ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চেনা ছকের বাইরে তৌসিফ, আগ্রহ এখন থ্রিলারে

চেনা ছকের বাইরে তৌসিফ, আগ্রহ এখন থ্রিলারে
×

তৌসিফ মাহবুব। ছবি: ফেসবুক

এমদাদুল হক মিলটন

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | ১৩:৩৪ | আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | ১৫:১০

সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া ও নিজস্বতার ছাপ রেখে টিকে থাকা সহজ নয়। অথচ সেই কঠিন পথটাকেই ধীরে, সচেতনভাবে এবং পরিকল্পিতভাবে হেঁটে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব। সম্প্রতি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাওয়া ‘চক্র ২’ সিরিজে ড. হুমায়ূন চরিত্রে অভিনয় করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন এই অভিনেতা।

এই চরিত্রটি তাঁকে দিয়েছে ভিন্ন এক পরিচয়, যা তাঁর অভিনয় ক্যারিয়ারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। দর্শকের প্রশংসা, আলোচনা এমনকি সমালোচনাও তিনি গ্রহণ করছেন গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে। কারণ, তাঁর কাছে প্রতিটি প্রতিক্রিয়াই তাঁর পরিশ্রমের স্বীকৃতি।

২০০৭ সালে ময়মনসিংহে এক পরিবারের ৯ জন ট্রেনের নিচে আত্মহত্যা করে। এই ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। কেন তারা এমনটা করেছিল, সেই রহস্যের পুরোটা এখনও অজানা। ওই ঘটনার সঙ্গে শেয়ার্ড হ্যালুসিনেশনের মতো ঘটনা মিশিয়ে ভিকি জাহেদ নির্মাণ করেন ‘চক্র’। এবার এসেছে ‘চক্র-২’।

সিরিজটি দেখে অনেক দর্শকই বলছেন তৌসিফ একজন বহুমাত্রিক অভিনয়শিল্পী। যিনি প্রতিটি কাজের মাধ্যমে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করতে চান।

তৌসিফ মাহবুব। ছবি: ফেসবুক

তবে এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ প্রস্তুতি ও ধৈর্যের গল্প। তৌসিফ কখনোই তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষে নন; বরং তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক সময়েই সঠিক কাজটি আসা উচিত। সেই কারণেই অন্যদের তুলনায় দেরিতে ওটিটিতে এলেও নিজের মানসিক প্রস্তুতি ও গল্পের মান নিয়ে কোনো আপস করেননি। 

তৌসিফ মাহবুব বলেন, ‘দর্শক সবসময় ভালো গল্পের কাজ দেখতে চায়। এটি বারবারই প্রমাণ হচ্ছে। চক্র-২ সিরিজটি দর্শক এত গ্রহণ করবে ভাবতেই পারিনি। ভক্ত শুভাকাঙ্ক্ষীরা কাজটি নিয়ে প্রশংসা  করেছেন। এ কৃতিত্ব আমার একার নয়, পুরো টিমই আন্তরিকতায় সিরিজটি সফল হয়েছে। আগামীতে এভাবে ভালো কিছু কাজ দিয়ে দর্শকদের হৃদয় জয় করতে চাই।’

চক্র-২ ছাড়াও গেল ঈদের মেজবাহউদ্দিন সুমনের ‘গোলাপী’, আশিকুর রহমানের ‘লিলিথ’, হাসিফ হোসাইন রাখির ‘প্রমাতাল’, ‘তুই থেকে তুমি’সহ আরও কিছু কাজ দর্শক পছন্দ করেছেন। 

‘অল টাইম দৌড়ের উপর’ নাটক দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও তৌসিফের কাজের বৈচিত্র্য তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। ‘ল্যান্ডফোনের দিনগুলোতে প্রেম’, ‘নাইন অ্যান্ড অ্যা হাফ,’ ‘খোয়াবনামা’, বিহাইন্ড দ্য সিন,’ ‘ফার্স্ট লাভ’, ‘এমন দিনে তারে বলা যায়’ কিংবা জনপ্রিয় ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’– প্রতিটি কাজেই তিনি নিজেকে ভেঙে নতুনভাবে গড়েছেন। এই ধারাবাহিকতা তাঁকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে, যেখানে দর্শকের প্রত্যাশা তাঁর প্রতি আরও বেড়ে গেছে।

ড. হুমায়ূন চরিত্রটি ছিল তার জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ। চরিত্রটির ভেতরে একাধিক স্তর রয়েছে। চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে তাঁকে করতে হয়েছে বিস্তর গবেষণা ও প্রস্তুতি। কোনো ‘এভিল’ সংলাপ ছাড়াই একটি অন্ধকার চরিত্রকে উপস্থাপন করা– এটি ছিল তাঁর অভিনয় দক্ষতার বড় পরীক্ষা। আর এই পরীক্ষায় তিনি সফল বলেই দর্শকের এত প্রশংসা।

তৌসিফের ব্যক্তিজীবনেও রয়েছে সহজসরল আনন্দের ছোঁয়া। পহেলা বৈশাখের মতো উৎসবেও তিনি কাজের ব্যস্ততার মধ্যেই খুঁজে নেন আনন্দের উপলক্ষ। শুটিং সেটেই সহকর্মীদের সঙ্গে পান্তা-ইলিশ খাওয়া, গান গাওয়া– এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই তাঁর কাছে বড় সুখের। আবার স্মৃতির ভাঁজে জমে আছে রমনার বটমূল, মেলা আর মুখোশ পরে নির্ভয়ে ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা– যা তাঁকে আজও আনন্দ দেয়।

বর্তমানে তিনি নাটকের কাজ কিছুটা কমিয়ে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন ওটিটি কনটেন্টে। কারণ, একটি চরিত্রকে সময় দিয়ে নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। ‘চক্র ২’-এর সাফল্যের পর বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকেও কাজের প্রস্তাব পাচ্ছেন, যা তাঁর জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।

তবে বড় পর্দা নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি একেবারেই আলাদা। সিনেমাকে তিনি দেখেন দায়িত্বের জায়গা হিসেবে। শুধু উপস্থিতি জানানোর জন্য নয়; বরং পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েই তিনি বড় পর্দায় আসতে চান। দর্শকের আস্থা অর্জনই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ– এবং সেই আস্থা ধরে রাখার জন্য তিনি আপসহীন।

তৌসিফ মাহবুব তাই কেবল একজন জনপ্রিয় মুখ নন; তিনি একজন সচেতন শিল্পী, যিনি নিজেকে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ করেন। সময় নিয়ে, বেছে বেছে কাজ করা এই অভিনেতার পথচলা প্রমাণ করে– গভীরতা আর সততা থাকলে সাফল্য আসবেই। আর সেই কারণেই, দর্শকের কাছে তিনি সত্যিই এক বহুমাত্রিক শিল্পী।

আরও পড়ুন

×