অন্যদৃষ্টি
স্বাস্থ্যসেবায় এআই
গোলাম শওকত হোসেন
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২৩ | ১৯:১৯
প্রতিটি শিল্পবিপ্লবের মধ্য দিয়েই হেলথকেয়ার ইন্ডাস্ট্রি তথা স্বাস্থ্যসেবা খাত উন্নত থেকে উন্নততর হয়েছে, যার প্রথম পর্দা উঠেছিল ১৮৯৫ সালে উইলহেম রন্টজেন-এর এক্স-রে মেশিন আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে। ১৮৯৫ সালেই ডাচ ডাক্তার ও ফিজিওলজিস্ট ইসিজি মেশিন আবিষ্কার করেন। ১৯৫৬ সালে গ্লাসগোতে ধাত্রী চিকিৎসক আইয়ান ডোনাল্ড ও ইঞ্জিনিয়ার টম ব্রাউন প্রথম তাদের বানানো আলট্রাসাউন্ড মেশিন ব্যবহার করেন মানবদেহে। ১৯৫০-এর দিকে জাপানে সজিও সাতুমরা ডপলার ইকার্ডিওগ্রাফি মেশিন তৈরি করেন। ১৯৭২ সালে ব্রিটিশ ইঞ্জিনিয়ার গডফ্রে সিটিস্ক্যান মেশিন বাজারে নিয়ে আসেন। রোনাল্ড হুসফিল্ড ১৯৭৭ সালে এমআরআই মেশিন আবিষ্কার করেন। এসবের ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক সময়ে এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথা ‘এআই’।
এআইকে কাজে লাগিয়ে হেলথকেয়ারে যে কাজগুলো উন্নত বিশ্বে করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে– সিবিল মেশিনের সাহায্যে ৮৬%-৯৪% শুদ্ধতায় লাং ক্যান্সার চিহ্নিত করা; বিরল রোগের চিকিৎসা; ওষুধের ভুল ডোজ প্রতিহত করা; স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক্স-রে, সিটিস্ক্যান ও এমআরআই রিপোর্ট তৈরি; নতুন ওষুধ তৈরি করা ইত্যাদি। এআইকে কাজে লাগিয়ে হসপিটাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও ম্যানেজমেন্টেও যুগান্তকারী উন্নতি সাধন সম্ভব। এর ধারাবাহিকতায় বলা যায়, ভবিষ্যতে হেলথকেয়ার ইন্ডাস্ট্রিতে এআইয়ের ভূমিকা হবে সর্বব্যাপী। ডাক্তারিতে ভর্তি বা যে কোনো পেশাগত পরীক্ষার ঠিক ১৫ সেকেন্ড আগে এআই ক্লাসরুমের চারদিকে অবস্থিত লার্জ ইলেকট্রনিক বোর্ডে লাখ লাখ সেট প্রশ্ন থেকে অ্যালগরিদমের মাধ্যমে এক সেট প্রশ্ন তৈরি করে বের করে দেবে। আবার খাতা সে যাচাই করে রেজাল্ট সে-ই বোর্ডেই প্রকাশ করে দেবে। একজন চিকিৎসকের সব রেকর্ড বিচার-বিবেচনা করে এআইয়ের সাহায্যে তার পোস্টিং, ট্রান্সফার ও প্রমোশন হবে। রোগীকে ভার্চুয়ালি বা টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে এআই ২৪/৭ (সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা) সাহায্য করবে।
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র কভিড-১৯ অতিমারিকালে ৪৬৩ মিলিয়ন ডলার ইনফেক্সাস ডিজিজের জন্য বরাদ্দ করেছিল। বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইনফেক্সাস ডিজিজের বিরুদ্ধে এআইকে কাজে লাগানোর জন্য ২০২৫ সালের মধ্যে ২ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি সহজে শনাক্ত করার জন্য এআই সাপোর্টেড মেডিকেল ডিভাইস বাজারজাতকরণের অনুমতি দিয়েছে। চিকিৎসাক্ষেত্রে এআইয়ের সাফল্যের কারণে ইলন মাস্ক সার্জিক্যাল রোবটের সাহায্যে শারীরিক কোনো স্নায়ুযুক্ত সমস্যা সমাধানের জন্য ব্রেনে নিউরোলিংক ব্রেন চিপস বসানোর বিষয়ে গবেষণায় কোটি কোটি ডলার বরাদ্দ করছে।
এআইয়ের আশানুরূপ চরম সাফল্য যদি ২০৩০ সালের মধ্যে হয়, তাহলে পৃথিবীতে কোটি কোটি শিক্ষিত পেশাজীবী বেকার তৈরি হবে। আবার যদি ২০২৫ সালে ভোলকানোর মতো সৌরঝড় হয়, তাহলে পৃথিবী অতি উত্তপ্ত হওয়ার ফলে ইন্টারনেটের অপটিক্যাল ফাইবার-কানেকশন বিপর্যস্ত হবে, যেটা এআইয়ের পথে চরম অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। তবে যা কিছু হোক, তা যেন মানবকল্যাণে হয়; ন্যূনতম সমবণ্টনের পন্থা অবলম্বন করে– এটাই আমাদের কামনা।
ডা. গোলাম শওকত হোসেন: শিক্ষক ও গবেষক
- বিষয় :
- অন্যদৃষ্টি
- গোলাম শওকত হোসেন
