চিঠিপত্র
--
প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১২:০০
প্রধানমন্ত্রী কাছে মুক্তিযোদ্ধাদের আবেদন
বরিশাল জেলার উজিরপুরের বড়াকোঠা ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আ. ন. ম. আবদুল হাকিম '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে উজিরপুর-গৌরনদীর স্কুল ও কলেজের ছাত্রদের নিয়ে আইয়ুবশাহির বিরুদ্ধে ওই এলাকায় তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। '৭০-এর নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্বাচনী সভায় গৌরনদী কলেজ মাঠে এসেছিলেন, তখন ডা. আ. ন. ম. আবদুল হাকিম গৌরনদী কলেজ ছাত্রলীগের সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তার কর্মতৎপরতা দেখে বঙ্গবন্ধু মুগ্ধ হয়ে তাকে ছাত্রলীগের করিৎকর্মা কর্মী বলে ভূয়সী প্রশংসা করেন। সেই থেকে আওয়ামী লীগের একজন নিবেদিত কর্মী, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে দলের প্রতিটি কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে আসছেন আ. ন. ম. আবদুল হাকিম। মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রণাঙ্গনে শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৫ এপ্রিল মাত্র ৩০ জন মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে বরিশালের প্রবেশদ্বার কটকস্থলে প্রতিরোধ যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। ওই যুদ্ধে তার চারজন সহযোদ্ধা শহীদ হন এবং পাকিস্তানি বাহিনীর ৮ জন নিহত হয়। তিনি কটকস্থলসহ মোট ১২টি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে পাকিস্তানি হানাদার ও রাজাকারদের প্রতিহত করেন। মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ সাহস ও নৈপুণ্য প্রদর্শনের জন্য তৎকালীন সেক্টর কমান্ডার তাকে 'বীর বাহারাম' উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনি বিএনপি-জামায়াত সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথের একজন লড়াকু সৈনিক। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মহামারিতে তিনি জনগণের সেবায় স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশের জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধের সাব-সেক্টর হেডকোয়ার্টার উজিরপুরের এই বড়াকোঠা ইউনিয়নেই বরিশালের বীরপ্রতীক কে এস এ মহিউদ্দিন মানিকসহ অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে অম্লান রাখার জন্য স্থাপন করেন মুক্তিযোদ্ধা মিলনকেন্দ্র এবং এর সভাপতিও ডা. আ. ন. ম. আবদুল হাকিম। এখানে প্রতি বছর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের মিলন মেলা বসে এবং সেখানে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণ করা হয়। স্বাধীনতার চেতনায় দৃঢ় আস্থাশীল বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক দিলদরাজ জনহিতৈষী ডা. আ. ন. ম. আবদুল হাকিম দুস্থ, অসহায় ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিনা পয়সায় চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। করোনাকালীন মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে করোনা রোগীদের চিকিৎসাসহ করোনা আক্রান্ত মৃত ব্যক্তির দাফন ও সৎকারের ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে করেন। তার রাজনৈতিক সামাজিক কর্মকাণ্ডসহ মুক্তিযুদ্ধে অবদানের বিষয় বিবেচনা করে তাকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বরিশাল, উজিরপুরের বড়াকোঠা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন দানের জন্য আপনার বরাবরে আকুল আবেদন জানাচ্ছি।
মো. আ. আউয়াল, এম জাকারিয়া (বীর মুক্তিযোদ্ধা)
উজিরপুর, বরিশাল।
রাস্তা প্রশস্ত করা হোক
ঢাকা-৯ আসনাধীন মেরাদিয়ার ভূঁইয়াপাড়ায় অবস্থিত মনিরউদ্দিন লেন একটি সরু রাস্তা। এটি ভূঁইয়াপাড়ার শেষ মাথার রিকাব ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সামনে থেকে রামপুরা বনশ্রী 'ই' ব্লকের ৭নং রাস্তার সঙ্গে মিশেছে। বনশ্রীর সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় সংযোগ সড়ক হিসেবে এলাকাবাসীসহ আশপাশের এলাকার হাজারো মানুষ রাস্তাটি নিয়মিত ব্যবহার করে। এই এলাকার প্রধান সমস্যা হচ্ছে প্রস্থে ৭০০ ফুট দৈর্ঘ্য সরু রাস্তা যা কোথাও ৬ ফুট, কোথাও ৯ ফুট, কোথাও-বা ১১ ফুট। একটি রিকশা আরেকটি রিকশাকে পাশ কাটিয়ে চলতে গেলে ধাক্কা লাগার মতো অবস্থা হয়। এমন সরু রাস্তায় একদিক (বনশ্রী প্রান্ত) থেকে একটি প্রাইভেটকার ঢুকলে অন্যদিক দিয়ে বের হওয়া যায় না। আগুন লাগলে বা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স বা ওয়াসার পানিবাহী গাড়ি ঢোকা অসম্ভব। এই রাস্তার এক স্থানে আরেকটি রাস্তা আছে যা প্রস্থে ৩ ফুট। রাস্তাটির দু'পাশে এখনও বহুতল ভবন নির্মিত হয়নি। রয়েছে কিছু খালি জায়গা, টিনশেড বাড়ি, রিকশা গ্যারেজ, দোকান এবং আবাসিক বাসাবাড়ির দেয়াল। রাস্তাটি এখনও প্রশস্তকরণের সুযোগ রয়েছে। সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরে আমাদের আবেদন, এলাকার জনসাধারণের চলাচলের সুবিধা এবং সহজে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স ও ওয়াসার পানিবাহী গাড়ি ঢোকার কথা বিবেচনা করে মনিরউদ্দিন লেন সংযোগ সড়কটি ১৫ ফুট প্রশস্ত করার দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হোক।
রবিউস সামস, মাকসুদ হিলালী পলাশ, রেবেকা সামদা, রেজা বেপারী, ফারজানা ইসলাম, সানজিদা রহমান
মনিরউদ্দিন লেন, খিলগাঁও, ঢাকা।
ফুটপাতে মোটরসাইকেল কেন?
আমরা দেখেছি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বিভিন্ন সময়ে ঢাকা শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করার বিভিন্ন প্রচেষ্টা করলেও পুরোপুরি পারছে না। সকালে উচ্ছেদ করলে আবার বিকেলে পুরোনো রূপে। সিটি করপোরেশন ফুটপাত কেন দখলমুক্ত করতে পারছে না তা আমার বোধগম্য নয়। ইদানীং লক্ষ্য করা যাচ্ছে, সড়কে একটু যানজট হলেই মোটরসাইকেল ফুটপাতে চলতে শুরু করছে। মোটরসাইকেল চালকদের কোনোভাবেই যেন শৃঙ্খলায় ফেরানো যাচ্ছে না। আইনকানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সড়ক-ফুটপাতজুড়ে তাদের দাপট। ঢাকার সর্বত্র এমন চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে করে পথচারীদের চলাফেরায় বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনেই এমনটা ঘটছে। ফুটপাত যদি হয় মোটরসাইকেল চালকদের জন্য বিকল্প রাস্তা, তাহলে পথচারীদের হাঁটার বিকল্প রাস্তাও জরুরি। ফুটপাতে যাতে মোটরসাইকেল উঠতে না পারে সেজন্য কিছু কিছু জায়গায় বাঁশ বা লোহার খুঁটি দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হলেও তা তোয়াক্কা করছে না মোটরসাইকেল চালকরা, এতে পথচারীরা দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। এমন অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সিটি করপোরেশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করছি।
হাবিব ওয়াহিদ
বড়বাড়ী, গাজীপুর
- বিষয় :
- চিঠিপত্র
