ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

অন্যদৃষ্টি

এত উদ্যোগ তবুও যানজট!

এত উদ্যোগ তবুও যানজট!
×

সুদীপ্ত সাইফুল

প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ১৬ নভেম্বর ২০২০ | ১৪:৪৮

যানজট ঢাকা শহরের এক নিদারুণ বাস্তবতা। যানজটের বাস্তবতাকে মেনে নিয়েই দিনের কর্মপরিকল্পনা করতে হয় নগরবাসীকে। ঢাকায় যানজটের কারণ, ক্ষতির পরিমাণ, যানজট থেকে উত্তরণের উপায় অবলম্বন-সংক্রান্ত গবেষণার অন্ত নেই। কিন্তু যানজটের যন্ত্রণা থেকে রেহাই কোথায়?

ঢাকার আয়তনের তুলনায় সড়কের পরিমাণ অনেক নগণ্য। ফুটপাতসহ রাস্তার খানিক অংশ থাকে হকার ও ব্যবসায়ীদের দখলে। এখানে একই রাস্তায় চলে ধীরগতি ও দ্রুতগতির যানবাহন। পরিবহন চালক কিংবা পথচারীদের মধ্যে ট্রাফিক আইন মানার বালাই নেই। কিছু কিছু সড়কের অর্ধেকাংশ জুড়েই থাকে ব্যক্তিগত গাড়ির পার্কিং, কোথাও কোথাও রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে আছে বিদ্যুতের খুঁটি, এর সঙ্গে রয়েছে বেশ কয়েকটি রেলক্রসিং। সব মিলিয়ে যানজটের সমস্যা ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। যানজটের কারণে লোকসান আর ভোগান্তির কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। এক যানজটে বহুমুখী ক্ষতি। যানজটের কারণে নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা, বাড়ছে জ্বালানি খরচ ও বায়ুদূষণ। বিদেশি পর্যটকের আগমন ও বিদেশি বিনিয়োগেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে যানজট।

ঢাকার যানজট নিরসনে উদ্যোগের অভাব ছিল না। বিভিন্ন সময়ে নগরীর বিভিন্ন প্রান্তে উড়াল সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। একটি সড়ক কখনও 'ওয়ান ওয়ে', আবার কখনও 'টু ওয়ে'তে পরিণত হয়েছে। আজ রিকশা চলাচল বন্ধ তো কাল আবার চালু। তবে কোনো কিছুই কাজে আসেনি। সর্বশেষ মেগা প্রকল্প হিসেবে নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে মেট্রোরেলের। এত অর্থ ব্যয়ে নির্মিতব্য মেট্রোরেল যে যানজট নিরসনে খুব বেশি ভূমিকা রাখবে না, তা বুঝতে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার নেই।

সম্প্রতি আন্তঃজেলা বাসগুলোকে ঢাকা মহানগরের মধ্যে ঢুকতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি বলেছেন, বাইরের বাসগুলো ঢাকা শহরের সীমান্তবর্তী এলাকায় নির্ধারিত আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে যাত্রী নামিয়ে তাদের নির্ধারিত গন্তব্যে চলে যাবে। শহরের সীমান্তবর্তী এলাকায় নির্ধারিত টার্মিনাল থেকে সিটি সার্ভিস বা এমআরটি বা সেবা প্রদানকারী বাহনের মাধ্যমে যাত্রীরা নিজ গন্তব্যে যাতায়াত করবেন। এতে ঢাকা শহরের ওপর গাড়ির চাপ কিছুটা হলেও কমবে। রাজধানীতে চলাচলকারী বাসগুলোকে ২৯১টি রুট থেকে কমিয়ে ৪২টি রুটে নিয়ে আসা এবং দুই হাজার ৫০০ বাস মালিকের চলাচলকারী বাসগুলোকে সন্নিবেশ করে ২২টি কোম্পানি করার প্রাথমিক প্রস্তাব বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান মেয়র। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে এতে হয়তো গাড়ির চাপ কিছুটা কমবে, তবে যানজট নিরসনে তেমন ভূমিকা রাখবে না। আর পুরো পরিকল্পনা সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করা না গেলে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

ঢাকার রাস্তার সংকটের মূলে আসলে কী? এই প্রশ্নের সহজ উত্তর সবার জানা। আমরা যদি রাস্তায় নজর দিই তাহলে দেখতে পাব রাস্তায় চলছে অগণিত প্রাইভেটকার, সামান্য সংখ্যক বাস ও অন্যান্য গণপরিবহন। বিআরটিএর হিসাব অনুযায়ী, ঢাকায় নিবন্ধিত মোটরযানের সংখ্যা কমবেশি ৯ লাখ। এর মধ্যে বাসের সংখ্যা ৩০ হাজার আর প্রাইভেটকারের সংখ্যা কমবেশি সোয়া দুই লাখ। একটি বাসে ৪০-৫০ জন যাত্রী নিয়ে রাস্তার যতখানি জায়গা দখলে নেয়, দুটি প্রাইভেটকার দুই থেকে চারজন যাত্রী নিয়ে ঠিক ততখানি জায়গা নিয়ে থাকে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, ঢাকার রাস্তার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ জুড়ে থাকে প্রাইভেটকার। বাকি ২০ থেকে ৩০ শতাংশ গণপরিবহন। সুতরাং ঢাকার যানজটের প্রধান কারণ হিসেবে প্রাইভেটকারকে চিহ্নিত করা দরকার। যানজট নিরসনে প্রাইভেটকারের সংখ্যা কমিয়ে আনার বিকল্প নেই। একদিকে প্রাইভেটকার বাড়তে থাকলে, আর অন্যদিকে হাজারো উদ্যোগ বাস্তবায়ন করলেও তা যানজট নিরসনে ফলপ্রসূ হবে না। সুতরাং দৃষ্টি রাখতে হবে সমস্যার মূলে। এর সঙ্গে যদি ফুটপাত দখলমুক্ত আর অবৈধ পার্কিং বন্ধ করা যায়, তাহলে যানজট উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।

  সাংবাদিক

আরও পড়ুন

×