ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিদেশে স্থায়ী হওয়ার চিন্তা এখনও মাথায় আসেনি: তানজিকা আমিন

বিদেশে স্থায়ী হওয়ার চিন্তা এখনও মাথায় আসেনি: তানজিকা আমিন
×

তানজিকা আমিন। ছবি: ফেসবুক

বুলবুল ফাহিম

প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১৪:৫৪ | আপডেট: ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১৫:১০

তানজিকা আমিন। অভিনেত্রী, মডেল ও উপস্থাপক। নাটক, ওটিটি ও সিনেমায় সমান তালে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। গেল সপ্তাহে মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনীত দুটি ওয়েব সিনেমা ‘ডিমলাইট’ ও ‘অমীমাংসিত’। এই দুই ওয়েব সিনেমায় অভিনয়ের নানা দিক নিয়ে সমকালের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

চার দিনের ব্যবধানে দুই ওয়েব ফিল্ম মুক্তি... 
বছরের শেষে দুটি ওয়েব ফিল্ম একসঙ্গে মুক্তি পাওয়া আমার জন্য আনন্দের। ১১ ডিসেম্বর চরকিতে মুক্তি পেয়েছে ‘ডিমলাইট’, আর ১৪ ডিসেম্বর আইস্ক্রিনে এসেছে ‘অমীমাংসিত’। প্রতিটি চরিত্রে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। দুই কাজের জন্যই দর্শকের দারুণ সাড়া পাচ্ছি। 

‘ডিমলাইট’-এ অভিনীত চরিত্র সম্পর্কে জানতে চাই, কতটা আলাদা ছিল আগের কাজগুলো থেকে?
‘ডিমলাইট’-এ আমাকে দেখা যাবে মধ্যবিত্ত পরিবারের এক গৃহিণীর চরিত্রে। মিডলাইফ ক্রাইসিসের গল্পে নির্মিত এই ওয়েব ফিল্মে আমার চরিত্রের নাম তানিয়া। এখানে আমার স্বামীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম। সব মিলিয়ে বলতে পারি, দাম্পত্য জীবনের সঙ্গে এই গল্পটা দর্শকের ভালোভাবে সংযোগ তৈরি করবে। 

‘অমীমাংসিত’-এ দর্শক আপনাকে কীভাবে পাচ্ছেন?
এখানে আমি একজন সাংবাদিকের চরিত্রে অভিনয় করেছি। এই চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে একটু বেগ পেতে হয়েছে। কারণ, এমন চরিত্র খুবই চ্যালেঞ্জিং। একদিকে সাংবাদিক, অন্যদিকে চরিত্রটি আগে থেকেই প্রতিষ্ঠিত। এই কাজটি নিয়ে দর্শকের প্রত্যাশাও ছিল অনেক বেশি। তবে আত্মবিশ্বাস নিয়ে কাজটি করেছি। দর্শকের প্রতিক্রিয়াও ভালো পাচ্ছি।

সিনেমাটি দুই বছর সেন্সর বোর্ডে আটকে থাকা নিয়ে কোনো হতাশা কাজ করেছিল কী?
নির্মাতা রায়হান রাফীর কাজ সম্পর্কে সবাই কমবেশি জানেন। তিনি তাঁর কনটেন্টে বাস্তবতার ছাপ রাখেন। কাজটি শেষ হওয়ার পর দুই বছর সেন্সরে আটকে ছিল। শিল্পী হিসেবে হতাশা তো থাকেই। কারণ, আমরা প্রতিটি কাজ অনেক কষ্ট করে করি। ‘অমীমাংসিত’-এর ক্ষেত্রে সেই কষ্টটা ছিল আরও বেশি। এত পরিশ্রমের পর যখন একটি কনটেন্ট দর্শকের কাছে পৌঁছায় না, তখন হতাশ হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে শেষ পর্যন্ত ওয়েব ফিল্মটি মুক্তি পেয়েছে– এটাই স্বস্তির বিষয়। 

নাটক, ওটিটি, সিনেমা ও ধারাবাহিক– একসঙ্গে কাজ করতে অসুবিধা হয়? 
সত্যি বলতে, অভিনয় তো অভিনয়ই। আমার কাজ একটাই– ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে অভিনয় করা। এখানে মৌলিক বিষয় একই। আমার কাজ দর্শকের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা। সেটাই করার চেষ্টা করি। তবে বড় প্রজেক্টে কাজ করতে গেলে আলাদা প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়, যা নির্ভর করে গল্পের ওপর। প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করলে অভিনয় অনেক সহজ হয়। বড় প্রজেক্টে কাজ করার পর ধারাবাহিকে অনেকে ফিরতে চান না... হ্যাঁ, বিষয়টা ঠিক। এখানে সময় ও প্রস্তুতির প্রশ্ন থাকে। একটি ধারাবাহিকে যুক্ত হওয়া মানে দুই থেকে তিন বছর সময় দেওয়া। তাই এখনকার অনেক শিল্পী সময় ম্যানেজ করতে না পেরে নাটক, ধারাবাহিক নাটক কমিয়ে দেন। আমার ক্ষেত্রেও বিষয়টি কিছুটা এমন। এখন ধারাবাহিকে খুব বেশি সময় দিতে পারছি না। নতুন কোনো কাজে যুক্ত না হয়ে শুধু চলমান কাজগুলো করে যাচ্ছি। 

বাণিজ্যিক সিনেমা নিয়ে আপনার ভাবনা? 
আমি তো অনেক বছর ধরেই অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত। প্রত্যেক শিল্পীরই বড় প্রজেক্টে কাজ করার ইচ্ছা থাকে। আমারও আছে। পরিচালক-প্রযোজক যদি তাদের গল্পের জন্য আমাকে উপযুক্ত মনে করেন, তাহলে অবশ্যই কাজ করব। বিষয়টি মূলত তাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। আমি অভিনয় করতে চাই– এই চাওয়াটাই সবচেয়ে বড়। 

বিয়ের পর থেকে বিদেশে স্থায়ী হওয়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। সেটি কি কেবলই গুঞ্জন নাকি সত্যি হওয়ার সম্ভাবনা আছে?
এটা একেবারেই ভুল কথা। দেশের বাইরে স্থায়ী হওয়ার চিন্তা এখনও মাথায় আসেনি। বাংলাদেশ ছাড়া আমি কিছু চিন্তা করতে পারি না। আমার কাজ, দর্শক– সব এ দেশেই। আমার স্বামী সাইফ বাসুনিয়া অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন। তিনি দেশে আসেন, আমিও সেখানে যাই। আসা-যাওয়ার মধ্য দিয়েই সংসার ও কাজ– দুটোই সামলাতে হবে। সেটাই করে যাচ্ছি।

২০২৫ সাল কেমন গেল? 
এককথায় দারুণ গেছে। ২০২৫ সাল আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। মানুষের সব স্বপ্ন পূরণ হয় না, তবে আমি যা চেয়েছিলাম, তার বেশির ভাগই এই বছর বাস্তবায়িত হয়েছে। বিশেষ করে ডিসেম্বর মাস আমার জন্য বরাবরই সৌভাগ্যের। এ বছরের শেষে চার দিনের ব্যবধানে দুটি ওয়েব ফিল্ম মুক্তি পেয়েছে। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে ‘মহানগর ২’-এর জন্য পুরস্কার পেয়েছি। একই সময়ে বিয়েও করেছি। সব মিলিয়ে এই বছর ও ডিসেম্বর মাসটা আমার জন্য খুবই বিশেষ। 

আগামী বছরের প্রত্যাশা... 
২০২৫ ভালোভাবেই কেটেছে। ২০২৬ সাল নিয়ে আমার একটাই প্রত্যাশা– সবাই যেন সুস্থ থাকে। আর আমাদের দেশটা যেন আরও ভালো থাকে। এর থেকে প্রত্যাশার কিছু নেই।

আরও পড়ুন

×