ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সাক্ষাৎকার: বদরুদ্দীন উমর

মার্কিন ভিসা নীতি জনগণের জন্য শাপে বর হয়েছে

মার্কিন ভিসা নীতি জনগণের জন্য শাপে বর হয়েছে
×

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন: ফারুক ওয়াসিফ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৩ | ১৮:০০

বদরুদ্দীন উমর, লেখক-গবেষক ও বামপন্থি রাজনীতিক। তাঁর জন্ম ১৯৩১ সালের ২০ ডিসেম্বর; ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান শহরে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৩ সালে স্নাতক (সম্মান) ও ১৯৫৫ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। উমর ১৯৬১ সালে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিপিই ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরে আসেন এবং ১৯৬৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। তৎকালীন গভর্নর মোনায়েম খানের স্বৈরতান্ত্রিক আচরণের প্রতিবাদে ১৯৬৮ সালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন এবং গবেষণামূলক লেখালেখিতে নিয়োজিত হন। উমর জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সভাপতি ও ‘সংস্কৃতি’ পত্রিকার সম্পাদক

ফারুক ওয়াসিফ: নির্বাচন কীভাবে হবে তা নিয়ে সংকট চলমান। কিন্তু এটা কি শুধু নির্বাচনী সংকট, নাকি রাজনীতিরই সংকট? এর শুরুটা কোথায়?

বদরুদ্দীন উমর: স্বাধীনতার পর থেকে যে অবস্থা চলছিল, তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান অবস্থার সৃষ্টি। কাজেই এটা নতুন কিছু নয়। দেশে এই যে শাসক শ্রেণি সৃষ্টি হয়েছে, এটি গঠনমূলক কাজের মাধ্যমে হয়নি। দুর্নীতি ও লুটতরাজের মাধ্যমে হয়েছে। তখনকার নিয়ম অনুযায়ী ২৫ লাখের বেশি বিনিয়োগ করা যেত না। কিন্তু একটি গোষ্ঠীর হাতে কোটি কোটি টাকা চলে এলো। এসব টাকা কোথায় বিনিয়োগ করবে? কারণ, শিল্পে তো পারবে না। সেখানে করতে গেলে অনুমতি লাগবে। অভ্যন্তরীণ ব্যবসায় কালো টাকা নামল; বৈদেশিক বাণিজ্যে হলো চোরাকারবার। এর মধ্য দিয়ে যে শ্রেণিটা গঠিত হলো, শাসক শ্রেণির সব দল তো সেখান থেকেই এসেছে। তারাই এখন ক্ষমতায়।

সমকাল: এই দলগুলোই তো এক সময় গণতান্ত্রিক আন্দোলন করেছিল। বিশেষ করে ৮০-এর দশকে সেনা শাসকের বিরুদ্ধে তাদের গণতান্ত্রিক ভূমিকা ছিল।

বদরুদ্দীন উমর: তারা যে আন্দোলন করেছে, এটিকে প্রকৃতপক্ষে গণতান্ত্রিক আন্দোলন বলা যাবে না। তারা এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। আবার জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগ এরশাদের নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করেছে। কাজেই কথা হচ্ছে, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের উপাদান তাদের আন্দোলনের মধ্যে ছিল না। শুধু সরকার হটাওয়ের কথা। যেটি পরের দিকে গিয়ে দেখা গেল এক আওয়াজ– এরশাদ হটাও। ৫ দফা ১ দফা থেকে এলো ১ দফা– এরশাদ হটাও।

সমকাল: এখনও তো বিএনপি আবার ১ দফার আন্দোলনে নামতে যাচ্ছে।

বদরুদ্দীন উমর: বিদ্যমান সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন মানেই তো গণতান্ত্রিক আন্দোলন নয়। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে মানুষের যেসব অধিকার স্বীকার করে নেওয়া দরকার; গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে যেভাবে কাজ করা দরকার; সেই দাবিগুলোর পক্ষে লড়াই থাকতে হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগের মধ্যে তা ছিল না; বিএনপির মধ্যেও নেই।

সমকাল: বিএনপি সরকার পরিবর্তন করতে চায়। কারণ, নির্বাচন যথাযথভাবে হয়নি। তা ছাড়া দেশের মানুষ বহুভাবেই কষ্টে আছে। এর প্রতিকার চাওয়ার আন্দোলন কি গণতান্ত্রিক?

বদরুদ্দীন উমর: এতক্ষণ আমি যেভাবে বললাম, তাতে বিএনপির শ্রেণি চরিত্রের মধ্যে আওয়ামী লীগের কোনো পার্থক্য নেই। তবে আওয়ামী লীগ আরও পাকা; তাদের অভিজ্ঞতা বেশি। তাদের মধ্যে প্রতিহিংসা অনেক বেশি। এসব কারণে বিএনপির চাইতে আওয়ামী লীগ আরও বেশি খারাপ। কিন্তু শ্রেণিগতভাবে তারা একই। ’৯০ সালের পর যেসব সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে, তাদের মধ্যে তো কোনো গণতান্ত্রিক চিন্তাভাবনা দেখা যায়নি। গণতান্ত্রিক কোনো কার্যকলাপও দেখা যায়নি। জনগণকে দমন-পীড়ন করেই তারা ক্ষমতায় থেকেছে। যে জন্য একবার ক্ষমতায় আসার পর দ্বিতীয়বার কেউ আসে না। আসেওনি। এই হচ্ছে এখানকার রেকর্ড। এই রেকর্ড নিয়েই ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছিল। তখনই শেখ হাসিনা বুঝে গেছেন– তাদের আওয়ামী লীগ সরকার দ্বিতীয়বার নির্বাচন হলে আর থাকবে না। কাজেই তখন থেকেই আওয়ামী লীগ ঠিক করে রেখেছে– নির্বাচন ঠিকমতো করতে দেওয়া যাবে না। এ জন্য ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর ২০১৪ সালে তারা যেভাবে নির্বাচন করেছে; তাতে দেখা গেল ১৫৩ জন নির্বাচনের আগেই নির্বাচিত হয়ে গেছেন। তখন থেকেই আওয়ামী লীগের চেষ্টা হলো আইনসিদ্ধ কৌশলেই নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা। এটা তারা ২০১৪ সালে করেছে, আবার ২০১৮ সালে করেছে। আওয়ামী লীগ মনে করে, তারাই বাংলাদেশের একমাত্র বৈধ শাসক। যেভাবে তারা কথা বলে– বিরোধী দলকে এই করতে দেব না, ওই করতে দেব না; তাদের কথা শুনলে মনে হয়, তারাই বাংলাদেশের মালিক। অথচ আওয়ামী লীগ অন্য রাজনৈতিক দলের মতো একটি দল। তারা তো কোনো বিশেষ দল নয়, যাদের অন্যদের চেয়ে বেশি অধিকার আছে। নির্বাচন তো আওয়ামী লীগের জন্য সুবিধাজনক নয়। কারণ, নির্বাচন হলে তারা থাকবে না। কাজেই আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্ত নিয়েছে– আর নির্বাচন হতে দেওয়া যাবে না। নির্বাচনকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, যাতে নির্বাচন হলে তারাই জিতে।

সমকাল: কোন প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ নির্বাচনকে নিয়ন্ত্রণ করছে?

বদরুদ্দীন উমর: সব সরকারই আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু আওয়ামী লীগের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, আমলাতন্ত্র তাদের অঙ্গ সংগঠন। মনে হয়, পুলিশ আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন। অবস্থা এমনভাবে তৈরি করেছে, তাতে নির্বাচন হলে অন্য কারও জেতার সম্ভাবনা নেই। যতই বাইরের পর্যবেক্ষক থাকুক; যেহেতু আমলা এবং পুলিশ পক্ষে, সেহেতু তারাই জিতে যাবে।

সমকাল: এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশনের যত ক্ষমতাই থাক; সুষ্ঠু নির্বাচন কীভাবে সম্ভব?

বদরুদ্দীন উমর: বিএনপি যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আওয়াজ তুলেছে; যেখানে আওয়ামী লীগের একক প্রাধান্য থাকবে না; নির্দলীয় সরকার হবে– সে রকম হলে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগ যদি কোনোভাবে নির্বাচন করতে পারে, তাহলে আর কারও ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ নেই। বিএনপি বলছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে না হলে তারা নির্বাচন বর্জন করবে। বিএনপি বর্জন করলে আওয়ামী লীগের কী আসে যায়? বরং সুবিধা হয়। যদি আওয়ামী লীগ নির্বাচন করিয়ে নিয়ে কোনোভাবে ক্ষমতায় আবার বসে যায়, তাহলে নির্বাচন বর্জনের কথা বলে লাখ লাখ লোককে সংগঠিত করে কোনো লাভ নেই। আওয়ামী লীগ ধরে নিয়েছে– তাদের অধীনেই নির্বাচন হবে।

সমকাল: বিএনপির নির্বাচন বর্জনের আওয়াজকে কীভাবে দেখছেন?

বদরুদ্দীন উমর: এটি একটি ভুয়া আওয়াজ। যে আওয়াজটা দেওয়া দরকার তা হলো– নির্বাচন বর্জন নয়; নির্বাচন বাতিল করতে হবে। এই আওয়াজ আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে দিয়েছিল। বিএনপি তো নির্বাচন করে ক্ষমতায়ও বসেছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ আন্দোলন এমন জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল; বিএনপিকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকার হয়েছিল। এর পর নতুন নির্বাচন হয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছিল। তারা তখন যে কাজ করেছিল, সেই কাজ এখন যদি বিএনপি বা অন্য কেউ করে, তাহলে এটি নাজায়েজ হবে কী কারণে? বিএনপি বলছে, শেখ হাসিনাকে সরাতে হবে। কীভাবে সরাতে হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলতে হবে। আওয়ামী লীগকে সরানোর একমাত্র উপায় হচ্ছে, তাদের সরকারের অধীনে এককভাবে নির্বাচন করতে না দেওয়া।

সমকাল: আপনি নির্বাচন নিয়ে বলছেন, অথচ আপনি নিজে নির্বাচনে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন হবে বলে বিশ্বাস করেন না। গণঅভ্যুত্থানে বিশ্বাস করেন।

বদরুদ্দীন উমর: নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না– এটি এখনও বিশ্বাস করি। তাই বলে যদি দেখি নির্বাচনের মাধ্যমে চূড়ান্ত গণবিরোধী একটি সরকার ক্ষমতায় যাচ্ছে, তাহলে বসে থাকতে পারি না। নির্বাচন দিয়ে মানুষের মুক্তি সম্ভব না– এটা অবশ্যই বলছি। তার মানে এই নয় যে, নির্বাচন করে একটি গণবিরোধী সরকারকে টিকে থাকতে বলব। তাই নির্বাচন বাতিল করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে হবে। তাহলে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে আসবে। এখন যেমন সেই অধিকার নেই। মিটিং-মিছিল করা যাচ্ছে না। সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের খুন করছে। এ অবস্থার অবসান ঘটাতে হবে। তা যদি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে হয়, তাহলে অবশ্যই আমরা তার পক্ষে।

সমকাল: বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন বিদেশিরা হস্তক্ষেপ করছে। তাদের এই হস্তক্ষেপকে কেউ স্বাগত জানাচ্ছেন, কেউ আবার প্রতিবাদ করছেন। আপনি কীভাবে দেখেন?

বদরুদ্দীন উমর: এই যে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা নীতি দিয়েছে; এটি অবশ্যই আমাদের দেশের ওপর তাদের সাম্রাজ্যবাদী হস্তক্ষেপ। আবার দেখতে হবে, এটি তারা কোন অবস্থায় করল? যেখানে দেখা যাচ্ছে জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে গেছে; বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলো আন্দোলন করেও কিছু করতে পারছে না; এই অস্থিরতা, জনগণের সঙ্গে সরকারের টালমাটাল অবস্থা থাকুক, সেটি যুক্তরাষ্ট্র চায় না। তারা চায় মোটামুটি একটি শান্তিপূর্ণ অবস্থা। সরকারের সঙ্গে সমস্যা হয়েছে বলেই তো যুক্তরাষ্ট্র ভিসা নীতি দিয়েছে। তাদের তো দ্বিমুখী নীতি। যেখানে তাদের সুবিধা হয়, সেখানে জনগণের ওপর হামলা করে। আবার যেখানে সরকারের সঙ্গে তাদের ঝামেলা তৈরি হয়, তখন তারা গণতন্ত্রের মুখোশ পরে নেমে পড়ে। এখন বাংলাদেশে চীনসহ নানা বিষয়ে সরকারের সঙ্গে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, এ কারণে তারা গণতন্ত্র উদ্ধার করতে এসেছে। ভিসা নীতির কারণে জনগণ যদি আক্রমণ থেকে মুক্তি পায়, সে কারণে জনগণের মধ্যে একটি অংশ ভিসা নীতিকে সমর্থন করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে হস্তক্ষেপ করছে, তা আওয়ামী লীগের জন্য অসুবিধাজনক হয়ে গেছে। জনগণের জন্য শাপে বর হয়েছে। এই হস্তক্ষেপের ফলে জনগণ উপকৃত হতে পারে। যেমন র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর বাহিনীর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড অনেক কমেছে।

সমকাল: আওয়ামী লীগ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে কিছু আসে যায় না।

বদরুদ্দীন উমর: অবশ্যই আসে যায়। অনেক লোক এ দেশ থেকে টাকা পাচার করে যুক্তরাষ্ট্রে সম্পত্তি করেছে। তাদের যাওয়া-আসা করতে হয়। তাদের যদি ভিসা আটকে দেয়, তাহলে অবশ্যই আওয়ামী লীগের সমস্যা আছে। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু সেখানে গিয়ে তো হাজার হাজার বাংলাদেশি বসতি স্থাপন করেনি। চীনের ভিসা আর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসায় তফাত আছে। যুক্তরাষ্ট্র ভিসা না দিলে অসুবিধা হবে। অসুবিধা হবে বলেই তারা ভিসা নীতি করেছে।

সমকাল: সামনের নির্বাচনে জনগণ যাতে ভোট দিতে পারে এবং নির্বাচন সুষ্ঠু হয় সে জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কী দাবি তোলা উচিত?

বদরুদ্দীন উমর: আমি তো আগেই বলেছি, রাজনৈতিক দলগুলো ভুল আওয়াজ দিয়ে আন্দোলন করছে। এখন একমাত্র উপায় হচ্ছে ঠিক আওয়াজ তোলা এবং আন্দোলন করা। বলতে হবে– দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন বাতিল করতে হবে। এ ছাড়া গণতান্ত্রিক অন্য কোনো পথ নেই। এভাবে চালিয়ে গেলে আওয়ামী লীগের অবস্থা আরও খারাপ হবে। এবার যদি আওয়ামী লীগ হেরে যায়, সাধারণ মানুষও তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হবে। যেটি মুসলিম লীগের ওপর হয়নি। আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা খুনখারাবির সঙ্গে জড়িত। এটি নতুন কিছু নয়। এই যে সাংবাদিক নাদিমকে হত্যা করা হয়েছে। কাজেই আওয়ামী লীগের জন্য সুষ্ঠু নির্বাচন করা বিপজ্জনক। তাদের সমস্যা হচ্ছে, বিদেশিদের কথা শুনে নির্বাচনে গেলে তো তারা উৎখাত হয়ে যাবে। কাজেই বিদেশিরা যতই বলুক, তাদের কথা তারা শুনবে না।

সমকাল: ২০১৪ বা ২০১৮ সালের মতো আরেকটি নির্বাচন তাদের পক্ষে করা কি সম্ভব?

বদরুদ্দীন উমর: বিদেশিরা তো আর সামরিক বাহিনী নামাতে পারবে না। আমলা-পুলিশ দিয়ে তারা নির্বাচন করতেই পারে। কাজেই আওয়াজ দেওয়া দরকার– সরকার যদি পদত্যাগ না করে তাহলে নির্বাচনের সময় কেন্দ্র ঘেরাও করে নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। সে রকম অবস্থা তৈরি করতে পারলে সরকার পদত্যাগে বাধ্য হবে। এ জন্য এখন থেকে আওয়াজ দিতে হবে। হঠাৎ করে বললে হবে না। তাদের বলতে হবে, আওয়ামী লীগ সব ন্যায্য দাবির তোয়াক্কা না করে একতরফা নির্বাচন করলে তাদের প্রতিহত করা হবে। আওয়ামী লীগ যে নির্বাচন কমিশন করেছে, তাদের ওপর তাদেরই আস্থা নেই। তাই আইন করে কমিশনের নির্বাচন বাতিলের ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে।

সমকাল: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

বদরুদ্দীন উমর: সমকালকেও ধন্যবাদ।

আরও পড়ুন

×