পথে পথে ক্ষত
×
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২০ | ১২:০০
'আমার এই পথে পথে পাথর ছড়ানো'- রবীন্দ্রসংগীতের এই পঙ্ক্তির সঙ্গে আমাদের বিদ্যমান বাস্তবতার অনেক কিছুরই অমিল খুঁজে পাওয়া ভার। বিগত দেড় দশকে বাংলাদেশে সড়ক-মহাসড়ক যোগাযোগের অনেক বিস্তৃতি ঘটেছে। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিও দৃষ্টিগ্রাহ্য। কিন্তু একই সঙ্গে এর বিপরীত চিত্রও কম দৃশ্যমান নয়। বৃহস্পতিবার সমকালে প্রকাশিত '৩৫৯১ কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়ক ভাঙাচোরা' শিরোনামের প্রতিবেদনে যে চিত্র উঠে এসেছে, তা যেমন আমাদের উদ্বিগ্ন না করে পারে না, তেমনি সংশ্নিষ্ট দায়িত্বশীলদের কিছু প্রশ্নের মুখোমুখিও করে। ভাঙাচোরা এ অংশ দেশের সড়ক-মহাসড়কের প্রায় ১৮ ভাগ। এর মধ্যে প্রায় ৯৪০ কিলোমিটার যান চলাচলের অনুপযোগী। এসব তথ্য উঠে এসেছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের মহাসড়ক উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের জরিপ প্রতিবেদনে।
আমরা জানি, আধুনিক এ কালে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের অন্যতম শর্ত। মসৃণ কিংবা নিস্কণ্টক যোগাযোগ ব্যবস্থা শুধু মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের ক্ষেত্রেই জরুরি নয়, একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রয়োজনেও দরকার। বিগত দু'বছরে সড়ক-মহাসড়কের ভাঙাচোরা চিত্র এবারের চেয়ে বহুগুণ বেশি পরিলক্ষিত হলেও বর্তমান চিত্র নিয়ে আত্মতুষ্টির কিছু নেই। আমরা মনে করি, যদি সংস্কার কিংবা নির্মাণকাজের মান উন্নত করা যায়, তাহলে এ হার আরও কমে আসবে। আমরা এও জানি, দরপত্রের শতভাগ শর্ত মেনে অনেক ঠিকাদারই নির্মাণ কিংবা সংস্কার কাজ করেন না। এক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। আমরা জানি, সরকারি প্রকল্পের কাজে সংশ্নিষ্ট দপ্তর ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অসাধুদের মধ্যে নানা যোগসাজশ থাকে। এ ব্যাপারে যেমন যথাযথ তদারকির অভাব রয়েছে তেমনি সংশ্নিষ্ট দায়িত্বশীলদের নিষ্ঠারও ঘাটতি রয়েছে।
মহাসড়ক উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ প্রতিবছরই সড়ক-মহাসড়কের অবস্থা জরিপ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে। ইন্টরন্যাশনাল রাফনেস ইনডেক্স (আইআরআই) মেনে এ জরিপ করা হয়। এবারও প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লিখিত চিত্র উঠে এসেছে। ভাঙাচোরা সড়ক-মহাসড়ক মেরামত কিংবা রক্ষণাবেক্ষণে বিপুল অর্থের প্রয়োজন। চলতি বছরের বাজেটে এ খাতে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা প্রয়োজনের নিরিখে অনেক কম। এই দুরবস্থার জন্য কম বরাদ্দের অসুখ যেমন আছে, তেমনি বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথভাবে ব্যবহার না হওয়ার অভিযোগও আছে। সড়ক-মহাসড়কের সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত কিংবা পুনর্নির্মাণ যথাযথভাবে করতে হলে যেমন প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দরকার, তেমনি এর সদ্ব্যবহারও অত্যন্ত জরুরি।
এক্ষেত্রে সংশ্নিষ্ট দায়িত্বশীল সব মহলের স্বচ্ছতা, দক্ষতা, দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহি প্রয়োজন। ঈদুল আজহা আসন্ন। এর আগে সড়ক-মহাসড়কের দুরবস্থা কাটাতে না পারলে ঈদে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে। এক্ষেত্রে আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা প্রীতিকর নয়। শুধু জনদুর্ভোগ লাঘবের প্রয়োজনেই নয়, সড়ক-মহাসড়কে নিরাপত্তার জন্যও মসৃণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। করোনা দুর্যোগকালে এবার সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে উপসর্গ দুশ্চিন্তার অধিক কারণ। আমরা মনে করি, মানসম্মত সংস্কার-মেরামতের ক্ষেত্রে অধিক মনোযোগী হতে হবে। তাড়াহুড়া না করে কীভাবে মানসম্মত কাজ নিশ্চিত করে পথের ক্ষত সারানো যায় সেটিই হতে হবে মূল লক্ষ্য।
সড়ক ও সেতু বিভগের দায়িত্ব হলো দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিকূলতা-প্রতিবন্ধকতাহীন রাখা তথা যাত্রীসাধারণের নিরাপদে গন্তব্যে যাওয়ার ব্যবস্থা করা। তবে এ কথাও মনে রাখা বাঞ্ছনীয়, যাত্রীর নিরাপত্তার জন্য শুধু অবকাঠামো ঠিক হলেই হয় না, আনুষঙ্গিক আরও কিছু বিষয়ের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই সড়ক-মহাসড়ক খানাখন্দে ভরে যায়। ক্ষতের ওপর সৃষ্টি হয় ক্ষত। এর কারণ যেহেতু অচিহ্নিত নয়, সেহেতু এর প্রতিকারও দুরূহ নয় বলে আমরা মনে করি।
আমরা জানি, আধুনিক এ কালে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের অন্যতম শর্ত। মসৃণ কিংবা নিস্কণ্টক যোগাযোগ ব্যবস্থা শুধু মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের ক্ষেত্রেই জরুরি নয়, একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রয়োজনেও দরকার। বিগত দু'বছরে সড়ক-মহাসড়কের ভাঙাচোরা চিত্র এবারের চেয়ে বহুগুণ বেশি পরিলক্ষিত হলেও বর্তমান চিত্র নিয়ে আত্মতুষ্টির কিছু নেই। আমরা মনে করি, যদি সংস্কার কিংবা নির্মাণকাজের মান উন্নত করা যায়, তাহলে এ হার আরও কমে আসবে। আমরা এও জানি, দরপত্রের শতভাগ শর্ত মেনে অনেক ঠিকাদারই নির্মাণ কিংবা সংস্কার কাজ করেন না। এক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। আমরা জানি, সরকারি প্রকল্পের কাজে সংশ্নিষ্ট দপ্তর ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অসাধুদের মধ্যে নানা যোগসাজশ থাকে। এ ব্যাপারে যেমন যথাযথ তদারকির অভাব রয়েছে তেমনি সংশ্নিষ্ট দায়িত্বশীলদের নিষ্ঠারও ঘাটতি রয়েছে।
মহাসড়ক উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ প্রতিবছরই সড়ক-মহাসড়কের অবস্থা জরিপ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে। ইন্টরন্যাশনাল রাফনেস ইনডেক্স (আইআরআই) মেনে এ জরিপ করা হয়। এবারও প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লিখিত চিত্র উঠে এসেছে। ভাঙাচোরা সড়ক-মহাসড়ক মেরামত কিংবা রক্ষণাবেক্ষণে বিপুল অর্থের প্রয়োজন। চলতি বছরের বাজেটে এ খাতে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা প্রয়োজনের নিরিখে অনেক কম। এই দুরবস্থার জন্য কম বরাদ্দের অসুখ যেমন আছে, তেমনি বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথভাবে ব্যবহার না হওয়ার অভিযোগও আছে। সড়ক-মহাসড়কের সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত কিংবা পুনর্নির্মাণ যথাযথভাবে করতে হলে যেমন প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দরকার, তেমনি এর সদ্ব্যবহারও অত্যন্ত জরুরি।
এক্ষেত্রে সংশ্নিষ্ট দায়িত্বশীল সব মহলের স্বচ্ছতা, দক্ষতা, দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহি প্রয়োজন। ঈদুল আজহা আসন্ন। এর আগে সড়ক-মহাসড়কের দুরবস্থা কাটাতে না পারলে ঈদে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে। এক্ষেত্রে আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা প্রীতিকর নয়। শুধু জনদুর্ভোগ লাঘবের প্রয়োজনেই নয়, সড়ক-মহাসড়কে নিরাপত্তার জন্যও মসৃণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। করোনা দুর্যোগকালে এবার সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে উপসর্গ দুশ্চিন্তার অধিক কারণ। আমরা মনে করি, মানসম্মত সংস্কার-মেরামতের ক্ষেত্রে অধিক মনোযোগী হতে হবে। তাড়াহুড়া না করে কীভাবে মানসম্মত কাজ নিশ্চিত করে পথের ক্ষত সারানো যায় সেটিই হতে হবে মূল লক্ষ্য।
সড়ক ও সেতু বিভগের দায়িত্ব হলো দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিকূলতা-প্রতিবন্ধকতাহীন রাখা তথা যাত্রীসাধারণের নিরাপদে গন্তব্যে যাওয়ার ব্যবস্থা করা। তবে এ কথাও মনে রাখা বাঞ্ছনীয়, যাত্রীর নিরাপত্তার জন্য শুধু অবকাঠামো ঠিক হলেই হয় না, আনুষঙ্গিক আরও কিছু বিষয়ের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই সড়ক-মহাসড়ক খানাখন্দে ভরে যায়। ক্ষতের ওপর সৃষ্টি হয় ক্ষত। এর কারণ যেহেতু অচিহ্নিত নয়, সেহেতু এর প্রতিকারও দুরূহ নয় বলে আমরা মনে করি।
- বিষয় :
- পথে পথে ক্ষত