দর বৃদ্ধির বিপরীতে সাড়ে ৫২ শতাংশের দর কমেছে। এতে প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৩২ পয়েন্ট হারিয়ে ৫৩৮৫ পয়েন্টে নেমেছে।

সপ্তাহের প্রথম দিনে দর পতন দিয়ে লেনদেন শুরুর চলতি এ ধারা শুরু হয়েছিল গত ২৭ সেপ্টেম্বর। এরপর গত ৪, ১১, ১৭ এবং ২৫ অক্টোবর সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে বেশির ভাগ শেয়ারের দর ও সূচক কমেছিল। তবে মাঝের ২০ সেপ্টেম্বরের শেয়ারদর ও সূচক বৃদ্ধি বাদ দিলে সপ্তাহের প্রথম দিনের দর পতনের ধারা চলছে গত ৯ আগস্ট থেকে। আগস্টে দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ সপ্তাহের মধ্যে ১২ সপ্তাহের চিত্র ছিল একই।

তবে ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা বলছেন, সপ্তাহের শুরুতে না শেষে দর পতন হচ্ছে, এটি আলাদা কোনো অর্থ বহন করে না। পুরো বাজারই মন্দা। বৈশ্বিক সংকট যেমন অর্থনীতিকে নানা চ্যালেঞ্জে ফেলেছে, তেমনি সরকারও বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যথেষ্ট পারদর্শিতা দেখাতে পারছে না– এমন মনোভাব বিনিয়োগকারীদের।

ডিএসইর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গতকাল এ বাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ৪৫০ কোটি টাকার শেয়ার কেনার বিপরীতে ৪৪২ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ১৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকার শেয়ার ক্রয়ের বিপরীতে প্রায় ২২ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। ব্রোকার ডিলার প্রতিষ্ঠানগুলো সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার শেয়ার ক্রয়ের বিপরীতে বিক্রি করেছে আট কোটি টাকার শেয়ার। বিদেশিদের অ্যাকাউন্ট থেকে মাত্র ১৪ লাখ টাকার শেয়ার ক্রয় হয়েছে, বিপরীতে বিক্রি হয়েছে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার শেয়ার।

ডিএসইর লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এদিন বীমা এবং মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড খাত ছাড়া বাকি সব খাতের বেশির ভাগ শেয়ার দর হারিয়েছে। সর্বাধিক সাড়ে ৪ শতাংশ দর হারিয়েছে পাট খাত। এর বাইরে খাদ্য, সিমেন্ট এবং সেবা ও নির্মাণ খাতের শেয়ারগুলোর দর পতন ছিল অন্যদের থেকে বেশি। যেমন– খাদ্য খাতের চার কোম্পানির দর বৃদ্ধির বিপরীতে ১৫টির দর কমেছে। এতে এ খাতের গড় শেয়ারদর কমেছে প্রায় আড়াই শতাংশ। সিমেন্ট এবং সেবা ও নির্মাণ খাতের দশ কোম্পানির মধ্যে সাতটির দর কমায় গড়ে দর হারিয়েছে ২ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া প্রকৌশল এবং ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের শেয়ারগুলোও গড়ে ১ শতাংশের ওপর দর হারিয়েছে।

তবে বৃহৎ বাজার মূলধনি খাত ব্যাংকের লেনদেনযোগ্য ৩১ কোম্পানির মধ্যে গতকাল ১৪টি দর হারায়। বিপরীতে দর বেড়েছে ৫টির। এতে এ খাতের গড় শেয়ারদর কমেছে ১ শতাংশ। এই দর পতনে সূচকে ২৫ পয়েন্ট নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা শেষ পর্যন্ত সূচকের পতনকে ত্বরান্বিত করেছে বলে মনে করেন ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন

×