ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

করোনা টিকা কার্যক্রম

ব্যবস্থাপনা বাড়ান, বিভ্রান্তি কমান

ব্যবস্থাপনা বাড়ান, বিভ্রান্তি কমান
×

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১২:০০ | আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১৪:০১

মহামারিতে মৃত্যু-শোক আর সংকটের মধ্যেই আজ সারাদেশে শুরু হচ্ছে করোনার টিকাদান কর্মসূচি। শনিবার সমকালসহ অন্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, কয়েকটি ধাপে এই ব্যাপক কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ। প্রথম দিনে সারাদেশের ৬১৩টি কেন্দ্রে একযোগে টিকাদান শুরু হচ্ছে। আমরা ইতোপূর্বে আমাদের সম্পাদকীয় স্তম্ভে লিখেছি, এ ক্ষেত্রে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাই হলো বড় চ্যালেঞ্জ। দ্রুততম সময়ে করোনার টিকা সংগ্রহ করে সরকার যে সাফল্য দেখিয়েছে, টিকা প্রয়োগের ক্ষেত্রেও এমন সফলতা কাম্য। সমকালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত টিকা নিতে আগ্রহী তিন লাখের কম ব্যক্তি সুরক্ষা ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করেছেন। বিপুল জনসংখ্যার একটি দেশে এই সংখ্যা নেহাত কম; মনে রাখতে হবে। গণটিকাদান কর্মসূচি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে কিছু অসংগতির চিত্রও উঠে এসেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকাদান ব্যবস্থাপনাতে সংকটের পাশাপাশি মানুষকে টিকা গ্রহণে সেভাবে উদ্বুদ্ধকরণের ক্ষেত্রে সফলতা দৃশ্যমান নয়। ইতোমধ্যে নিবন্ধিত ব্যক্তিরা চূড়ান্তভাবে তাদের টিকা গ্রহণের কেন্দ্র সম্পর্কে জানতেও বিভ্রান্তিতে রয়েছেন।

আমরা মনে করি, এত বড় কর্মযজ্ঞের প্রথমেই এ রকম অগোছালো পরিকল্পনা প্রশ্নবোধক। পরীক্ষামূলক টিকা প্রয়োগের পর বিগত ১০ দিন তাহলে কী প্রস্তুতি নেওয়া হলো- এ প্রশ্নটি থেকেই যায়। এত ধীরগতির নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় কীভাবে এত মানুষকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টিকা দেওয়া সম্ভব হবে- এ সংশয়ও থেকে যাচ্ছে। আমরা জানি, অন্যান্য সংক্রামক ব্যাধির টিকাদান কর্মসূচিতে আমাদের সাফল্য রয়েছে, যা বিশ্বের অনেক দেশই পারেনি। বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে 'ভ্যাকসিন হিরো' সম্মাননায় ভূষিত করেছে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (জিএভিআই)। এবারের চ্যালেঞ্জ হলো সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। গণটিকাদান কর্মসূচির ক্ষেত্রে সংশ্নিষ্ট দায়িত্বশীল মহলগুলোর মধ্যে যাতে সমন্বয়ের কোনো ঘাটতি না থাকে, এ জন্য মনোযোগ আরও গভীর করার বিকল্প নেই। আমরা করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই এক ধরনের সমন্বয়হীনতা দেখছি। এর পুনরাবৃত্তি কাম্য নয়।

টিকার উৎস, ব্যবস্থাপনা ও ভোক্তা- এ তিনের মধ্যে সমন্বয় সাধনই মুখ্য চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে টিকার সুষম বণ্টনের ব্যবস্থা আরও একটি চ্যালেঞ্জ। টিকাপ্রাপ্তির ব্যাপারে চলমান নিবন্ধন কার্যক্রম প্রক্রিয়া কীভাবে আরও সহজ করা যায়- এ নিয়ে দ্রুতই ভাবতে হবে। সর্বসাধারণকে টিকা গ্রহণে উদ্বুদ্ধকরণে আরও পরিকল্পিত উদ্যোগ ও প্রচার-প্রচারণা দরকার। এক শ্রেণির মানুষের মধ্যে টিকার ব্যাপারে যেসব সংশয়-বিভ্রান্তি এখনও বিরাজমান তা দূর করতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে আরও বলিষ্ঠ কার্যক্রম চালাতে হবে। চলমান জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির তুলনায় করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচির পরিসর যেহেতু অনেক ব্যাপক ও বিস্তৃত, সেই নিরিখেই সংশ্নিষ্ট দায়িত্বশীল মহলগুলোর কর্মপন্থা সুচারু রূপে সম্পন্ন করতে হবে। করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক বণ্টনেও যাতে কোনো বৈষম্য দেখা না দেয়, এ জন্য অধিকতর সতর্কতা প্রয়োজন।

করোনা-দুর্যোগকালে আমরা নানারকম অনিয়ম-দুর্নীতির যে চিত্র লক্ষ্য করেছি, টিকাদানের ক্ষেত্রে এর যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে এ ব্যাপারেও কঠোর দৃষ্টি রাখতে হবে। গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। তার মানে এই নয় যে, আমরা ঝুঁকিমুক্ত হয়ে গেলাম। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায় কোনো ব্যত্যয় যেন না ঘটে, এ জন্য ব্যক্তির সচেতনতাই সর্বাধিক জরুরি। টিকার মোট চাহিদা অনুপাতে এখনও আমরা তা সংগ্রহ করতে পারিনি। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ শিশুরা আপাতত এই টিকার বাইরে থাকছে। কার্যত শিশুদের জন্য কোন টিকা নিরাপদ, তা জানতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। করোনাভাইরাস যেমন নতুন দুর্যোগ, এর টিকাও বিশ্বে নতুন। আমরা আশা করি, টিকা প্রদানের দায়িত্বে থাকা সর্বস্তরের স্বাস্থ্যকর্মীরা আন্তরিকতা ও সতর্কতার সঙ্গে এ কাজ সম্পাদন করতে সক্ষম হবেন।

আরও পড়ুন

×