অন্যদৃষ্টি
সফল উদ্যোক্তা হতে হলে
সুদীপ্ত সাইফুল
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২১ | ১২:০০ | আপডেট: ২৫ জুন ২০২১ | ১৫:৩১
করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারির কারণে থমকে গেছে সারাবিশ্ব। করোনার প্রকোপ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চারদিকে বাড়ছে অভাব আর হতাশা। দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে লকডাউন। ফের বন্ধ অফিস-আদালত; ব্যবসা-বাণিজ্য চলছে 'সীমিত পরিসরে'। গত বছর দেশে লকডাউন ঘোষণার পর অর্থনীতিতে নেমে আসে ধস। ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ সব ধরনের ব্যবসায়ীকে গুনতে হয়েছে লোকসান। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠের মতো এ সময়ে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে দেশের ই-কমার্স খাতে।
ঘরে বসে সহজে পণ্য পাওয়া যায় বলে বেশ কয়েক বছর ধরেই মানুষ ঝুঁকেছে অনলাইন কেনাকাটায়। তবে গত বছর লকডাউন ঘোষণার পর অনলাইনে পণ্য কেনার হার বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণ। ঘরবন্দি মানুষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছিল ই-কমার্স সাইটগুলো। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকে শুরু করে শখের হাতঘড়ি, পোশাক-আশাক সবকিছুই মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো। বাজারে তৈরি হওয়া নতুন চাহিদা মাথায় রেখে অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী বিকল্প পথে ব্যবসা করে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন এই সংকটকালে; যার শতভাগই ছিল অনলাইনভিত্তিক। অনেক ব্যবসায়ী নিজের পণ্যের প্রসারে যুক্ত হয়েছেন দারাজের মতো বিশ্বস্ত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে।
সময়ের সঙ্গে বদলে যায় মানুষের চিন্তাধারা। এক সময় মানুষ যেখানে পড়াশোনা শেষ করার পর চাকরির পেছনে ছুটত, সেখানে এখন অনেকেই চাকরির পাশাপাশি উদ্যোক্তা হওয়ার বাসনা লালন করছেন। গত মার্চে দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণার পর কর্মসংস্থান হারিয়ে হাজার হাজার মানুষ নাম লিখিয়েছিলেন বেকারের খাতায়। তাদের অনেকেই চাকরি হারিয়ে অনলাইনে নিজের ব্যবসা শুরু করেছেন। এছাড়া দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ঘরে অলস বসে না থেকে ই-কমার্সের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীও। ঘরে বানানো পণ্য, নিজ জেলার ঐতিহ্য ও বিভিন্ন প্রকার পণ্য নিয়ে অনলাইনে ব্যবসা করে সফল হয়েছেন এসব ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা।
তবে দেখা যায়, শুরুতে অনেক উদ্যমী হয়ে অনলাইনে ব্যবসা শুরু করলেও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকায় তা খুব শিগগিরই মুখ থুবড়ে পড়েছে। প্রথমেই মনে রাখা প্রয়োজন, অনলাইন ব্যবসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ অধিক সংখ্যক গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো এবং গ্রাহকের আস্থা অর্জন। তবে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য এ বিষয়গুলো বেশ চ্যালেঞ্জিং। এক্ষেত্রে দারাজের মতো বৃহৎ ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়ে খুব সহজেই এসব চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। দেশের শীর্ষস্থানীয় এই ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মটি প্রতিদিন অগণিত ক্রেতাকে যুক্ত করছে অসংখ্য বিক্রেতার সঙ্গে। সঠিক সময়ে পণ্য পৌঁছে দিয়ে ইতোমধ্যে অর্জন করেছে দেশের মানুষের আস্থা। সহজে সাইন-আপ করে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় দারাজের মাধ্যমে পণ্য বিক্রির সুযোগ করে দিয়েছে এই ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মটি। আর প্রত্যাশা অনুযায়ী পণ্য বিক্রি না হলে সমস্যা চিহ্নিতকরণে বিক্রেতাদের সহায়তা প্রদান করবে দারাজ।
ব্যবসায়িক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে মানুষের প্রথম চিন্তা থাকে পুঁজি নিয়ে। তাই ইচ্ছা থাকলেও টাকার কথা ভেবে অনেকেই এক ধাপ এগিয়ে তিন ধাপ পিছিয়ে যান। আর করোনাকালে অর্থাভাবে ভুগছেন অনেকেই। এই সংকটকালে দেশের উদ্যোক্তাদের অগ্রযাত্রাকে গতিশীল করতে বিশেষভাবে প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি প্রণোদনা। যেমন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করে দারাজ রিটেইলারদের সর্বনিম্ন এক লাখ থেকে সর্বোচ্চ চল্লিশ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের সুবিধা প্রদান করছে। এ ধরনের প্রণোদনায় সহজেই ব্যবসা দাঁড় করানো সম্ভব।
সফলতার প্রথম ধাপ স্বপ্টম্ন দেখা। স্বপ্টম্ন থেকেই জন্ম নেয় ইচ্ছাশক্তি, ধৈর্যশক্তি ও আত্মবিশ্বাস। কৌশলী দৃষ্টিভঙ্গি ও পরিশ্রমী মনোভাব থাকলে স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করেও হয়ে ওঠা যায় সফল উদ্যোক্তা। ধারণা করা হচ্ছে, কভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবে দেশের কর্মসংস্থান কমে যেতে পারে প্রায় ৯ লাখ। তাই চাকরি নামের সোনার হরিণের পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্টম্ন দেখাই হবে এখন বিচক্ষণতা।
সাংবাদিক
- বিষয় :
- অন্যদৃষ্টি
- সুদীপ্ত সাইফুল
- করোনাভাইরাস
